স্পোর্টস ডেস্ক ।।
ইর্যুগেন ক্লপের অধীনে জার্মানি জাতীয় দলের প্রথম স্কোয়াডে ডাক পেয়েছেন এফসি কোলনের তারকা ফরোয়ার্ড সাঈদ এল মালা। ২০ বছর বয়সী এই তরুণের সামনে এখন ২০১৯ সালের পর কোলনের প্রথম খেলোয়াড় হিসেবে জাতীয় দলের জার্সি গায়ে জড়ানোর সুযোগ।
জার্মান সংবাদমাধ্যম ‘বিল্ড’-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, কোচ ইর্যুগেন ক্লপের নতুন যুগে জার্মান ফুটবল ফেডারেশনের (ডিএফবি) পরিকল্পনার অংশ হতে যাচ্ছেন সাঈদ এল মালা। আসন্ন আন্তর্জাতিক ম্যাচগুলোর জন্য ২০ বছর বয়সী এই তুখোড় ফরোয়ার্ডকে দলে বেছে নেওয়া হয়েছে।
এর মাধ্যমে জোনাস হেক্টরের পর (২০১৯ সাল) কোলনের প্রথম খেলোয়াড় হিসেবে জার্মানির হয়ে মাঠে নামার অপেক্ষায় তিনি। মঙ্গলবার বিকেল পর্যন্ত ক্লাবে আনুষ্ঠানিক কোনো চিঠি না পৌঁছালেও, এল মালাকে ইতোমধ্যেই জানানো হয়েছে যে তিনি ক্লপের বর্ধিত স্কোয়াডের অন্তর্ভুক্ত।
এই সিদ্ধান্তটি নতুন নিয়োগ পাওয়া জাতীয় দল কোচের একটি সাহসী পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। শরতের ব্যস্ত সূচি মোকাবিলায় একটি বড় স্কোয়াড তৈরির অংশ হিসেবেই তাকে ডাকা হয়েছে।
২০২৬ বিশ্বকাপের আগে নিজের পূর্বসূরি জুলিয়ান নাগেলসম্যানের নেওয়া পথ থেকে সম্পূর্ণ সরে এসেছেন ক্লপ। ১০ মাস আগে নাগেলসম্যান প্রথমবারের মতো এল মালাকে জাতীয় দলে ডাকলেও শেষ পর্যন্ত লুক্সেমবার্গ ও স্লোভাকিয়ার বিপক্ষে ম্যাচে তাকে স্কোয়াডে রাখেননি। এমনকি বিশ্বকাপের চূড়ান্ত দল থেকেও তাকে বাদ দিয়েছিলেন তিনি, যা কোলন কর্তৃপক্ষের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি করেছিল। তবে ক্লপের অধীনে অবশেষে এই তরুণ ফরোয়ার্ডের সামনে আন্তর্জাতিক অভিষেকের পথ সুগম হলো।
উয়েফা নেশনস লিগের আসন্ন সূচিতে জার্মানিকে নেদারল্যান্ডস, গ্রিস এবং সার্বিয়ার মতো শক্তিশালী প্রতিপক্ষের মুখোমুখি হতে হবে।
মাত্র ১৬ মাস আগেও তৃতীয় বিভাগে ভিক্টোরিয়া কোলনের হয়ে খেলতেন এল মালা। সেখান থেকে জাতীয় দলে ডাক পাওয়া যেন তার রূপকথার উত্থানেরই নতুন এক অধ্যায়। গত মৌসুমে কোলনের হয়ে ১৩টি গোল করে দলটিকে অবনমন থেকে বাঁচিয়েছিলেন তিনি, যার ফলে ব্রাইটন, ব্রেন্টফোর্ড ও বরুশিয়া ডর্টমুন্ডের মতো বড় ক্লাবগুলো তাকে পেতে আগ্রহী ছিল। তবে তিনি কোলনেই থেকে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন এবং ২০৩১ সাল পর্যন্ত চুক্তি নবায়ন করেন।
ক্লাব কিংবদন্তি লুকাস পোডলস্কির ঐতিহাসিক ১০ নম্বর জার্সিটি এখন তার পিঠে। চলতি মৌসুমে হফেনহেইমের বিপক্ষে উদ্বোধনী ম্যাচেই গোল করে নিজের সামর্থ্যের প্রমাণ দিয়েছেন তিনি।
ঘরোয়া ফুটবলে তার এই দুর্দান্ত ফর্ম জাতীয় দলের নতুন কোচিং স্টাফদের ওপর যে গভীর প্রভাব ফেলেছে, তা এখন স্পষ্ট।










































