মিজানুর রহমান মিলটন।।
কিছু মানুষ পৃথিবীতে আসেন কেবল দায়িত্ব পালনের গণ্ডি পেরিয়ে মানুষের হৃদয়ে চিরস্থায়ী আসন পেতে। তারা কোনো নির্দিষ্ট পদের ফ্রেমে বন্দী থাকেন না, বরং তাদের পুরো অস্তিত্বটাই জড়িয়ে থাকে একটি অঞ্চলের লাখো মানুষের ভালোবাসা আর আবেগের চাদরে। রূপসা আর ভৈরব নদীর বুক চিরে যে মাটির সোঁদা গন্ধ মিশে আছে আমাদের খুলনার প্রতিটি ধূলিকণায়, সেই চেনা আঙিনায় আজ যেন এক আনন্দের মহোৎসব। আমাদের প্রাণের স্পন্দন, সংকটের শেষ আশ্রয়স্থল এবং মহান জাতীয় সংসদের মাননীয় হুইপ জনাব আলহাজ্ব রকিবুল ইসলাম বকুল মহোদয় যখন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ‘স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটি’-এর নবনিযুক্ত সদস্য হিসেবে মনোনীত হন, তখন সেটি কেবল একটি রাষ্ট্রীয় প্রজ্ঞাপন বা নিছক কোনো পদের প্রাপ্তি থাকে না; তা হয়ে ওঠে লাখো কর্মীর নির্ঘুম রাতের প্রার্থনা, ত্যাগ আর অন্তহীন ভালোবাসার এক পরম জয়।
নেতৃত্ব তো অনেকেই দেন, ক্ষমতার মসনদে বসে অনেকেই দূর থেকে হাত নাড়েন। কিন্তু বকুল ভাইয়ের মতো কজন পারেন প্রতিটি সাধারণ কর্মীর চোখের ভাষা পড়তে? কজন পারেন গভীর রাতেও কোনো এক অসহায় মানুষের পাশে এসে পরম মমতায় দাঁড়াতে? ক্ষমতার প্রখর রোদে দাঁড়িয়েও যিনি নিজের সবটুকু উজাড় করে ছায়ার মতো আগলে রাখেন তাঁর কর্মীদের, যাঁর একটি চেনা স্মিত হাসিতে দূর হয়ে যায় হাজারো ক্লান্তি-তিনিই তো আমাদের বকুল ভাই। রাজনীতি তাঁর কাছে কোনো ভোগের বস্তু কিংবা আত্মতুষ্টির মাধ্যম নয়, বরং এটি মানুষের কল্যাণে নিবেদিত এক পবিত্র ইবাদত।
আজ যখন তাঁর সাফল্যের মুকুটে আরও একটি গৌরবোজ্জ্বল ও দীপ্তিময় পালক যুক্ত হলো, তখন আমাদের চোখ আবেগের অশ্রুতে ভিজে ওঠে। আমরা খুব কাছ থেকে দেখেছি তাঁর ত্যাগ, তাঁর নির্ঘুম কর্মব্যস্ততা আর খুলনার মানুষের অধিকার আদায়ে তাঁর বলিষ্ঠ কণ্ঠস্বর। দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের প্রবেশদ্বার এই খুলনার প্রতিটি মানুষের সুখ-দুঃখকে যিনি নিজের করে নিয়েছেন, তাঁর এই রাষ্ট্রীয় মূল্যায়ন আসলে পুরো খুলনাবাসীর আত্মমর্যাদার এক অনন্য স্বীকৃতি। আমরা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, নতুন এই গুরুদায়িত্ব পাওয়ার পর দেশের আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা, জননিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সংসদীয় কার্যক্রমে তাঁর সততা, নিষ্ঠা ও দূরদর্শিতা এক অভূতপূর্ব ও গতিশীল অধ্যায়ের সূচনা করবে।
প্রিয় বকুল ভাই, আপনার এই অর্জনে আমরা কতটা আনন্দিত, কতটা গর্বিত আর কতটা উচ্ছ্বসিত, তা প্রকাশ করার মতো গভীরতা কোনো শব্দমালায় নেই। আপনি শুধু আমাদের রাজনৈতিক অভিভাবকই নন; আপনি আমাদের বিশ্বাসের শেষ সীমানা, আমাদের অহংকার আর বেঁচে থাকার প্রেরণা।
এই রূপসা আর ভৈরব পাড়ের প্রতিটি ধূলিকণা, প্রতিটি মেহনতি মানুষের অন্তর থেকে আজ আপনার জন্য ঝরে পড়ছে পরম করুণাময়ের দরবারে আকুল আকুতি। মহান আল্লাহ তাআলা আপনাকে সর্বদা সুস্থ রাখুন, দীর্ঘায়ু দান করুন এবং আপনার এই পথচলাকে আরও মায়াময় করে তুলুন। আপনার হাত ধরে আমাদের প্রিয় লাল-সবুজের বাংলাদেশ শান্তির এক নতুন ভোরে পদার্পণ করুক। জীবনের সব ঝড়-ঝাপটায় আপনার এই চলার পথে আমরা অতীতেও ছিলাম, বর্তমানেও আছি এবং আগামী দিনেও ছায়ার মতো পাশে থাকব-এ কোনো রাজনৈতিক স্লোগান নয়, এ আমাদের হৃদয়ের পবিত্র অঙ্গীকার।
আপনার জন্য অন্তহীন ভালোবাসা, গভীর শ্রদ্ধা আর হৃদয়ের সবটুকু মায়া জড়ানো লাল গোলাপ শুভেচ্ছা, আমাদের প্রিয় নেতা!
-লেখক: সম্পাদক ও প্রকাশক- দৈনিক খুলনাঞ্চল











































