Home আঞ্চলিক খুলনার গাজিরহাটে ক্যাম্প পুলিশের নিস্ক্রিয়তায় বাড়ছে অপরাধ!

খুলনার গাজিরহাটে ক্যাম্প পুলিশের নিস্ক্রিয়তায় বাড়ছে অপরাধ!

49

ব্যর্থতার দায়ে আইসি-টুআইসি-ক্যাশিয়ারের অপসারণ দাবি

স্টাফ রিপোর্টার।।


খুলনার দিঘলিয়া উপজেলার গাজিরহাটে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির ব্যাপক অবনতি ঘটেছে। সাম্প্রতিক স্থানীয় ক্যাম্প পুলিশের নিস্ক্রিয়তায় ক্রমেই অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড বেড়ে চলেছে। অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড অনেকটাই নিয়ন্ত্রণহীন হয়ে পড়েছে। হত্যা, দিনে দুপুরে সন্ত্রাসীরা অত্যাধুনিক অস্ত্র হাতে নিয়ে বীরদর্পে গাজিরহাট বাজার প্রকাশ্যে মহড়া,চাদাঁবাজি,ছিনতাই, চুরি,ধর্ষণ,জমি দখল, মাদক ব্যবসার পাশাপাশি চলছে টার্গেট কিলিং প্রকাশ্যেই ঘটে চলেছে। নাজুক পরিস্থিতিতে খুলনার গাজিরহাটে একের পর এক অপরাধমূলক কর্মকান্ড ঘটেই চলেছে। পুলিশ জেনেও না জানার ভান করছে বলে অভিযোগ রয়েছে। কোন ঘটনা ঘটলে গাজিরহাট ক্যাম্প পুলিশকে খবর দিলেও তারা আমলে নেন না। এ নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে চরম হতাশা দেখা দিয়েছে। ফলে ব্যর্থতার দায়ে ক্যাম্পের আইসি-টুআইসি ও ক্যাশিয়ারের (কনস্টেবল) অপসারণ দাবি করেছেন স্থানীয়রা।


সরেজমিনে সাধারণ মানুষের সাথে কথা বলে জানা যায়, পুলিশের দুর্বলতায় আইন-শৃঙ্খলার চরম অবনতি ঘটেছে। গাজিরহাটে পুলিশের তৎপরতা না থাকাকে সুযোগ নিয়ে পথে-ঘাটে, পাড়া-মহল্লায় প্রতিনিয়ত ঘটে চলেছে এসব অপরাধ কর্মকাণ্ড। আতঙ্কে কৃষক, ভ্যান ড্রাইভার, ব্যবসায়ীসহ বিভিন্ন পেশাজীবী মানুষ অনেকেই ঘর থেকে বেরোতেও ভয় পাচ্ছেন। সন্ধ্যার পর গ্রামের অলিগলি ও রাস্তাঘাটে বিরাজ করছে সুনসান নীরবতা।


খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গত ৪ জুলাই সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় গাজিরহাট কেটলা রাস্তায় সমীর ভট্র (৪২) নামে এক চালককে গলা কেটে হত্যা করে ভ্যান লুট করে নিয়ে যায়। নিহতের স্ত্রী চন্দনা বাদী হয়ে দিঘলিয়া থানায় হত্যা মামলা দায়ের পর ১০দিন অতিবাহিত হলেও হত্যাকারীদের গ্রেফতার করতে ব্যর্থ হয়েছে ক্যাম ইনর্চাজ জামিল আহম্মদ। হত্যাকাণ্ডের কারণ
উদ্ঘাটনেও কোনো অগ্রগতি নেই। তাই মানুষের মধ্যে হতাশা ও ক্ষোভ বিরাজ করছে। হত্যাকারীরা প্রভাবশালী হওয়ায় মামলার বাদীসহ স্বজনেরা চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। পরের দিন (৫ জুলাই) একই গ্রাম কেটলা থেকে মনি তারাকে (৬৫) দু জন বাড়ি থেকে ডেকে অজ্ঞান করে মোটরসাইকেলে নিয়ে পদ্ববিলা গ্রামের ফাঁকা জায়গায় ফেলে দিয়ে ৮ আনা সোনার দুল নিয়ে যায়।অপরদিকে গাজিরহাট বিভিন্ন জায়গায় ক্যাম পুলিশের সখ্যতায় গড়ে উঠেছে মাদক কারবারীর ব্যবসা বলেও এলাকাবাসীর অভিযোগ রয়েছে।


