Home Lead বিএনপিনেতা ফরিদ মোল্লাকে সরাতে গভীর চক্রান্ত: পুলিশ ও প্রশাসনের ভুয়া তথ্যে সাজানো...

বিএনপিনেতা ফরিদ মোল্লাকে সরাতে গভীর চক্রান্ত: পুলিশ ও প্রশাসনের ভুয়া তথ্যে সাজানো ব্লু-প্রিন্ট ফাঁস

1285


স্টাফ রিপোর্টার।।


খুলনা মহানগরীর ব্যবসায়ী ও রাজনৈতিক অঙ্গনে তীব্র তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। খুলনা সদর থানা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও বিশিষ্ট ব্যবসায়ী মোল্লা ফরিদ আহমেদকে (৬৩) রাজনৈতিকভাবে নিষ্ক্রিয় এবং ব্যবসায়িক সাম্রাজ্য ধ্বংস করতে এক নজিরবিহীন ব্লু-প্রিন্ট বা গভীর ষড়যন্ত্রের জাল বোনার অভিযোগ উঠেছে।

প্রশাসন ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে সম্পূর্ণ ভুয়া তথ্য দিয়ে বিভ্রান্ত করে এই নেতার বিরুদ্ধে অবাস্তব পুলিশি ডায়েরি (জিডি) তৈরি এবং পরবর্তীতে বিতর্কিত ১৯৭৪ সালের বিশেষ ক্ষমতা আইনে অন্তরীণ (ডিটেনশন) রাখার আদেশ জারি করানো হয়েছে। তবে এই পুরো আইনি প্রক্রিয়াকে সম্পূর্ণ ‘সাজানো ও জালিয়াতি’ বলে আখ্যা দিয়েছেন খোদ খুলনা বড় বাজারের সনাতন ধর্মাবলম্বী (হিন্দু) সম্প্রদায় এবং ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দ। ভুক্তভোগীদের লিখিত জবানবন্দি এবং দাপ্তরিক নথিপত্র ঘেঁটে এই চরম সত্য ও বিস্ফোরক তথ্য উন্মোচিত হয়েছে।


ভিত্তিহীন প্রতিবেদনের ওপর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আদেশ: অনুসন্ধানে প্রাপ্ত নথির তথ্যানুযায়ী, গত ৩ সেপ্টেম্বর ২০২৫ খ্রিঃ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের রাজনৈতিক শাখা-২ থেকে একটি প্রজ্ঞাপন জারি করা হয় (স্মারক নম্বর- ৪৪.০০.০০০০.০৭৫.১০.০০৬.২০২৫-৭৬৪)। সিনিয়র সহকারী সচিব মোঃ আবদুল হাই স্বাক্ষরিত উক্ত আদেশে মোল্লা ফরিদ আহমেদকে ১৯৭৪ সালের কালো আইন খ্যাত বিশেষ ক্ষমতা আইনের ৩(১) ধারায় ৬০ দিনের জন্য খুলনা কেন্দ্রীয় কারাগারে অন্তরীণ (ডিটেনশন) রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়।


অত্যন্ত আশ্চর্যের বিষয় হলো, এই আদেশের মূল ভিত্তি ছিল খুলনা মেট্রো পুলিশের (কেএমপি) কিছু কর্মকর্তার তৈরি করা কথিত ‘গোপন ও সাজানো প্রতিবেদন’। তথ্যানুসন্ধানে দেখা যায়, সোনাডাঙ্গা মডেল থানার তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ শফিকুল ইসলাম গত ১১ আগস্ট ২০২৫ তারিখে একটি বিশেষ ডায়েরি নোট (জিডি নং-৭৯০) সংরক্ষণ করেন। সেখানে দাবি করা হয়- গত ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার ঐতিহাসিক অভ্যুত্থানের পর মোল্লা ফরিদ আহমেদ তার সন্ত্রাসী বাহিনী নিয়ে সোনাডাঙ্গা কাঁচা বাজার ও ট্রাক স্ট্যান্ডসহ বিভিন্ন সংখ্যালঘু হিন্দু ব্যবসায়ী সম্প্রদায়ের ওপর ত্রাস সৃষ্টি করে লাখ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করছেন এবং দেশত্যাগের হুমকি দিচ্ছেন। প্রায় একই ধরনের অবাস্তব গল্প সাজিয়ে খুলনা সদর থানাতেও একটি ডায়েরি নোট (জিডি নং-৪৯৯) অন্তর্ভুক্ত করা হয়।


