স্টাফ রিপোর্টার।।
খুলনা সিটি কর্পোরেশনের (কেসিসি) ৫ নম্বর ওয়ার্ডে ড্রেন পরিষ্কার ও পরিচ্ছন্নতা কাজে বড় ধরনের জালিয়াতি ও অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারের বিরুদ্ধে। প্রতিদিন কাগজে-কলমে ১৮ জন শ্রমিকের নাম দেখিয়ে কর্পোরেশন থেকে পুরো বিল তুলে নেওয়া হলেও, বাস্তবে মাঠে পাওয়া যাচ্ছে মাত্র ১৫ জন শ্রমিক। বাকি ৩ জন শ্রমিকের বিল প্রতিদিন সরাসরি চলে যাচ্ছে ঠিকাদারের পকেটে। শুধু তাই নয়, আসন্ন বর্ষা মৌসুমের আগে ড্রেন থেকে পেড়ি মাটি (বর্জ্য ও কাদা) উত্তোলন করার কথা থাকলেও ঠিকাদার তা সম্পূর্ণ বন্ধ রেখেছেন। ফলে আসন্ন বর্ষায় এই ওয়ার্ডের বিস্তীর্ণ এলাকায় ভয়াবহ জলাবদ্ধতার আশঙ্কা করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
কাগজে ১৮, বাস্তবে ১৫: দৈনিক অর্থ আত্মসাৎ: অনুসন্ধানে জানা গেছে, কেসিসি’র ৫ নম্বর ওয়ার্ডে ড্রেন পরিষ্কার ও বর্জ্য অপসারণের জন্য দৈনিক ১৮ জন শ্রমিক নিয়োজিত থাকার কথা এবং সেই অনুযায়ী ঠিকাদারকে প্রতিদিন ১৮ জনের হাজিরা বিল পরিশোধ করা হয়। তবে আজ রবিবার (৩১ মে ২০২৬) সরজমিনে খোঁজ নিয়ে দেখা গেছে এক ভিন্ন চিত্র।
আজ সকালে প্রথম শিফটের ডিউটিতে শ্রমিক হাজিরা ছিলেন মাত্র ১১ জন। আর রাতে দ্বিতীয় শিফটের ডিউটিতে পাওয়া গেছে মাত্র ৪ জন শ্রমিক। অর্থাৎ, দিন ও রাত মিলিয়ে দুই শিফটে মোট উপস্থিত শ্রমিকের সংখ্যা দাঁড়ায় মাত্র ১৫ জন (১১ + ৪ = ১৫)। ফলে প্রতিদিন ৩ জন করে শ্রমিকের ভুয়া হাজিরা দেখিয়ে অতিরিক্ত বিল পকেটে ভরছেন চতুর ঠিকাদার। মাসের পর মাস ধরে চলা এই ‘ভূতুড়ে’ হাজিরার মাধ্যমে কেসিসি’র বিপুল পরিমাণ টাকা আত্মসাৎ করা হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
বন্ধ পেড়ি মাটি উত্তোলন: ডুববে ৫ নম্বর ওয়ার্ড: সামনে আষাঢ় মাস, অর্থাৎ ভরা বর্ষা মৌসুম। প্রতি বছর এই সময়ে বৃষ্টির পানি দ্রুত নিষ্কাশনের জন্য ড্রেনগুলোর তলদেশে জমে থাকা শক্ত পেড়ি মাটি ও কাদা অপসারণের নিয়ম রয়েছে। চুক্তি অনুযায়ী ৫ নম্বর ওয়ার্ডের ড্রেনগুলো সচল রাখতে ঠিকাদারের প্রতিদিন ড্রেন শ্রমিক দিয়ে এই পেড়ি মাটি উত্তোলন করার কথা। কিন্তু নিয়মের তোয়াক্কা না করে ঠিকাদার এই গুরুত্বপূর্ণ কাজটি সম্পূর্ণ বন্ধ রেখেছেন।
স্থানীয় বাসিন্দারা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “এমনিতেই ড্রেন ঠিকমতো পরিষ্কার হয় না, তার ওপর শ্রমিক কম দিয়ে ঠিকাদার টাকা চুরি করছে। ড্রেনের তলার মাটি না তোলায় এখনই ড্রেনগুলো ভরাট হয়ে আছে। সামনে আর কয়েকদিন পর যখন তুমুল বৃষ্টি শুরু হবে, তখন এই ৫ নম্বর ওয়ার্ডের রাস্তাঘাট ও মানুষের বাড়িঘরে পানি উঠে একাকার হয়ে যাবে। এই জলাবদ্ধতার দায় তখন কে নেবে?”
নজরদারি নিয়ে প্রশ্ন: কর্পোরেশনের নিয়ম অনুযায়ী, প্রতিটি ওয়ার্ডে পরিচ্ছন্নতা কাজ ও ঠিকাদারের শ্রমিক হাজিরা তদারকি করার জন্য কেসিসি’র নির্দিষ্ট পরিদর্শক বা দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (কনজারভেন্সি ইন্সপেক্টর) থাকার কথা। কিন্তু তাদের চোখের সামনে কীভাবে প্রতিদিন ৩ জন করে শ্রমিক কম থাকার পরও ঠিকাদার ১৮ জনের পুরো বিল পেয়ে যাচ্ছেন, তা নিয়ে সচেতন মহলে তীব্র প্রশ্ন উঠেছে।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের অবহেলা নাকি ঠিকাদারের সাথে তাদের কোনো গোপন আঁতাত রয়েছে, তা খতিয়ে দেখার দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।










































