Home Lead সংসদ ভবনের কাছে ককরোচ পার্টি, উত্তপ্ত দিল্লি

সংসদ ভবনের কাছে ককরোচ পার্টি, উত্তপ্ত দিল্লি

18

খুলনাঞ্চল ডেস্ক।।

ভারতের রাজধানী দিল্লিতে ‘চলো সংসদ’ কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) সমর্থক ও পুলিশের মধ্যে ব্যাপক উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। পুলিশের বাধা, লাঠিচার্জ ও কাঁদানে গ্যাসের মধ্যেও বিক্ষোভকারীদের একটি অংশ সংসদ ভবনের কাছাকাছি পৌঁছে যায়।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যমগুলোর খবরে বলা হয়েছে, বিক্ষোভকারীরা সংসদ ভবনের দিকে অগ্রসর হলে নিরাপত্তার স্বার্থে সংসদের প্রধান ফটক সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়।


সোমবার (২০ জুলাই) ভারতের পার্লামেন্টের বর্ষাকালীন অধিবেশনের প্রথম দিনেই যন্তর-মন্তরে হাজারো শিক্ষার্থী, তরুণ ও আন্দোলনকারী জড়ো হয়ে ‘চলো সংসদ’ কর্মসূচিতে অংশ নেন। সংসদ ভবনের দিকে তাদের পদযাত্রা ঠেকাতে দিল্লি পুলিশ বিভিন্ন স্থানে ব্যারিকেড স্থাপন করে এবং বিপুলসংখ্যক নিরাপত্তা সদস্য মোতায়েন করে।

বিক্ষোভকারীরা সেন্ট্রাল দিল্লি থেকে মিছিল নিয়ে সংসদের দিকে এগোতে চাইলে পুলিশ তাদের বাধা দেয়। একপর্যায়ে কয়েকটি ব্যারিকেড অতিক্রমের চেষ্টা করলে উভয় পক্ষের মধ্যে ধস্তাধস্তি শুরু হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ লাঠিচার্জ ও কাঁদানে গ্যাস ব্যবহার করে।

এসব পদক্ষেপের পরও বিক্ষোভকারীদের একটি অংশ সংসদ ভবনের কাছাকাছি পৌঁছে যায়। এ সময় কয়েকজন আন্দোলনকারীকে আটক করে পুলিশ এবং তাদের বাসে করে অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া হয়।

সিজেপির নেতারা অভিযোগ করেন, শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া আন্দোলনকারীদের ওপর পুলিশ অপ্রয়োজনীয় বলপ্রয়োগ করেছে। তবে দিল্লি পুলিশ এ অভিযোগ অস্বীকার করে জানিয়েছে, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে প্রয়োজনীয় ও সীমিত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

ভারতীয় গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, সোমবারের কর্মসূচিতে প্রায় ২০ হাজার মানুষ অংশ নেন, যাদের বেশির ভাগই শিক্ষার্থী ও তরুণ।


এক বিবৃতিতে দিল্লি পুলিশ জানায়, পুরো পরিস্থিতি পেশাদারিত্বের সঙ্গে মোকাবিলা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গুজবে বিভ্রান্ত না হওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।

উল্লেখ্য, ভারতের প্রধান বিচারপতির একটি মন্তব্যকে কেন্দ্র করে গত মে মাসে অভিজিৎ দীপকে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি) প্রতিষ্ঠা করেন। অল্প সময়ের মধ্যেই সংগঠনটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করে এবং বিভিন্ন বিরোধী রাজনৈতিক নেতা, সমাজকর্মী ও শিল্পীদের সমর্থন লাভ করে।

এদিকে, গত শনিবার অনশনরত পরিবেশ ও শিক্ষা আন্দোলনকর্মী সোনম ওয়াংচুককে অসুস্থতার কারণে যন্তর-মন্তর থেকে হাসপাতালে নেওয়ার ঘটনার পর সোমবারের কর্মসূচি ঘিরে উত্তেজনা আরও বেড়ে যায়।