যশোর প্রতিনিধি।।
যশোর শহর থেকে মাত্র সাত কিলোমিটার দূরে সদর উপজেলার কাশিমপুর ইউনিয়নের বিজয়নগর গ্রাম। গ্রামের পশ্চিম পাশ দিয়ে সর্পিল গতিতে বয়ে গেছে ভৈরব নদ। নদ থেকে পাকা সড়ক ধরে সামান্য এগোলেই ভৈরবতীরে চোখ জুড়িয়ে যায় অতিকায় এক প্রাচীন নিমের শীতল ছায়ায়। প্রায় ১২ শতাংশ সরকারি জমির ওপর ডালপালা মেলে দাঁড়িয়ে আছে এই ঐতিহাসিক ‘শতবর্ষী নিমগাছ’, যা স্থানীয় ইতিহাস ও ঐতিহ্যের এক নীরব সাক্ষী।
বয়স নিয়ে নানান মতামত, বন বিভাগের স্বীকৃতি: এলাকাবাসীর মতে গাছটির বয়স কয়েক শতক। স্থানীয় ষাটোর্ধ্ব কৃষক মতিয়ার মোল্যা জানান, তাঁর ১০০ বছর বয়সে প্রয়াত বাবা ও দাদারাও ছোটবেলা থেকে এই গাছকে একই বিশাল আকৃতিতে দেখে এসেছেন। গত ৬ আগস্ট যশোর সামাজিক বন বিভাগের কর্মকর্তারা গাছটি পরিদর্শন করে একটি প্রতিবেদন তৈরি করেছেন।
যশোর সামাজিক বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা অমিতা মণ্ডল বলেন, “বিজয়নগরের শতবর্ষী নিমগাছটি আমরা পরিদর্শন করেছি। গাছটির উচ্চতা প্রায় ৬০ ফুট এবং বুকসমান উচ্চতায় কাণ্ডের বেড় ২০ ফুট। এর আনুমানিক বয়স প্রায় ৪০০ বছর।”
স্মারক বৃক্ষ ঘোষণা ও পর্যটন কেন্দ্রের দাবি: অতুলনীয় সামাজিক ও প্রথাগত গুরুত্ব বিবেচনা করে এই প্রাচীন গাছটিকে ‘স্মারক বৃক্ষ’ (গড়হঁসবহঃধষ ঞৎবব) হিসেবে ঘোষণার প্রক্রিয়া ইতোমধ্যে শুরু করেছে বন বিভাগ। স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, শতবর্ষী এই ঐতিহ্যবাহী নিমগাছটিকে সঠিকভাবে সংরক্ষণ ও রক্ষণাবেক্ষণের আওতায় এনে এখানে একটি সরকারি পর্যটনকেন্দ্র গড়ে তোলা হোক।
প্রকৃতির মহামূল্যবান সম্পদ: রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক এম মনজুর হোসেন নিমগাছকে ‘প্রকৃতির বিস্ময়’ হিসেবে অভিহিত করে জানান, নিম (ইংরেজি: গধৎমড়ংধ ঃৎবব, বৈজ্ঞানিক নাম: অুধফরৎধপযঃধ ওহফরপধ) বাস্তুতন্ত্রের ভারসাম্য ও পরিবেশদূষণ রোধে অত্যন্ত সক্রিয় ভূমিকা পালন করে। সঠিক পরিবেশ পেলে এ গাছ ৩০০ বছরেরও বেশি টিকে থাকতে পারে।
ভৈরবতীরের এই ৪০০ বছরের প্রাচীন নিমগাছটি কেবল একটি গাছ নয়, বরং পুরো অঞ্চলের পরিবেশ ও ইতিহাসের এক অনন্য সম্পদ হিসেবে আলো ছড়িয়ে যাচ্ছে।











































