Home আন্তর্জাতিক ফুটবল উন্মাদনায় অফিস ফাঁকা, বিশ্ব অর্থনীতির ক্ষতি ১৭ বিলিয়ন ডলার

ফুটবল উন্মাদনায় অফিস ফাঁকা, বিশ্ব অর্থনীতির ক্ষতি ১৭ বিলিয়ন ডলার

4


আন্তর্জাতিক ডেস্ক।।

ফুটবল বিশ্বকাপ শুরু হলেই বিশ্বের কোটি কোটি মানুষের দৈনন্দিন রুটিনে আসে পরিবর্তন। কাজের ব্যস্ততার মাঝেও প্রিয় দলের খেলা দেখতে টেলিভিশন বা মোবাইলের পর্দায় চোখ রাখেন অসংখ্য মানুষ। ২০২৬ সালের ফিফা বিশ্বকাপও এর ব্যতিক্রম ছিল না। লিওনেল মেসি, নেইমার, কিলিয়ান এমবাপ্পে ও লামিনে ইয়ামালের মতো তারকাদের খেলা দেখতে বিশ্বজুড়ে দর্শকদের মধ্যে তৈরি হয়েছিল ব্যাপক আগ্রহ। তবে এই ফুটবল উন্মাদনার প্রভাব পড়েছে কর্মক্ষেত্র ও অর্থনীতিতেও।

মানবসম্পদ ও কর্মী ব্যবস্থাপনা সফটওয়্যার নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ইউকেজির এক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, বিশ্বকাপ চলাকালে কর্মীদের অনুপস্থিতি, দেরিতে কাজে যোগ দেওয়া এবং উৎপাদনশীলতা কমে যাওয়ার কারণে বিশ্ব অর্থনীতিতে প্রায় ১৭ বিলিয়ন ডলারের ক্ষতি হয়েছে।

এই ক্ষতির বড় অংশ বহন করতে হয়েছে বিশ্বকাপের অন্যতম আয়োজক যুক্তরাষ্ট্রকে। দেশটির অর্থনীতিতে উৎপাদনশীলতা কমে যাওয়ার কারণে ক্ষতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ১১.৭ বিলিয়ন ডলার। বাংলাদেশি মুদ্রায় যা প্রায় ১ লাখ ৪০ হাজার কোটি টাকার সমান।

যুক্তরাষ্ট্রের ম্যাচের পর অফিসে কমেছে উপস্থিতি

বিশ্বকাপ চলাকালে যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় দলের ম্যাচের দিনগুলোতে কর্মীদের অফিসে অনুপস্থিত থাকার প্রবণতা সবচেয়ে বেশি দেখা গেছে। কেউ ছুটি নিয়েছেন, কেউ দেরিতে অফিসে গেছেন, আবার কেউ নির্ধারিত সময়ের আগেই কর্মস্থল ছেড়েছেন। কর্মক্ষেত্র ব্যবস্থাপনা প্ল্যাটফর্ম এনভয়ের তথ্য বলছে, ৬ জুলাই শেষ ষোলোতে বেলজিয়ামের কাছে হেরে বিশ্বকাপ থেকে যুক্তরাষ্ট্র বিদায় নেওয়ার পরদিন দেশটির অফিসগুলোতে কর্মীদের উপস্থিতি উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যায়।

গত ৭ জুলাই মঙ্গলবার অফিসে কর্মীদের উপস্থিতি স্বাভাবিক দিনের তুলনায় ২৬ শতাংশ কম ছিল। এই হার যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় ক্রীড়া আয়োজন সুপার বোলের ফাইনালের পরদিনের অনুপস্থিতির তুলনায় প্রায় ১০ গুণ বেশি।

