স্টাফ রিপোর্টার।।
জাতীয় সংসদের মাননীয় হুইপ রকিবুল ইসলাম বকুলের কণ্ঠস্বর নকল (ভয়েস ক্লোন) করে ২৫তম বিসিএস-এর একজন পুলিশ সুপার পদমর্যাদার কর্মকর্তাকে জেলা পদায়ন ও বদলির প্রলোভন দেখিয়ে প্রতারণার চেষ্টার চাঞ্চল্যকর তথ্য ফাঁসের পর এবার ভিন্ন রূপ নিয়েছে অপরাধীরা। জালিয়াতির অপরাধ স্বীকার করে মুচলেকা দিয়ে পার পাওয়ার পর, নিজের অপরাধ ঢাকতে ও সামাজিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন করতে দৈনিক খুলনাঞ্চল-এর সম্পাদক ও প্রকাশক মো. মিজানুর রহমান মিলটনকে নিয়ে কাল্পনিক ও মিথ্যা সংবাদ ছড়ানোর অভিযোগ উঠেছে মহানগর ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি মো. শরিফুল ইসলাম বাবুর বিরুদ্ধে। এআই (AI) প্রযুক্তির অপব্যবহার করে তৈরি করা এই ভিত্তিহীন ও মনগড়া পোস্টের বিরুদ্ধে এবার কঠোর আইনি পদক্ষেপ নিতে যাচ্ছেন দৈনিক খুলনাঞ্চলের সম্পাদক।

জানা গেছে, ঘটনার বিবরণী ও অপরাধীদের দেওয়া লিখিত মুচলেকা থেকে স্পষ্ট হয় যে, খুলনা মহানগরীর সোনাডাঙ্গা থানাধীন বানরগাতী (মেটোপোল) এলাকার বাসিন্দা ও মহানগর ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি মো. শরিফুল ইসলাম বাবু (৩৮) এবং খুলনা জেলার কয়রা থানাধীন লালুয়া এলাকার মো. হাবিবুর রহমান (৩২) পরস্পর যোগসাজশে এই জালিয়াতির ফাঁদ পাতেন। তারা দুজনে মাননীয় হুইপ মহোদয়ের কণ্ঠ নকল করে জনৈক পুলিশ সুপারকে বদলির প্রলোভন দেখান এবং পরে সাক্ষীদের উপস্থিতিতে অপরাধ স্বীকার করে লিখিত মুচলেকা দেন।
এই চাঞ্চল্যকর জালিয়াতির খবর সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হওয়ার পর চরম বেকায়দায় পড়েন শরিফুল ইসলাম বাবু। নিজেকে বাঁচাতে ও মূল ঘটনা থেকে জনমানুষের দৃষ্টি অন্যদিকে ঘোরাতে তিনি দৈনিক খুলনাঞ্চল-এর সম্পাদক ও প্রকাশক এবং খুলনা সংবাদপত্র পরিষদের সাধারণ সম্পাদক মো. মিজানুর রহমান মিলটনকে জড়িয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কাল্পনিক তথ্য সম্বলিত একটি বানোয়াট সংবাদ পরিবেশন করেন। এআই (কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা) দিয়ে তৈরি করা ওই কুৎসিত প্রোপাগান্ডামূলক পোস্টটিতে চরম অসংলগ্ন ও মিথ্যা তথ্য উপস্থাপন করা হয়েছে।
এই নোংরা অপপ্রচারের ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন দৈনিক খুলনাঞ্চল সম্পাদক মো. মিজানুর রহমান মিলটন। তিনি বলেন, “একটি পত্রিকার সম্পাদক হিসেবে পেশাগত কারণে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা-মন্ত্রীদের সাথে ছবি থাকতেই পারে। কিন্তু সেই সকল স্বাভাবিক ছবি অপব্যবহার করে সাবেক ছাত্রদল সভাপতি শরিফুল ইসলাম বাবু তার ফেসবুকে মিথ্যা, বানোয়াট ও কাল্পনিক সংবাদ পরিবেশন করেছেন। আমাকে সামাজিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন ও মানহানি করতেই এই জঘন্য ষড়যন্ত্র করা হয়েছে।”
মিজানুর রহমান মিলটন আরও জানান, এই ধরনের সাইবার অপরাধ ও অপপ্রচারের বিরুদ্ধে আইনি জবাব দিতে তিনি প্রস্তুত। এই জঘন্য অপপ্রচারের বিরুদ্ধে তিনি আগামীকাল বুধবার বিজ্ঞ আদালতে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইনে (ICT Act) একটি মামলা দায়েরের চূড়ান্ত প্রস্তুতি নিয়েছেন। একই সাথে, শরিফুল ইসলাম বাবুর ওই চরম মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর পোস্টে যারা না বুঝে বা উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে নেতিবাচক মন্তব্য (কমেন্ট) করে অপপ্রচারে শরিক হয়েছেন, তাদেরকেও এই মামলায় আসামি করা হচ্ছে বলে তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন।
এলাকার সুধী সমাজ ও সংবাদকর্মীরা বলছেন, নিজেদের কণ্ঠ নকল ও তদবির বাণিজ্যের মতো গুরুতর অপরাধের দায় এড়াতে একজন স্বনামধন্য সম্পাদকের বিরুদ্ধে এআই প্রযুক্তির নোংরা ব্যবহার করে চরিত্রহননের এই অপচেষ্টা অত্যন্ত নিন্দনীয়। অপরাধীদের আড়াল করতে শরিফুল ইসলাম বাবু যে মরিয়া চেষ্টা চালাচ্ছেন, আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তার মুখোশ উন্মোচিত হবে বলেই প্রত্যাশা খুলনাবাসীর।










































