Home বিনোদন মাত্র ১ মিলিয়ন ডলার বাজেটে ৩০০ মিলিয়ন আয়

মাত্র ১ মিলিয়ন ডলার বাজেটে ৩০০ মিলিয়ন আয়

0

বিনোদন ডেস্ক।।

মুক্তির পর থেকেই বিশ্বজুড়ে ঝড় তুলেছিল অল্প বাজেটের হরর ছবি ‘অবসেশন’। মুক্তির পর ছয় সপ্তাহ পেরিয়ে গেলেও সেই ঝড় অব্যাবহত আছে। বক্স অফিসে ভাঙছে একের পর এক রেকর্ড। ভ্যারাইটির প্রতিবেদনে জানা গেছে, বিশ্বজুড়ে সিনেমাটির আয় ৩০০ মিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে গেছে। সিনেমাটির বাজেট ছিল মাত্র ১ মিলিয়ন ডলার। অল্প বাজেটে নির্মিত সিনেমাটির এত আয় অনেকের কাছেই এসেছে বিস্ময় হয়ে। এ সাফল্যের মধ্য দিয়ে ছবিটি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ফোকাস ফিচারসের ইতিহাসে সর্বোচ্চ আয় করা চলচ্চিত্রের মর্যাদা পেয়েছে।

ছয় সপ্তাহেও অপ্রতিরোধ্য
বক্স অফিস বিশ্লেষকদের তথ্য অনুযায়ী, ষষ্ঠ সপ্তাহান্তে উত্তর আমেরিকায় আরও ১ কোটি ৪০ লাখ ডলার আয় করেছে ‘অবসেশন’। আন্তর্জাতিক বাজার থেকে এসেছে আরও ১ কোটি ৯ লাখ ডলার। সব মিলিয়ে ছবিটির উত্তর আমেরিকায় আয় দাঁড়িয়েছে ২১ কোটি ৫০ লাখ ডলার। আর বিশ্বব্যাপী আয় পৌঁছেছে ৩৩ কোটি ৩০ লাখ ডলারে। স্বল্প বাজেটের একটি স্বাধীন হরর ছবির জন্য এ সাফল্যকে অসাধারণ বলছেন বিশ্লেষকেরা।

নতুন রেকর্ড
ছবিটি এখন প্রযোজনা সংস্থা ফোকাস ফিচারসের ইতিহাসে সর্বোচ্চ আয় করা চলচ্চিত্র। শুধু তা-ই নয়, ২০২৬ সালের সবচেয়ে বেশি আয় করা হরর ছবির তকমাও এখন ‘অবসেশন’-এর দখলে।

আরও একটি বিরল রেকর্ড গড়েছে ছবিটি। ১৯৮২ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত ‘ই.টি. দ্য এক্সট্রা-টেরেস্ট্রিয়াল’-এর পর প্রথম চলচ্চিত্র হিসেবে ছুটির মৌসুমের বাইরে টানা কয়েক সপ্তাহ ধরে সপ্তাহান্তের আয় বৃদ্ধি পেয়েছে ‘অবসেশন’-এর।

ইউটিউব নির্মাতা থেকে হলিউড সেনসেশন
ছবিটির নির্মাতা ক্যারি বার্কার হলিউডের পরিচিত নাম ছিলেন না; বরং ইউটিউব ও স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র নির্মাণের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল তাঁর পরিচিতি। এর আগে তিনি ‘দ্য চেয়ার’ নামের একটি হরর শর্টফিল্ম এবং ‘মিল্ক অ্যান্ড সিরিয়াল’ নামের ফাউন্ড-ফুটেজ ছবি নির্মাণ করেছিলেন। এমনকি সেই ছবি তিনি ইউটিউবেই বিনা মূল্যে প্রকাশ করেছিলেন।

ক্যারি বার্কারের প্রথম বড় পরীক্ষা ছিল ২০২৪ সালের চলচ্চিত্র ‘মিল্ক অ্যান্ড সেরিয়াল’। শুনতে অবিশ্বাস্য লাগলেও ছবিটির বাজেট ছিল মাত্র ৮০০ ডলার। বন্ধুদের নিয়ে একটি সম্পূর্ণ চলচ্চিত্র বানিয়ে ফেলেন তিনি। ছবিটি সরাসরি ইউটিউবে প্রকাশ করেন। সিনেমাটি দ্রুত ভাইরাল হয়ে যায়। দর্শক বুঝতে পারেন, এই তরুণ নির্মাতার মধ্যে আলাদা কিছু আছে। সীমিত সম্পদ নিয়েও তিনি ভয় ও উত্তেজনার পরিবেশ তৈরি করতে পারেন। এ ছবিই ভবিষ্যতে বড় সাফল্যের ভিত্তি গড়ে দেয়।

২০২৫ সালে বার্কার নির্মাণ করেন তাঁর দ্বিতীয় চলচ্চিত্র ‘অবসেশন’। স্বল্প বাজেটের এই হরর চলচ্চিত্র প্রথম প্রদর্শিত হয় টরন্টো আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবের মিডনাইট ম্যাডনেস বিভাগে। দর্শক ও সমালোচকদের কাছ থেকে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া পায়। ছবিটির স্বত্ব কিনে নেয় ফোকাস ফিচারস। গত মে মাসে মুক্তির প্রথম দিনেই ছবিটি আয় করে প্রায় সাত মিলিয়ন ডলার। এরপর শুরু হয় মুখে মুখে প্রচারণা। ১৮ থেকে ৩৪ বছর বয়সী তরুণ দর্শকের মধ্যে ছবিটি ব্যাপক জনপ্রিয়তা পায়।
‘অবসেশন’ বার্কারের ক্যারিয়ারই বদলে দিয়েছে। এখন তাঁকে হলিউডের নতুন প্রজন্মের সবচেয়ে সম্ভাবনাময় হরর নির্মাতাদের একজন হিসেবে দেখা হচ্ছে।

কী আছে ছবির গল্পে
‘অবসেশন’-এর কেন্দ্রীয় চরিত্র বিয়ার, একটি মিউজিক স্টোরের একাকী কর্মচারী। বন্ধু নিকির প্রেমে পড়ে সে। কিন্তু বাস্তবে সেই ভালোবাসা পাওয়ার বদলে এক রহস্যময় অতিপ্রাকৃত খেলনার সাহায্যে নিকিকে নিজের প্রেমে পড়ানোর চেষ্টা করে।
প্রথমে সবকিছু স্বাভাবিক মনে হলেও ধীরে ধীরে পরিস্থিতি ভয়ংকর দিকে মোড় নেয়। নিকি নিজের ব্যক্তিত্ব হারাতে শুরু করে আর ভালোবাসার আকাঙ্ক্ষা পরিণত হয় এক ভয়াবহ দুঃস্বপ্নে।

ভালোবাসা, আসক্তি ও নিয়ন্ত্রণের বিপজ্জনক দিককে কেন্দ্র করে তৈরি এই মনস্তাত্ত্বিক হরর দর্শকের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

সামনে আসছে নতুন ছবি
‘অবসেশন’-এর পর কারি বার্কারের পরবর্তী ছবি ‘অ্যানিথিং বাট গোস্টস’-এর কাজও ইতিমধ্যে শেষ হয়েছে। ছবিটির চিত্রনাট্য, পরিচালনা ও অভিনয়—সবই করেছেন তিনি নিজে। হরর ঘরানায় তাঁর সাফল্য এখন অনেকের কাছেই নতুন প্রজন্মের নির্মাতাদের জন্য প্রেরণার উদাহরণ হয়ে উঠছে।