Home Lead সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার নাম থাকায় ঝিনাইদহের ৭টি সরকারি প্রতিষ্ঠান মৃতপ্রায়

সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার নাম থাকায় ঝিনাইদহের ৭টি সরকারি প্রতিষ্ঠান মৃতপ্রায়

11


ঢাকা অফিস।।

ঝিনাইদহে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার আমলে নির্মিত ও উদ্বোধনকৃত শত কোটি টাকার ৭টি গুরুত্বপূর্ণ সরকারি প্রতিষ্ঠান রাজনৈতিক প্রতিহিংসা ও অবহেলার শিকার হয়ে গত ২০ বছর ধরে মৃতপ্রায় অবস্থায় পড়ে আছে। ঝিনাইদহের ১৮ লাখ মানুষের প্রাণের দাবি প্রতিষ্ঠানগুলো দ্রুত চালু করার। বিএনপি’র অবদান ও ফলকে খালেদা জিয়ার নাম থাকার কারণে বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে এই আধুনিক ভবনগুলোতে পূর্ণাঙ্গ জনবল ও প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি সরবরাহ করা হয়নি, যার ফলে কোটি কোটি টাকার রাষ্ট্রীয় সম্পদ নষ্ট হচ্ছে এবং জনকল্যাণ ও শিক্ষা কার্যক্রম চরমভাবে ব্যাহত হচ্ছে।


অনুসন্ধানে জানা যায়, ১৯৯৩ ও ২০০১ সালের বিভিন্ন সময়ে এই মেগা প্রকল্পগুলো হাতে নেয়া হলেও বিগত সরকারের অদৃশ্য ‘রাজনৈতিক নিষেধাজ্ঞা’র কারণে এগুলো অচল হয়েই পড়ে আছে। এর মধ্যে প্রায় ৬ কোটি টাকা ব্যয়ের ‘ঝিনাইদহ সরকারি খাবার স্যালাইন ফ্যাক্টরি’ প্রকল্পটি দীর্ঘদিন ফেলে রেখে শেষ পর্যন্ত বাতিল করা হয়েছে এবং ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালের কোটি কোটি টাকার ‘করোনারি কেয়ার ইউনিট’ (সিসিইউ) প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি ও বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের অভাবে আজ পর্যন্ত আলোর মুখ দেখেনি।


২০০৫ সালে উদ্বোধন করা দেশের একমাত্র ২৫ শয্যাবিশিষ্ট সরকারি শিশু হাসপাতালটিতে আধুনিক চিকিৎসা সরঞ্জাম না থাকায় এটি শিশুদের কাঙ্ক্ষিত সেবা দিতে ব্যর্থ হচ্ছে। ঝিনাইদহ মেডিকেল এসিস্ট্যান্ট ট্রেনিং স্কুল (ম্যাটস)-এর চিত্র আরও ভয়াবহ, যেখানে অনুমোদিত ১০৪টি পদের সবক’টিই খালি এবং কোনো সরকারি বেতন-ভাতা ছাড়াই মাত্র দুইজন অতিথি শিক্ষক দিয়ে ১৫৬ জন শিক্ষার্থীর শিক্ষাকার্যক্রম চালানো হচ্ছে, এমনকি তীব্র সংকটের কারণে গত ২০২৫-২০২৬ শিক্ষাবর্ষে এখানে নতুন কোনো ছাত্র ভর্তি করা সম্ভব হয়নি।


একইভাবে ইনস্টিটিউট অব হেল্‌থ টেকনোলজি (আইএইচটি)তে গুরুত্বপূর্ণ ৮টি পদ খালি এবং ‘রেডিওলজি’ ও ‘রেডিও থেরাপি’ ল্যাবের কোনো যন্ত্রপাতি না থাকায় ব্যবহারিক শিক্ষা ব্যাহত হচ্ছে, যার রূপান্তর দেখা গেছে হরিণাকুণ্ডু ও আঞ্চলিক নার্সিং ইনস্টিটিউটেও। এছাড়া ৯ বিঘা জমির উপর নির্মিত খুলনা বিভাগের একমাত্র ‘মুক ও বধির আবাসিক স্কুল’টিতে ৯টি স্থায়ী পদের মধ্যে ৬টিই শূন্য থাকায় ধার করে ৩ জন শিক্ষক এবং নিয়মিত বেতন না পাওয়া আউটসোর্সিং কর্মচারীদের দিয়ে এটি কোনোমতে খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে চলছে।

ঝিনাইদহ জেলা পরিষদের প্রশাসক আব্দুল মজিদ বলেন, রাজনৈতিক সংকীর্ণতার কারণে এই রাষ্ট্রীয় সম্পদের অপচয়ের তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন, একই সঙ্গে তিনি আরও বলেন- বর্তমানে যেহেতু বিএনপি সরকার ক্ষমতায় আছে সেইহেতু আমরাই এ প্রতিষ্ঠানগুলো দ্রুত চালু করার ব্যবস্থা করবো। ঝিনাইদহের সিভিল সার্জন ডা. কামরুজ্জামান সোহেল জানান, বিগত সরকারের আমলে স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তর চালুর পর প্রশাসনিক জটিলতায় ম্যাটস ও আইএইচটি-সহ বিভিন্ন দপ্তর মুখ থুবড়ে পড়ে আছে। তার মধ্যে শিশু হাসপাতাল ও নার্সিং ইনস্টিটিউটগুলো সীমিত জনবল নিয়ে চলছে এবং স্যালাইন ফ্যাক্টরি ও সিসিইউ বন্ধ রয়েছে, বর্তমানে যেহেতু বিএনপি সরকার ক্ষমতায় রয়েছে সেহেতু দ্রুতই প্রতিষ্ঠানগুলো সফলতার মুখ দেখবে বলে আমি আশা করছি।