ধোপে টেকেনি পুলিশের গল্প: পুলিশের এই ডায়েরি এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আদেশে হিন্দু সম্প্রদায়ের ওপর যে ভীতি প্রদর্শন ও দেশান্তরের হুমকির বানোয়াট গল্প ফাঁদা হয়েছিল, তা বোমার মতো বিস্ফোরিত হয়েছে খোদ ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী ও হিন্দু নেতাদের সত্য উচ্চারণে। পুলিশের এই সাজানো গল্পকে সম্পূর্ণ ‘মিথ্যা, জালিয়াতি এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ বলে লিখিতভাবে প্রত্যাখ্যান করেছেন বড় বাজারের শীর্ষ ব্যবসায়ীরা। খুলনা মহানগর বিএনপির মনিটরিং সেলের আহ্বায়ক বেগম রেহানা ঈসার কাছে পাঠানো পৃথক পৃথক পত্রে তারা এই জঘন্য চক্রান্তের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন।

মেসার্স মা-বাবা আশীর্বাদ-এর প্রোপ্রাইটর শ্রী রবিন চক্রবর্তী তার লিখিত বক্তব্যে জানান, “৫ আগস্টের পর বড় বাজারে কোনো ধরনের চাঁদাবাজির ঘটনা ঘটেনি। মোল্লা ফরিদ আহমেদ নামে কোনো ব্যক্তি এহেন জঘন্য কর্মকাণ্ডের সাথে দূরতম কোনো সম্পর্কেও যুক্ত নন। সংখ্যালঘু ব্যবসায়ীদের ভয়ভীতি দেখিয়ে ভারত তাড়িয়ে দেওয়ার যে কাল্পনিক হুমকির কথা পুলিশ লিখেছে, তা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্য হাসিলের প্ররোচনা মাত্র।”

মেসার্স লোকনাথ ভান্ডার-এর প্রোপ্রাইটর গোপাল ঘোষ ও আশীষ ঘোষ তাদের স্বাক্ষরিত পত্রে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “মোল্লা ফরিদ আহমেদ বড় বাজারের স্বনামধন্য ‘মা বস্ত্রালয়’ নামক নামকরা প্রতিষ্ঠানের মালিক এবং অত্যন্ত সুপ্রতিষ্ঠিত ও সজ্জন ব্যবসায়ী। কিছু অসাধু ব্যক্তি বা ব্যবসায়িক প্রতিদ্বন্দ্বী গোষ্ঠী রাজনৈতিক ও আর্থিক প্রতিহিংসার বশবর্তী হয়ে তার সামাজিক সুনাম ক্ষুণ্ন করতে এই নোংরা অভিযোগের নাটক সাজিয়েছে।” মেসার্স ঘোষ ট্রেডার্স-এর প্রোপ্রাইটর সজিত কুমার ঘোষ ও অমিত কুমার ঘোষ লিখিতভাবে প্রশাসনকে জানিয়েছেন, বাজারে দ্রব্যমূল্যের উর্ধ্বগতি একটি সামষ্টিক জাতীয় সমস্যা।

ফরিদ মোল্লা কখনোই বাজারে অস্থিরতা সৃষ্টির কোনো কর্মকাণ্ডে যুক্ত ছিলেন না, বরং তিনি বাজারের শৃঙ্খলা বজায় রাখতে সর্বদা ভূমিকা রেখেছেন। এছাড়া কেসিসি পাইকারী কাঁচা বাজার আড়ৎদার মালিক সমিতি, সোনাডাঙ্গা-এর সভাপতি আর মজনুরুল ইসলাম ও সাধারণ সম্পাদক মোঃ বায়েজিদ হোসেন যৌথ স্বাক্ষরে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, সোনাডাঙ্গা কাঁচা বাজারে মোল্লা ফরিদ আহমেদের নামে কোনো চাঁদাবাজির অস্তিত্বই নেই এবং তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ শতভাগ মিথ্যা। একইভাবে স্টেশন রোডের মেসার্স সৈয়দ ভান্ডার-এর অংশীদার সৈয়দ মোঃ জুলজালাল ও সৈয়দ শহিদুল ইসলাম এবং কদমতলা বড় বাজারের মেসার্স আরাফাত ট্রেডার্স-এর প্রোপ্রাইটর শেখ শফিকুল ইসলাম লিখিতভাবে এই পুলিশি ডায়েরির তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন।


রাজনৈতিক প্রতিহিংসার নোংরা খেলা: স্থানীয় সচেতন মহল বলছেন, রাজনৈতিক প্রতিপক্ষরা যখন মোল্লা ফরিদ আহমেদকে রাজপথে বা রাজনৈতিকভাবে মোকাবেলা করতে সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছে, তখন তারা কাপুরুষোচিতভাবে ব্যবসায়িক প্রতিদ্বন্দ্বিতাকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করেছে। রেলওয়ের জমি বা কোনো ভূতুড়ে স্থাপনা দখলের যে সাধারণ বানোয়াট অভিযোগ ডায়েরিতে আনা হয়েছিল, তার পক্ষে স্থানীয় রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ বা সাধারণ রেলওয়ে কলোনীবাসীর কেউই কোনো সত্যতা দিতে পারেনি। মূলত প্রশাসনকে একতরফা ভুল তথ্য দিয়ে একটি সাজানো ছক বাস্তবায়ন করাই ছিল এর মূল লক্ষ্য।


