স্পোর্টস ডেস্ক।।
বুধবারের (১৫ জুলাই) হাইভোল্টেজ সেমিফাইনালের আগে লিওনেল মেসির সাথে ব্যক্তিগত লড়াইয়ের তুলনায় দলীয় লড়াইকেই বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন ইংল্যান্ড অধিনায়ক হ্যারি কেন। আর্জেন্টাইন মহাতারকার সাথে সরাসরি কোনো দ্বৈরথের আলোচনায় পা দিতে তিনি নারাজ।
দীর্ঘ ২১ বছর পর প্রথমবারের মতো কোনো আন্তর্জাতিক ম্যাচে মুখোমুখি হচ্ছে দুই ফুটবল পরাশক্তি ইংল্যান্ড ও বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা। আটলান্টায় এই ‘থ্রি লায়ন্স’ বনাম ‘আলবিসেলেস্তে’দের মহারণ অনুষ্ঠিত হবে।
কেবল সময়ের দীর্ঘ ব্যবধানই নয়, এই ম্যাচের আরও বড় মাহাত্ম্য হলো, নিজের বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ারে এই প্রথম ইংল্যান্ডের মুখোমুখি হতে যাচ্ছেন ৩৯ বছর বয়সী লিওনেল মেসি। তাছাড়া গোল্ডেন বুটের দৌড়ে মেসি ও হ্যারি কেন, উভয়ই থাকায় ম্যাচের ফলাফল নির্ধারণে এই দুই গোলমেশিন বড় ভূমিকা রাখতে চাইবেন।
লিওনেল মেসি ক্যারিয়ারের সায়াহ্নে থাকলেও এবারের বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার জন্য তিনি কতটা অপরিহার্য, তা মাঠের পারফরম্যান্সেই স্পষ্ট। চলতি আসরে ৮টি গোল এবং ২টি অ্যাসিস্ট করেছেন মেসি।
আর্জেন্টিনার বিশ্বকাপ অভিযান অনেক সময় নড়বড়ে মনে হলেও প্রতিবারই কঠিন পরিস্থিতি থেকে দলকে উদ্ধার করে সামনে এগিয়ে নিয়েছেন এই মহাতারকা।
এটা এখন আর কোনো গোপন বিষয় নয় যে, ইংল্যান্ড কোচ টমাস টুখেল তার প্রস্তুতির বড় একটি অংশ ব্যয় করছেন মেসিকে থামানোর ফর্মুলা খুঁজতে। তবে আর্জেন্টিনার অন্য খেলোয়াড়দেরও কোনোভাবেই অবহেলা করার সুযোগ নেই।
আইটিভি স্পোর্টসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে কেন বলেন, বুধবারের (১৫ জুলাই) সেমিফাইনালটি শুধু একজন মানুষের বিপক্ষে নয়, বরং পুরো আর্জেন্টিনা দলের বিপক্ষে।
হ্যারি কেন বলেন, ‘আমরা অবশ্য জানি সে কতটা উঁচু মানের খেলোয়াড় এবং ফুটবলে তার অবদান কী। সে দীর্ঘ সময় ধরে অবিশ্বাস্য রকমের ধারাবাহিক। কিন্তু দিনশেষে খেলাটা আর্জেন্টিনার বিপক্ষে, শুধু লিওনেল মেসির বিপক্ষে নয়।’
এবারের বিশ্বকাপে একটি পরিসংখ্যান সবাইকে বেশ অবাক করেছে, আর তা হলো ম্যাচ চলাকালীন মেসি বেশিরভাগ সময় মাঠজুড়ে হেঁটেই পার করেন। গোলপোস্টের সামনে মেসি যতটা বিধ্বংসী, মাঠের পরিসংখ্যানে দেখা যাচ্ছে তিনি ৬৩ শতাংশ সময় স্রেফ হেঁটে বেড়ান। এটিই বুঝিয়ে দেয় যে প্রতিপক্ষের জন্য তিনি কতটা রহস্যময় ও অনন্য এক হুমকি।
এই পরিসংখ্যান নিয়ে প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে হ্যারি কেন ব্যাখ্যা করেন, কেন এটি মেসি ও আর্জেন্টিনাকে আরও শক্তিশালী করে তোলে।
কেন বলেন, ‘মানুষ ভিন্ন ভিন্ন কৌশলে ফুটবল খেলে। অনেকে সব খেলোয়াড়কে এক পাল্লায় মাপতে চায় এবং বলে যে ফুটবল এভাবেই খেলা উচিত।’
হ্যারি কেন আরও যোগ করেন, ‘মানুষ তাদের নিজস্ব পরিস্থিতিতে সাফল্য পাওয়ার পথ খুঁজে নেয়। মেসির মতো করে আর কেউ কি এটা করতে পারে? একদমই না।’
‘তার পায়ে যখন বল থাকে, তিনি অবিশ্বাস্য রকমের কার্যকর। বিশেষ করে এই আর্জেন্টিনা দলে সবাই তাকে বিশ্বাস করে এবং সব কিছুই তাকে ঘিরে সাজানো হয়। তাদের দলের ভেতরের সেই বোঝাপড়া ও পারস্পরিক বিশ্বাস অনেক মজবুত।’
দীর্ঘদিন পর ইংল্যান্ড ও আর্জেন্টিনার মধ্যকার এই মেগা লড়াই আটলান্টা স্টেডিয়ামে এক অগ্নিগর্ভ আবহের সৃষ্টি করবে। আর্জেন্টিনার খেলোয়াড়রা আবেগ দিয়ে নিজেদের পারফরম্যান্সকে অন্য উচ্চতায় নিয়ে যায়। নকআউট পর্বের ম্যাচগুলোর পর প্রায়ই তাদের কান্নায় ভেঙে পড়তে দেখা গেছে। বিশেষ করে মিশরের বিপক্ষে ২-০ তে পিছিয়ে থেকেও শেষ পর্যন্ত ৩-২ এ জেতার পর তাদের সেই আবেগ ছিল দেখার মতো।
ইংল্যান্ডের জন্য এই ম্যাচের ঐতিহাসিক আবেগ সামলানোই হবে বড় চ্যালেঞ্জ। হ্যারি কেন জানিয়েছেন, তার দল বাইরের কোনো উত্তেজনায় কান না দিয়ে কেবল মাঠের খেলার দিকেই মনোযোগ দেবে।
কেন বলেন, ‘পুরোনো ইতিহাস নিয়ে আমরা খুব বেশি ভাবতে চাই না। ওসব খেলারই অংশ। একজন খেলোয়াড় হিসেবে আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি হলো, আমরা এমন এক শক্তিশালী দলের বিপক্ষে খেলছি যারা দারুণ কৌশলী এবং জানে কীভাবে ফাউল আদায় করতে হয় বা খেলার গতি ধীর করে দিতে হয়। ক্যারিয়ারে এমন অনেক বড় দলের বিপক্ষেই আমাদের লড়তে হয়।’










































