সৈয়দ রানা কবীর।।
খুলনায় সম্প্রতি ‘টাইগার টিম’ নামে একটি সন্ত্রাসী গোষ্ঠীকে ঘিরে বিভিন্ন এলাকায় আলোচনা ও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, মোটরসাইকেল শোডাউন, আধিপত্য বিস্তার এবং অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত একটি সংঘবদ্ধ চক্র সক্রিয় রয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তালিকায় এই বাহীনির নাম না থাকায় উদ্বেগ বাড়ছে সাধারণ মানুষের মধ্যে। খুলনার ৪ থানা এলাকায় এই বাহিনীর সদস্যদের দ্বারা কেএমপির দক্ষিণ জনে আলোচিত ১০ হত্যাকান্ডের ঘটনা ঘটেছে।
স্থানীয় কয়েকটি সুত্রের অভিযোগে জানাযায়, সম্প্রতি খুলনায় ‘ টাইগার টিম’ বাহীনি নামের একটি সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর দৌরাত্ম চরমপর্যায়ে পৌঁছে গেছে। প্রকাশ্যে চলে তাদের মটর বাইক শো-ডাউন।
স্থানীয় সূত্রে জানাযায়, যে এই গ্রুপের মূল হোতা কুখ্যাত সন্ত্রাসী জ্যামি। তিনি বয়রা রায়েরমহল বড় মসজিদ এলাকার বাসিন্দা। কয়েক বছর আগে দুর্বৃত্তরা তাকে গুলি করে। এতে একটি গুলি তার একটি পা বিদ্ধ হয়। গুলিবিদ্ধ অবস্থায় তিনি দেশ ত্যাগ করে। বিদেশে বসেই নিয়ন্ত্রণ করেন তার সন্ত্রাসী বাহিনী।
সূত্র বলছে, খুলনা দৌলতপুর মহেশ্বরপাশা এলাকার কুখ্যাত সন্ত্রাসী ও চরমপন্থী নেতা হুমায়ুন কবির হুমা তার সন্ত্রাসী কার্যকলাপের একান্ত সহযোগী। জ্যামির হুকুমেই চলে হুমাসহ খুলনার ৪ টি থানার সকল সন্ত্রাসী কার্যক্রম।
অভিযোগ রয়েছে, এই টাইগার টিমের সদস্যদের হাতে খুন হন জাহিদ, বয়রা রায়েলমহলের রাজা মার্ডার, যুবলীগ নেতা ও সাবেক ইউপি সদস্য আরিফ হত্যা আলোচিত যুবদল নেতা মাহবুব, ঘের ব্যাবসায়ি আলামিন, শুভ, আলোচিত যুবদল নেতা রাসু, দীলিপ মাস্টার, আফিলগেটের সোহেল।
খুলনার আলোচিত সাবেক যুবদল নেতা মাহাবুব হত্যাকান্ডের এক বছর পার হলেও প্রকৃত হত্যাকারী ও হত্যার মুল নির্দেশদাতা এবং অর্থদাতাদের এখনো গ্রেপ্তার করতে পারেনি আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
একটি সুত্র জানায়, সম্প্রতি র্যাব ৬ এর অভিযানে এ বাহিনীর একাধিক সদস্য মোল্লা ইমন, বিল্লাহ ওরফে বিল্লু, ইমন ওরফে গজাল ইমন গ্রেপ্তার হলেও তাদেরকে অন্য বাহিনীর সদস্য বলে পরিচয় দেওয়া হয়েছে কিন্তুতারা “টাইগার টিম” জ্যামির সদস্য।
এতোসব অপরাধে সম্পৃক্ত থাকলেও খুলনায় শীর্ষ সন্ত্রাসীদের তালিকা প্রকাশ করলেও দেখা মেলেনি এই কুখ্যাত সন্ত্রাসী বাহিনী টাইগার টিম ও জ্যামির কথা। পুলিশ ও গোয়েন্দা সংস্থায় নেই তাদের কোন নাম। কিন্তু স্থানীয় সাধারণ জনগণের মুখে শোনা যাচ্ছে এই বাহিনীর আতঙ্কের কথা। সম্প্রতি খুলনায় ৯ টি শীর্ষ সন্ত্রাসীর নাম ও ছবি উল্লেখ্য করে একাধিক রিপোর্ট করা হলেও সেখানে ও নেই এই শীর্ষ সন্ত্রাসী জ্যামি ও তার বাহিনী ‘টাইগার টিম’ এর নাম।
খুলনা নাগরিক সংগঠনের নেতা এড. বাবুল হাওলাদার অভিযোগ করে বলেন, আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর শহরে নাশকতা মাদক সিন্ডিকেট এ নিয়ন্ত্রণ ও আধিপত্য বিস্তার কে কেন্দ্র করে বেশ সক্রিয় হয়ে উঠে কয়েকটি সন্ত্রাসী বাহিনীর সদস্যরা। তাদের মধ্যে এই বাহিনীর সদস্যদের দ্বারা খুলনার উল্লেখ্য যোগ্য কিছু হত্যাকান্ডের সাথে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে। তবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর খাতায় তাদের নাম না থাকায় তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করেন।
তিনি বলেন ,খুলনার গোয়েন্দারা সম্পুর্ন ব্যর্থতার পরিচয় দিচ্ছে। স্থানীয় সাধারণ মানুষের অভিযোগকে তিনি অতি গুরুত্ব দিয়ে এখনি গোয়েন্দা সংস্হার সঠিক তদন্তের মাধ্যমে আসল রহস্য বের করে জনসম্মুখে প্রচার করার দাবি জানান।
কেএমপি কমিশনার জাহিদুল হাসান বলেন, তাদের নিকট এই নামের কোন বাহিনীর তথ্য নেই। তারপরও আরো নিবিড় ভাবে তদন্ত করে দেখা হবে। গোয়েন্দা সংস্হার সক্রিয় সদস্যদের দিয়ে সঠিক তথ্য বের করা হবে। হুমা বাহীনির তথ্য রয়েছে কিন্তু সে এই জ্যামির সদস্য কিনা তা বের করা হবে।
খুলনার উল্লেখযোগ্য হত্যাকান্ডে জড়িত অনেককে ইতিমধ্যে গ্রেপ্তার করে জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন। তিনি বলেন, খুলনার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে কাজ করা হচ্ছে।










































