Home স্বাস্থ্য আপেলের বীজে কি সত্যিই লুকিয়ে আছে মৃত্যুর বিষ?

আপেলের বীজে কি সত্যিই লুকিয়ে আছে মৃত্যুর বিষ?

2

মিলি রহমান।।

রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ানো থেকে শুরু করে হৃদ্‌স্বাস্থ্য ভালো রাখা—সব দিক থেকেই আপেল উপকারী বলে মনে করেন পুষ্টিবিদরা।

আপেলে থাকা ফাইবার ও পানি ওজন নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে। এতে থাকা পলিফেনল রক্তচাপ কমাতে ভূমিকা রাখতে পারে। পাশাপাশি টাইপ–২ ডায়াবেটিসের ঝুঁকি কমানো এবং অন্ত্রের স্বাস্থ্য ভালো রাখার ক্ষেত্রেও আপেলকে উপকারী ফল হিসেবে ধরা হয়।

তবে এত উপকারিতার মাঝেও আপেল খাওয়া নিয়ে অনেকের মধ্যে এক ধরনের ভয় কাজ করে এর বীজ নিয়ে।

অনেকেই মনে করেন, ছোট্ট এই বীজগুলো হয়তো শরীরের জন্য মারাত্মক ক্ষতির কারণ হতে পারে। বিশেষ করে ‘বীজে বিষ আছে’—এই ধারণা ঘিরে নানা ধরনের গুজবও ছড়িয়ে আছে।

কিন্তু বাস্তবতা কি সত্যিই ততটা ভয়ংকর? আপেল খাওয়ার সময় অনেকে ভুল করে বীজ চিবিয়ে ফেলেন বা গিলে ফেলেন—এতে কি সত্যিই কোনও প্রাণঘাতী ঝুঁকি তৈরি হয়? নাকি এটি কেবলই অতিরঞ্জিত আশঙ্কা?

বিজ্ঞান ও চিকিৎসা বিশেষজ্ঞদের ব্যাখ্যায় উঠে এসেছে আপেলের বীজের আসল চিত্র।

আপেলের বীজ কি সত্যিই বিষাক্ত?

আপেলের বীজে থাকে অ্যামিগড্যালিন নামের একটি যৌগ। শরীরে গেলে এটি ভেঙে হাইড্রোজেন সায়ানাইড তৈরি করতে পারে, যা উচ্চ মাত্রায় বিষাক্ত।

তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, বাস্তব পরিস্থিতি এতটা সরল নয়। আপেলের বীজ সাধারণভাবে খেলে তাৎক্ষণিক কোনও ঝুঁকি থাকে না, কারণ শক্ত খোলস অক্ষত থাকলে ভেতরের উপাদান শরীরে সহজে মুক্ত হয় না।

ঝুঁকি তৈরি হয় তখনই, যখন বীজ চিবিয়ে বা গুঁড়ো করে খাওয়া হয়।

কতটা বীজ বিপজ্জনক?

শরীরে সায়ানাইডের একটি নির্দিষ্ট মাত্রা অতিক্রম করলে তা বিষক্রিয়া ঘটাতে পারে। তবে একটি বা কয়েকটি আপেলের বীজে সেই মাত্রা তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা নেই।

গবেষণা ও বিভিন্ন প্রতিবেদনের হিসাব অনুযায়ী, মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি হতে হলে বিপুল পরিমাণ—প্রায় ২০০টি বীজ চূর্ণ করে খেতে হতে পারে, যা বাস্তবে প্রায় অসম্ভব পরিস্থিতি।

একটি আপেলে সাধারণত ৫ থেকে ৮টি বীজ থাকে। অর্থাৎ স্বাভাবিকভাবে আপেল খাওয়ার সময় বীজে কামড় লেগে যাওয়া বা কয়েকটি বীজ গিলে ফেলা ক্ষতিকর নয়।

কী হতে পারে অতিরিক্ত গ্রহণে?

উচ্চমাত্রায় সায়ানাইড শরীরে প্রবেশ করলে শ্বাসকষ্ট, বমি, মাথা ঘোরা, খিঁচুনি এমনকি গুরুতর ক্ষেত্রে অজ্ঞান হয়ে যাওয়ার মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে।

সতর্কতা কী হওয়া উচিত?

বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ হলো, আপেল খাওয়ার সময় বীজ আলাদা করে ফেলাই সবচেয়ে নিরাপদ অভ্যাস—বিশেষ করে শিশুদের ক্ষেত্রে। একই ধরনের ঝুঁকিপূর্ণ যৌগ অ্যাপ্রিকট, চেরি, প্লাম ও পিচের বীজেও থাকতে পারে।

সব মিলিয়ে, আপেলের বীজ নিয়ে আতঙ্কের কিছু নেই। স্বাভাবিকভাবে আপেল খেলে তা নিরাপদ এবং উপকারীই থাকে—ভয়ের কারণ তৈরি হয় কেবল অস্বাভাবিকভাবে বিপুল পরিমাণ বীজ চূর্ণ করে গ্রহণ করলে।