Home বিনোদন ফুলের বৃষ্টিতে সামান্থা, অনাগত সন্তানের জন্য করলেন প্রার্থনা

ফুলের বৃষ্টিতে সামান্থা, অনাগত সন্তানের জন্য করলেন প্রার্থনা

2

বিনোদন ডেস্ক।।

মা হতে চলেছেন ভারতের দক্ষিণী সিনেমার জনপ্রিয় অভিনেত্রী সামান্থা রুথ প্রভু। জীবনের এই বিশেষ সময়টিকে স্মরণীয় করে রাখতে অভিনেত্রীর জন্য আয়োজন করা হয়েছে এক ব্যতিক্রমী সাধভক্ষণ অনুষ্ঠান।

ফুলের বৃষ্টিতে হবু মাকে বরণ করে নেওয়ার পাশাপাশি ছিল নানা আধ্যাত্মিক আচার ও প্রার্থনা। সামান্থার এই বিশেষ আয়োজনের পরিকল্পনা করেন তার স্বামী ও পরিচালক রাজ নিধিমোরু।

কাছের বন্ধু ও পরিবারের সদস্যদের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত হয় অনুষ্ঠানটি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সেই আয়োজনের বেশ কিছু সুন্দর মুহূর্তও ভক্তদের সঙ্গে ভাগ করে নিয়েছেন সামান্থা। তবে এটি ছিল প্রচলিত অর্থে শুধু সাধভক্ষণ নয়। ‘কলা আবরণ’ নামের এই বিশেষ অনুষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত ছিল শ্রীবিদ্যার নানা আধ্যাত্মিক রীতি ও আচার।

সামান্থার ভাষ্য অনুযায়ী, দেবীর ৯৪টি কলাকে সম্মান জানাতেই এই আরাধনার আয়োজন। পবিত্র পানি, মন্ত্রোচ্চারণ ও বিশেষ পূজার মধ্য দিয়ে হবু মায়ের শরীরের সাতটি চক্রকে কেন্দ্র করে সম্পন্ন হয় বিভিন্ন আচার। পুরো আয়োজনেই ছিল আধ্যাত্মিক আবহ ও মাতৃত্বের মঙ্গলকামনা।

অনুষ্ঠানের যে বিষয়টি সবচেয়ে বেশি ছুঁয়ে গেছে সামান্থাকে, সেটি হলো হবু মাকে দেবীর আসনে বসানোর রীতি। এই আয়োজনে শুধু গর্ভের সন্তানের মঙ্গল কামনা করা হয় না, বরং যে নারী সন্তানকে পৃথিবীতে আনছেন, তার সুস্থতা ও মঙ্গলকেও সমান গুরুত্ব দেওয়া হয়।

এই বিশেষ আয়োজনের তাৎপর্য বুঝতে তাকে সাহায্য করেছেন তার পুরোহিত। নিজের ঐতিহ্য ও আধ্যাত্মিকতার প্রতি শ্রদ্ধার কথা জানিয়ে সামান্থা বলেন, ‘আমাদের ঐতিহ্যের প্রতি আমার বরাবরই গভীর শ্রদ্ধা রয়েছে। আমি হয়তো প্রতিটি নিয়মের পেছনের অর্থ বুঝতে পারি না, কিন্তু সবসময় বিশ্বাস করেছি, এর পেছনে আরও গভীর কিছু কাজ করে। মন্ত্রের ধ্বনি, ধ্যান থেকে সৃষ্ট শক্তি এবং প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে যত্নের সঙ্গে চলে আসা প্রাচীন প্রথাগুলোর মধ্যে সেই গভীরতা রয়েছে।’

ফুলের বৃষ্টিতে বরণ করার পর সামান্থার অভিষেকও করা হয়। এরপর তাকে বসানো হয় শ্রীচক্র যন্ত্রের পবিত্র কেন্দ্রে। শ্রীচক্রের নয়টি আবরণকে বিভিন্ন শক্তির প্রতীক হিসেবে বিবেচনা করা হয়। মন্ত্রোচ্চারণের মধ্য দিয়ে পুরো আয়োজন সম্পন্ন করেন সামান্থা।

এই আচার সম্পর্কে অভিনেত্রী জানান, মন্ত্রোচ্চারণের মাধ্যমে ধীরে ধীরে তার মনকে বাইরের জগত থেকে নিজের ভেতরের কেন্দ্রের দিকে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন তিনি। একই সঙ্গে প্রার্থনা করা হয় মা ও অনাগত সন্তানের মঙ্গল কামনায়।