Home আঞ্চলিক দুবছরেও খোলা হয়নি ২০ লাখ টাকায় নির্মিত শৌচাগার

দুবছরেও খোলা হয়নি ২০ লাখ টাকায় নির্মিত শৌচাগার

9

রামপাল প্রতিনিধি।।
বাগেরহাটের রামপালে ২০ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত সাবরেজিস্ট্রার অফিসের পাবলিক টয়লেট দুই বছরেও খোলা হয়নি। ফলে সেবা নিতে আসা সাধারণ মানুষের পড়তে হচ্ছে চরম বিড়ম্বনায়।

২০ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত দুই কক্ষ বিশিষ্ট এই পাবলিক টয়লেটে কি ধরনের বৈশিষ্ট্য রয়েছে সেটিও তদন্তের দাবি জানিয়েছেন সচেতন মহল।

জানা যায়, স্থানীয় সরকার প্রকৌশলী অধিদপ্তর কর্তৃক রামপাল উপজেলা শহর (নন-মিউনিসিপ্যাল) মাস্টার প্ল্যান প্রণয়ন ও মৌলিক অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় রামপালে সাবরেজিস্ট্রার অফিসের জনসাধারণের জন্য একটি টয়লেট নির্মাণ করে উপজেলা এলজিইডি। ২০২৩-২৪ অর্থবছরে ১৯ লাখ ৯৯ হাজার ৪৬৬ টাকা ব্যয়ে সাবরেজিস্ট্রার অফিসের এই টয়লেটের ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান ছিলো বাগেরহাটের ডাংকবাংলা রোডের মিসেস আবু দাউদ।

নির্মাণকাজ শেষে ২০২৫ সালের প্রথম দিকেই টয়লেট বা শৌচাগারটি তৎকালীন রামপাল সাবরেজিস্ট্রার কর্মকর্তার নিকট হস্তান্তর করেন উপজেলা এলজিইডি। প্রায় দুই বছর অতিবাহিত হলেও গুরুত্বপূর্ণ এই পাবলিক টয়লেটটি জনসাধারণের জন্য কেন উন্মুক্ত করা হয়নি তা জানে না স্থানীয়রা।


সাবরেজিস্ট্রার অফিসে সেবা নিতে আসেন বিল্লাল শেখ, হালিমা খাতুন, রমজান আলী, সুব্রত মন্ডল, ফারুক হাসান, অনিমা বিশ্বাসসহ বেশ কয়েকজন।

তারা জানান, আমরা আসছি জমি বিক্রি ও ক্রয় করতে। টয়লেটে যাওয়ার সময় নেই। আর যাব কোথায়? এখানে তো কোনো টয়লেট নেই। আর যেখানে টয়লেট আছে সেখানে যাওয়ার কোনো রাস্তাঘাট নেই। কাদার মধ্যে দিয়ে আমাদের মতো বৃদ্ধ মানুষ কি ওখানে যাওয়া সম্ভব? আর অফিসের মধ্যে যাব, সেখানেও তালা দেওয়া থাকে।

দীর্ঘদিন সাবরেজিস্ট্রার অফিসের টয়লেট বা শৌচাগারটি বন্ধ থাকায় সেখানে ব্যবহার উপযোগী একটি টিউবওয়েলও হয়ে গেছে অকেজো। বিভিন্ন জায়গায় পলেস্তার খসে পড়ার উপক্রম হয়েছে। দরজা, জানালা মরিচা ধরে হয়ে যাচ্ছে নষ্ট। বিভিন্ন সময় যেখানে সেখানে মলমূত্র ও প্রস্রাব করছে বৃদ্ধরা। যার ফলে এলাকায় ছড়াচ্ছে দুর্গন্ধ এবং নষ্ট হচ্ছে পরিবেশ। এছাড়া বিশেষ করে চরম বিড়ম্বনায় পড়তে হচ্ছে নারীদের।

এ বিষয়ে দলিল লেখক সমিতির সাবেক সভাপতি এস এম জাহাঙ্গীর কবির জানান, সাবরেজিস্ট্রার অফিসে সেবা দিতে আসা জনসাধারণের জন্য একটি টয়লেট নির্মাণ করা হয়েছে। যা আগে ছিলো না। আমাদের জন্য উপকার হয়েছে কিন্তু সংযোগ সড়ক বা রাস্তা না থাকায় সেখানে যাওয়া যায় না। তবে এখন বৃষ্টি কমেছে এখন টয়লেটে যাওয়া যাবে।

রামপাল সাবরেজিস্ট্রার কর্মকর্তা সমির কর্মকার বলেন, বিষয়টি খুবই দুঃখজনক। আমার জানা ছিলো না। আপনার মাধ্যমে জানলাম। এখানে সেবা নিতে আসা জনসাধারণের এমন বিড়ম্বনা অজুহাতের কোনো সুযোগ নেই। আমি মাত্র কয়েকদিন হলো যোগদান করেছি, সবার সঙ্গে কথা বলে দ্রুত সময়ের মধ্যে সমাধানের চেষ্টা করব।