শুধু অফিসে উপস্থিতিই কমেনি, ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ডেও এর প্রভাব পড়ে। ওই দিন ক্লায়েন্ট মিটিং, চাকরির সাক্ষাৎকার এবং অন্যান্য ব্যবসায়িক বৈঠকের সংখ্যাও প্রায় ৩২ শতাংশ কমে যায়। পরিস্থিতির ব্যতিক্রমী মাত্রার কারণে এনভয় দিনটিকে ‘নকআউট টিউসডে’ নামে অভিহিত করেছে।

কর্মীদের জন্য ‘ওয়ার্ক ফ্রম হোম’

বিশ্বকাপের ম্যাচের দিনগুলোতে কর্মীদের অনুপস্থিতির পাশাপাশি আয়োজক শহরগুলোতে যানজটের আশঙ্কাও ছিল। এসব কারণে বেশ কিছু বড় প্রতিষ্ঠান কর্মীদের বাড়ি থেকে কাজ করার সুযোগ দেয় বা উৎসাহিত করে। জেপি মরগান চেস, গোল্ডম্যান স্যাক্স এবং এসঅ্যান্ডপির মতো বড় প্রতিষ্ঠানগুলো ম্যাচের দিনগুলোতে কর্মীদের কাজের ধরন ও সময়সূচিতে নমনীয়তা দেখায়। এতে কর্মীদের কাজের সঙ্গে খেলা দেখার সুযোগ তৈরি হয় এবং অফিসে অতিরিক্ত চাপ ও যানজটের সমস্যাও কিছুটা কমানো সম্ভব হয়।

ফাইনালের পর অফিসে অনুপস্থিতি কমার পূর্বাভাস

১৯ জুলাই নিউইয়র্ক-নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে আর্জেন্টিনা ও স্পেনের ফাইনাল অনুষ্ঠিত হয়। ফাইনালে যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় দল না থাকায় ম্যাচের পরদিন অফিসে কর্মীদের অনুপস্থিতি বড় ধরনের প্রভাব ফেলবে না বলে পূর্বাভাস দিয়েছিল এনভয়।

প্রতিষ্ঠানটির হিসাব অনুযায়ী, সাধারণ সোমবারের তুলনায় ২০ জুলাই অফিসে উপস্থিতি সর্বোচ্চ ১ দশমিক ৮৭ শতাংশ কমতে পারে। এই হার সুপার বোলের পরদিনের অফিস উপস্থিতির কাছাকাছি বলে মনে করা হয়।

বড় ইভেন্টে কাজের গতি কমা নতুন নয়

ব্লুমবার্গের এক বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, বড় কোনো ক্রীড়া বা সাংস্কৃতিক আয়োজনকে ঘিরে কর্মক্ষেত্রে উৎপাদনশীলতা কমে যাওয়ার ঘটনা নতুন নয়। অলিম্পিক গেমসের সময়ও বিভিন্ন দেশের অফিসে কর্মীদের উপস্থিতি ও কাজের গতি কমে যাওয়ার নজির রয়েছে।

এ ছাড়া ২০২৩ সালে ‘বার্বি’ ও ‘ওপেনহাইমার’ সিনেমা মুক্তির সময়ও বিনোদনজগতের বড় ঘটনা কর্মীদের দৈনন্দিন কাজের ওপর প্রভাব ফেলেছিল। তবে ২০২৬ সালের ফুটবল বিশ্বকাপের ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রে উৎপাদনশীলতার ক্ষতির পরিমাণ বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। বিশ্বকাপকে ঘিরে কর্মীদের অনুপস্থিতি, কাজের সময়সূচিতে পরিবর্তন এবং মনোযোগের ঘাটতি সব মিলিয়ে দেশটির অর্থনীতিতে বড় ধরনের প্রভাব পড়েছে বলে বিশ্লেষণগুলোতে উঠে এসেছে।

ফুটবল মাঠে বিশ্বকাপ যেমন কোটি কোটি মানুষের বিনোদনের উৎস, তেমনি কর্মক্ষেত্রে এর প্রভাবও যে কম নয় ২০২৬ সালের আসরের পরিসংখ্যান তারই একটি বড় উদাহরণ।