খবর বিজ্ঞপ্তি।।
খুলনা মহানগরীর অন্যতম প্রধান ও অতি জনগুরুত্বপূর্ণ শিপইয়ার্ড সড়কটি দীর্ঘদিন ধরে সংস্কারহীন অবস্থায় পড়ে থাকায় সামান্য বৃষ্টিতেই কাদা-পানিতে একাকার হয়ে চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়েছে। বড় বড় গর্ত আর কাদার কারণে এই সড়ক দিয়ে প্রতিনিয়ত যাতায়াতকারী হাজার হাজার সাধারণ মানুষ ও যানবাহন চালকদের দুর্ভোগ এখন চরমে। জনমানুষের এই চরম ভোগান্তিতে ঘরে বসে না থেকে স্বশরীরে রাজপথে নেমে এসেছেন খুলনা মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও বিসিবির পরিচালক শফিকুল আলম তুহিন।

রবিবার (১২ জুলাই) বেলা সাড়ে ১১টায় মহানগর বিএনপির দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির উদ্যোগে দলীয় বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মীকে সাথে নিয়ে তিনি নিজেই কাদা-পানিতে নেমে পড়েন এবং নিজ হাতে ইট বিছিয়ে সড়কটি মেরামতের কাজ শুরু করেন। একজন শীর্ষ রাজনৈতিক নেতার এমন কাদা-পানিতে নেমে সড়ক সংস্কারের মানবিক দৃশ্য দেখে পথচারী ও স্থানীয় সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক প্রশংসার জোয়ার সৃষ্টি হয়েছে। তাঁর এই কর্মোদ্দীপনা দেখে মহানগর, থানা ও স্থানীয় ওয়ার্ড বিএনপি এবং অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের শত শত নেতাকর্মী পরম উৎসাহে কাদা-মাটি ও ময়লা পানির তোয়াক্কা না করে কাজে লেগে যান। তারা প্রত্যেকে নিজ দায়িত্বে ইট এনে বড় বড় গর্তগুলোতে বিছিয়ে দিতে থাকেন এবং চলাচলের জন্য একটি সাময়িক ও উপযুক্ত রাস্তা তৈরি করেন। ঘণ্টার পর ঘণ্টা ধরে চলা এই স্বেচ্ছাশ্রমের মাধ্যমে সড়কটির সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ অংশটি চলাচলের উপযোগী করে তোলা হয়।

সড়ক সংস্কারের কাজ শেষে উপস্থিত গণমাধ্যমকর্মী ও স্থানীয় জনগণের উদ্দেশ্যে এক আবেগঘন ও দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য দেন খুলনা মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শফিকুল আলম তুহিন। তিনি বলেন, শিপইয়ার্ড সড়কটি দিয়ে প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ চলাচল করেন। অথচ দীর্ঘদিন ধরে এই রাস্তাটি মরণফাঁদে পরিণত হয়ে আছে। এমন কাদার সৃষ্টি হয়েছে যে, গর্ভবতী নারী, অসুস্থ রোগী কিংবা কোমলমতি স্কুল-কলেজের ছাত্র-ছাত্রীদের যাতায়াত একেবারে অসম্ভব হয়ে পড়েছে। আমরা জনগণের দল করি। জনগণের এই চরম দুর্ভোগের দিনে বসে থাকতে পারি না। অমাদের নেতা রাষ্ট্রনায়ক তারেক রহমানের স্পষ্ট নির্দেশ রয়েছে-বিএনপির রাজনীতির মূল লক্ষ্যই হলো জনগণের সেবা করা। দলমত নির্বিশেষে সাধারণ মানুষের মুখে হাসি ফোটানো এবং তাদের সংকটে হাত বাড়িয়ে দেওয়া। আজ আমরা যে কাজটি করেছি, তা কোনো লোকদেখানো আয়োজন নয়, এটি আমাদের নৈতিক দায়িত্ব। যতদিন না এই সড়কের স্থায়ী সমাধান হচ্ছে, ততদিন মানুষের চলাচলের ন্যূনতম সুবিধাটুকু নিশ্চিত করতে আমাদের এই মানবিক উদ্যোগ ও শ্রম অব্যাহত থাকবে। দীর্ঘদিন ধরে ভোগান্তির শিকার স্থানীয় ব্যবসায়ী, রিকশাচালক ও সাধারণ পথচারীরা তাৎক্ষণিকভাবে রাস্তাটি চলাচলের উপযোগী হতে দেখে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেন।

রিকশাচালক ও পথচারীরা জানান, এই কাদার রাস্তায় প্রতিদিন রিকশা উল্টে যেত, সাধারণ মানুষ পিছলে পড়ে জামাকাপড় নষ্ট করত। মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শফিকুল আলম তুহিন নিজে কাদার মধ্যে দাঁড়িয়ে যেভাবে ইট বিছিয়ে রাস্তা ঠিক করে দিলেন, তা সত্যিই বিরল ও মানবিক। এ সময় উপস্থিত ছিলেন, সৈয়দা নার্গিদ আলী, কে.এম হুমায়ুন কবীর, মো. মজিবুর রহমান, আব্দুল আজিজ সুমন, আক্তারুজ্জামান সজীব তালুকদার, আবু দাউদ দ্বীন মোহাম্মাদ, এড. হালিমা আক্তার, রবিউল ইসলাম রুবেল, কাজী আব্দুল জলিল, শেখ আদনান ইসলাম , মো. নাসির উদ্দিন, গাজী আফসার উদ্দিন, সালাউদ্দিন মোল্লা বুলবুল, মো. আমিন আহমেদ, হেলাল ফারাজী, মেহেদী হাসান লিটন, বাবুল রানা, আসাদুজ্জামান আসাদ, জিয়াউর রহমান খান আপন, মোফাসসের হোসেন লেনিন, বজলুর রশীদ রুবেল, মোঃ নাদিম, মুজাহিদুল ইসলাম টনি, আহসান আল বাকের, সাব্বির হোসেন তুষার, ইয়াকুব, জাকির হোসেন, ইকবাল,সায়েম, মিজান, জাহাঙ্গীর ,রিপন, আঃ রহিম, নিশান, রানা, হানিফ, বাদল প্রমুখ।









