বিচার বিভাগীয় তদন্ত ও ডিটেনশন প্রত্যাহারের দাবি: খুলনার ব্যবসায়ী ও হিন্দু সম্প্রদায়ের নেতৃবৃন্দের এই প্রকাশ্য ও সচিত্র প্রত্যয়নের পর এটি দিবালোকের মতো স্পষ্ট যে, ৫ আগস্টের পর একটি কুচক্রী মহল আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কিছু অতি-উৎসাহী বা বিভ্রান্ত সদস্যকে ব্যবহার করে এই জঘন্য চক্রান্তের জাল বুনেছে। একজন ত্যাগী রাজনৈতিক নেতা ও প্রতিষ্ঠিত সৎ ব্যবসায়ীকে এভাবে আইনি মারপ্যাঁচে ফেলে হেনস্থা করার ঘটনায় খুলনার সাধারণ মানুষের মাঝে তীব্র ক্ষোভের সঞ্চার হয়েছে।

পুলিশ ও চক্রান্তকারীদের ষড়যন্ত্রের জবাবে বিএনপি নেতা ও ব্যবসায়ী মোল্লা ফরিদ আহমেদের বক্তব্য: “আমার দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবন এবং সততার সাথে পরিচালিত ব্যবসায়িক সুনামে আঘাত হানতে একটি চিহ্নিত কুচক্রী মহল এই জঘন্য চক্রান্তের জাল বুনেছে। ৫ আগস্টের পর থেকে আমি ও আমার দল যখন সাধারণ মানুষ ও হিন্দু সম্প্রদায়ের পাশে দাঁড়িয়েছি, ঠিক তখনই চক্রান্তকারীরা নিজেদের অপরাধ ঢাকতে পুলিশ ও প্রশাসনকে বিভ্রান্ত করে এই ভুয়া গল্প সাজিয়েছে।

আমাকে রাজনৈতিকভাবে নিষ্ক্রিয় করা এবং বড়বাজার ও সোনাডাঙ্গার প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়িক সাম্রাজ্য ধ্বংস করতেই প্রশাসনকে ভুল তথ্য দিয়ে ১৯৭৪ সালের কাল্পনিক বিশেষ ক্ষমতা আইনে আটক রাখার ব্যবস্থা করা হয়েছে। জিডিতে যে চাঁদাবাজি, সংখ্যালঘু নির্যাতন কিংবা রেলওয়ের জমি দখলের কথা বলা হয়েছে-তার সাথে আমার কোনো দূরতম সম্পর্কও নেই। যার সবচেয়ে বড় প্রমাণ-খোদ বড়বাজারের সনাতন ধর্মাবলম্বী ব্যবসায়ী ভাই ও ব্যবসায়ী সমিতিগুলো নিজেরাই লিখিত দিয়ে প্রমাণ করেছেন যে এসব অভিযোগ শতভাগ মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।

আমি স্পষ্ট বলতে চাই, কোনো সাজানো নাটক বা চক্রান্ত করে আমাকে খুলনা বিএনপি ও সাধারণ মানুষের সেবা করা থেকে দূরে রাখা যাবে না। মিথ্যার ওপর দাঁড়িয়ে কখনো সত্যকে চাপা দেওয়া যায় না। আমি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং সংশ্লিষ্ট উচ্চপর্যায়ের কর্তৃপক্ষের কাছে অনুরোধ জানাব-অনতিবিলম্বে এই সাজানো পুলিশি জালিয়াতির নিরপেক্ষ ও বিচার বিভাগীয় তদন্ত করা হোক এবং চক্রান্তকারী মাফিয়া চক্রকে চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনা হোক।”


ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দ এবং খুলনার সুশীল সমাজ খুলনা মহানগর বিএনপি, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং সংশ্লিষ্ট উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটির প্রতি জোর দাবি জানিয়েছেন- অনতিবিলম্বে এই সাজানো, বানোয়াট ও কাল্পনিক অভিযোগের একটি নিরপেক্ষ ও বিচার বিভাগীয় তদন্ত করা হোক। একই সাথে মোল্লা ফরিদ আহমেদের ওপর থেকে এই অন্যায় ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত আইনি খড়্গ (ডিটেনশন) প্রত্যাহার করে এর নেপথ্যে থাকা মূল কুচক্রী মাফিয়াদের মুখোশ উন্মোচন করে তাদের আইনের আওতায় আনা হোক।