শামিম শিকদার।।
দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের প্রবেশদ্বার ও শিল্পনগরী খুলনার আধুনিকায়ন, নাগরিক সেবা বৃদ্ধি এবং ঝিমিয়ে পড়া উন্নয়নমূলক কার্যক্রমকে গতিশীল করতে এক নতুন যুগের সূচনা হয়েছে। অঞ্চলের চার প্রধান ও গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ পদে দায়িত্ব পেয়েছেন খুলনার মাটি ও মানুষের নেতা হিসেবে পরিচিত চারজন হেভিওয়েট ব্যক্তিত্ব। খুলনা সিটি কর্পোরেশন (কেসিসি), খুলনা জেলা পরিষদ, খুলনা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (কেডিএ) এবং খুলনা ওয়াসা-র এই নতুন ও দক্ষ নেতৃত্বের হাত ধরে খুলনাবাসী এখন দেখছেন এক আধুনিক, পরিকল্পিত ও টেকসই নগরীর স্বপ্ন।
খুলনা সিটি কর্পোরেশন (কেসিসি) নাগরিক সেবার আধুনিকায়ন: ২০২৬ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি (রোববার) স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের এক প্রজ্ঞাপনে দেশের ৬টি সিটি কর্পোরেশনে নতুন প্রশাসক নিয়োগের অংশ হিসেবে খুলনা সিটি কর্পোরেশনের (কেসিসি) দায়িত্ব দেওয়া হয় খুলনা-২ আসনের সাবেক সফল সংসদ সদস্য নজরুল ইসলাম মঞ্জুকে। স্থানীয় সরকার (সিটি কর্পোরেশন) (সংশোধন) অধ্যাদেশের বিধি অনুযায়ী কর্পোরেশন গঠিত না হওয়া পর্যন্ত তিনি মেয়রের ক্ষমতা ও দায়িত্ব পালন করছেন। দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই তিনি নগরীর পরিচ্ছন্নতা, ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং জনভোগান্তি দূর করে নাগরিক সেবা নিশ্চিত করতে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন।

খুলনা জেলা পরিষদ: তৃণমূলের উন্নয়ন ও ক্ষমতায়ন: ২০২৬ সালের ১৫ মার্চ (রবিবার) সরকারের এক প্রজ্ঞাপনে দেশের ৪২টি জেলা পরিষদে নতুন প্রশাসক নিয়োগের মাধ্যমে খুলনা জেলা পরিষদের শীর্ষ দায়িত্ব পান বিশিষ্ট নেতা এস এম মনিরুল হাসান বাপ্পী। স্থানীয় সরকার ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী ও গতিশীল করার লক্ষ্যে এই গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দেওয়া হয় তাকে। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের পাশাপাশি বিভিন্ন সামাজিক ও জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডে ওতপ্রোতভাবে জড়িত বাপ্পী দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই জেলার গ্রামীণ অবকাঠামো, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতের উন্নয়নে বিশেষ রোডম্যাপ তৈরি করে কাজ শুরু করেছেন।
খুলনা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (কেডিএ): দৃষ্টিনন্দন ও পরিকল্পিত মেগা সিটি: ২০২৬ সালের ১৬ জুন (মঙ্গলবার) বেলা সাড়ে ১১ টায় আনুষ্ঠানিকভাবে খুলনা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (কেডিএ) চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন অভিজ্ঞ রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব অ্যাডভোকেট এস এম শফিকুল আলম মনা। দায়িত্ব গ্রহণের পর তিনি খুলনাকে একটি আধুনিক, পরিকল্পিত, পরিবেশবান্ধব ও দৃষ্টিনন্দন মডেল নগরী হিসেবে গড়ে তোলার সুদূরপ্রসারী প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। খুলনাকে সত্যিকার অর্থে বাসযোগ্য করতে এবং সকল মেগা প্রজেক্টের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে তিনি খুলনাবাসীর আন্তরিক সহযোগিতা ও মূল্যবান পরামর্শ নিয়ে এগিয়ে চলছেন।
খুলনা ওয়াসা: সুপেয় পানি ও উন্নত পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থা: সর্বশেষ ২০২৬ সালের ১৩ জুলাই (সোমবার) স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে খুলনা পানি সরবরাহ ও পয়ঃনিষ্কাশন কর্তৃপক্ষ (খুলনা ওয়াসা)-এর নতুন চেয়ারম্যান পদে ৩ বছর মেয়াদে নিয়োগ পেয়েছেন খুলনা সিটি কর্পোরেশনের সাবেক সফল মেয়র ও প্রবীণ বীর মুক্তিযোদ্ধা মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান। “পানি সরবরাহ ও পয়ঃনিষ্কাশন কর্তৃপক্ষ (সংশোধন) আইন, ২০২৬”অনুযায়ী জনস্বার্থে তাকে এই দায়িত্ব দেওয়া হয়। চারবারের কাউন্সিলর ও সাবেক এই মেয়রের দীর্ঘ জনপ্রতিনিধিত্বের অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে নগরীর সুপেয় পানি সংকট দূর ও টেকসই পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থা গড়ে তোলাই এখন তাঁর মূল লক্ষ্য।
জনগণের প্রত্যাশা ও পজিটিভ মূল্যায়ন: খুলনার এই চারটি স্তম্ভ সমতুল্য প্রতিষ্ঠানে অভিজ্ঞ, পরীক্ষিত এবং তৃণমূল থেকে উঠে আসা জনপ্রিয় নেতৃবৃন্দের আসীন হওয়াকে অত্যন্ত ইতিবাচক এবং সুসংবাদ হিসেবে দেখছেন স্থানীয় সচেতন নাগরিক, ব্যবসায়ী ও সামাজিক মহল। বিশ্লেষকদের মতে, এই চার প্রতিষ্ঠানের বর্তমান নেতৃত্বের পারস্পরিক সমন্বয় ও দূরদর্শী পরিকল্পনার মাধ্যমে খুলনার দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতা সমস্যা দূর হবে, অবকাঠামোগত উন্নয়ন বেগবান হবে এবং ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসার ঘটবে।
সব মিলিয়ে, এই নতুন রোডম্যাপের হাত ধরে খুলনা একটি আধুনিক, সমৃদ্ধ ও মডেল অঞ্চলে পরিণত হতে যাচ্ছেÑএমনই দৃঢ় প্রত্যাশা খুলনাবাসীর।











































