খুলনাঞ্চল রিপোর্ট।।
দেশে প্রতিনিয়ত বেড়েই চলেছে নারী ও শিশু ধর্ষণ, ধর্ষণের পর খুন, শারীরিক-মানসিক নির্যাতন এবং দলবদ্ধভাবে হেনস্তা ও নিপীড়নের ঘটনা। পুলিশ সদর দপ্তরের সর্বশেষ মামলার পরিসংখ্যান অনুযায়ী, চলতি বছরের প্রথম পাঁচ মাসেই সারা দেশে নারী ও শিশু নির্যাতনের অভিযোগে মোট ৭ হাজার ৯১০টি মামলা দায়ের করা হয়েছে। একই সময়ে অন্যান্য অপরাধে মামলা হয়েছে আরও ১ লাখ hobby হাজার ৩১৯টি। পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, নারী ও শিশু নির্যাতনের ঘটনাগুলো প্রতি মাসেই জ্যামিতিক হারে বাড়ছে, যার মধ্যে জানুয়ারি মাসে ১ হাজার ২৮১টি, ফেব্রুয়ারিতে ১ হাজার ১৮১টি, মার্চে ১ হাজার ৪৮৫টি, এপ্রিলে ২ হাজার ১১টি এবং মে মাসে ১ হাজার ৯৫২টি মামলা রুজু হয়। এই পাঁচ মাসে শুধু ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) এলাকাতেই মামলা হয়েছে ৫১৭টি। রেঞ্জভিত্তিক তথ্য অনুযায়ী, জানুয়ারি মাসে ঢাকা রেঞ্জে ২৫২টি, ময়মনসিংহ রেঞ্জে ৬৯টি, চট্টগ্রাম রেঞ্জে ১৬৫টি, সিলেট রেঞ্জে ৪৬টি, খুলনা রেঞ্জে ১০৮টি, বরিশাল রেঞ্জে ১১৩টি, রাজশাহী রেঞ্জে ১৪২টি এবং রংপুর রেঞ্জে ১৬৭টি মামলা হয়। পরবর্তী মাসগুলোতেও এই ধারা অব্যাহত থাকে এবং মে মাসে এসে ঢাকা রেঞ্জে সর্বোচ্চ ৩৮৮টি, ময়মনসিংহে ১০৯টি, চট্টগ্রামে ২৫৪টি, সিলেটে ৭৪টি, খুলনায় ১৬৫টি, বরিশালে ২২৫টি, রাজশাহীতে ২০৫টি এবং রংপুর রেঞ্জে ২২০টি মামলা নথিভুক্ত হয়।
আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রতিবেদনেও এই চিত্রকে অত্যন্ত উদ্বেগজনক হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়েছে। জাতিসংঘের প্রজনন স্বাস্থ্য বিষয়ক গ্রুপের এক চাঞ্চল্যকর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশে শতকরা ৭০ জন নারী তাদের জীবনে কোনো না কোনো সময় শারীরিক, মানসিক কিংবা যৌন নির্যাতনসহ নানা ধরনের সহিংসতার শিকার হন। অন্যদিকে ফরাসি দাতব্য সংস্থা মেডসঁ সঁ ফ্রোঁতিয়ের (এমএসএফ)-এর এক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে আরও ভয়ানক তথ্য; তাদের দাবি অনুযায়ী, দেশে প্রতিদিন গড়ে ১৩ জন নারী ও শিশু ধর্ষণের শিকার হচ্ছে। নানা অজুহাতে শিশু-নারী ধর্ষণ ও হেনস্তা বর্তমানে নিত্যদিনের নিয়মে পরিণত হয়েছে, যা দেশের সার্বিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি, স্বাভাবিক জীবনযাপন এবং নারীদের সামগ্রিক অগ্রযাত্রার পথে প্রধান প্রতিবন্ধক হয়ে দাঁড়িয়েছে।
আইন ও বিচার নিশ্চিতে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দেশের প্রতিটি নাগরিকের সুরক্ষা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের সাংবিধানিক দায়িত্ব। নারী ও শিশু নির্যাতন দমন (সংশোধিত) আইন ২০১৩ অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালকে মামলা প্রাপ্তির ১৮০ দিনের মধ্যে বিচারকাজ শেষ করতে হবে। আইন অনুযায়ী, ট্রাইব্যুনাল যদি নির্দিষ্ট ১৮০ দিনের মধ্যে মামলা নিষ্পত্তি করতে ব্যর্থ হয়, তবে তার সুনির্দিষ্ট কারণ ব্যাখ্যা করে পরবর্তী ৩০ দিনের মধ্যে সুপ্রিম কোর্টে একটি প্রতিবেদন দাখিল করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। বিচারসংশ্লিষ্টরা মনে করেন, নারী ও শিশুদের ওপর সংঘটিত এই পাশবিক সহিংসতাসহ সকল ধরনের অপরাধের দ্রুততম সময়ে বিচার নিশ্চিত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি কার্যকর করা সম্ভব হলেই এই ধরনের জঘন্য অপরাধের গ্রাফ নামিয়ে আনা সম্ভব হবে।









