সব মিলিয়ে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও নিরাপত্তা নিয়ে অসহায় গাজীরহাটের হিন্দু সম্প্রদায়ের সাধারণ মানুষ। আইন-শৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতার দায়ভার নিয়ে দিঘলিয়ার গাজিরহাট পুলিশ ক্যাম্প ইনর্চাজ আওয়ামী লীগ সরকারের আশীর্বাদপুষ্ট কর্মকর্তা জামিল আহমদ, ক্যাম্প (টু আইসি) আহম্মদ আলী ও বিভিন্ন মাদক পয়েন্ট থেকে টাকা আদায়কারী (কনস্টেবল) কমলেশ অপসারণেরও জোর দাবি উঠেছে। গাজিরহাট পুলিশ ক্যাম্প ইনর্চাজ জামিল আহমদের গ্রামের বাড়ি বাগেরহাটের মোল্লাহাট উপজেলায়। আওয়ামী লীগ সরকারের আশীর্বাদপুষ্ট কর্মকর্তা হওয়ার সুবাদে ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর জামিল আহমদের বাড়ি ভাংচুর করে এলাকাবাসী।

স্থানীয়দের অভিযোগ, বিএনপি সরকার রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব নেওয়ার ৫ মাস পার হলেও এখনও দেশে আইনশৃঙ্খলার দৃশ্যমান উন্নতি হয়নি। আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলো অপরাধ নিয়ন্ত্রণে পুরোপুরি ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছে। ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর বিভিন্ন থানা থেকে পুলিশ কর্মকর্তারা এসে কোন কাজই করতে চায় না। রুটিন ওয়ার্কের বাইরে পুলিশ কোনো কাজ করছে না বলে এলাকাবাসীর অভিযোগ।আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসী, তাদের অস্ত্র উদ্বার,দাগী অপরাধীদের গ্রেপ্তার করতে না পারার কারণে অপরাধের লাগাম টানা যাচ্ছে না। গাজীরহাটের আওয়ামী লীগের পলাতক (ঠান্ডু- হামিম) গ্রুপের নেতাকর্মীদের অনেকেই এখন আশ পাশে এসে আশ্রয় নিয়েছে। তাদের অনেকেই এখন নানা অপরাধে যুক্ত হয়েছে।


নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক গাজিরহাটের এক জনপ্রতিনিধি বলেন,গাজিরহাটে প্রতিনিয়ত চুরি, ছিনতাই, জমি দখল ও চাঁদাবাজির ঘটনা অহরহ ঘটছে। ক্যাম পুলিশকে খবর দিলে কোন প্রতিকার পাওয়া যায় না। এ কারনে এখন আর খবর দেওয়া হয় না। তিনি আরো বলেন আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীতে কর্মরতদের বেশির ভাগই আওয়ামী শাসনামলে নিয়োগপ্রাপ্ত। ছাত্র-জনতার জুলাই অভ্যুত্থানে দেশে পটপরিবর্তন হলেও তারা ঘাপটি মেরে থেকে নেপথ্যে ইন্ধন জোগাচ্ছে কিভাবে সরকারকে বেকায়দায় ফেলা যায়।


গাজিরহাট পুলিশ ক্যাম্প ইনর্চাজ জামিল আহমদকে ফোন দিলে সাংবাদিক পরিচয় পেলে মিটিং এর কথা বলে ফোন কেটে দেয়।
খুলনা জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম বলেন,গাজিরহাট পুলিশ ক্যাম্প ইনর্চাজ জামিল আহমদের তদন্ত করে ব্যবস্থা নিব। তার দায়িত্বে অবহেলা থাকলে তাকে বদলি করা হবে।