Home খেলাধুলা মেঘলাকে প্রস্তুত রাখছেন জ্যোতি-নাহিদারা

মেঘলাকে প্রস্তুত রাখছেন জ্যোতি-নাহিদারা

0

স্পোর্টস ডেস্ক।।

বাংলাদেশ নারী ক্রিকেট দলে দীর্ঘদিন ধরেই স্পিন আক্রমণই মূল শক্তি। সেই স্পিন বিভাগে একাধিক কার্যকর বোলার থাকায় অনেক সময় পারফরম্যান্স ভালো করেও একাদশে জায়গা মেলে না সবার।

এমন বাস্তবতার মধ্যেই নিজেকে প্রস্তুত রাখছেন বাঁহাতি স্পিনার সানজিদা আক্তার মেঘলা। আর তাকে মানসিকভাবে প্রস্তুত রাখতে বড় ভূমিকা রাখছেন অধিনায়ক নিগার সুলতানা জ্যোতি ও সহ-অধিনায়ক নাহিদা আক্তার।

বাংলাদেশ নারী দলে বর্তমানে দুইজন বাঁহাতি স্পিনার নাহিদা আক্তার ও সানজিদা আক্তার মেঘলা। অভিজ্ঞতা ও ধারাবাহিক পারফরম্যান্সের কারণে নিয়মিত খেলছেন নাহিদা।

অন্যদিকে মেঘলা অনেক সময় টিম কম্বিনেশনের কারণে সুযোগ পান না। সর্বশেষ শ্রীলঙ্কা সিরিজেও খেলেছিলেন মাত্র একটি ম্যাচ। তবে সুযোগ কম পেলেও মেঘলাকে সবসময় প্রস্তুত থাকতে বলা হচ্ছে। কারণ দলের প্রয়োজন যেকোনো সময় বদলে যেতে পারে।

সহ-অধিনায়ক নাহিদা আক্তার বাংলা নিউজকে জানিয়েছেন, দলের ভেতরে এমন পরিস্থিতি সামলাতে খেলোয়াড়দের সঙ্গে নিয়মিত কথা বলেন তিনি, ‘আমি সবসময় টিমে চার্মিং থাকার চেষ্টা করি। প্লেয়ারদের সঙ্গে কথা বলি। আমি সবসময় একটা জিনিস ডিসকাস করি—অ্যাজ এ টিম কিভাবে খেলা যায়।’

একই পজিশনে খেলার কারণে মেঘলার মানসিক অবস্থাও বোঝেন নাহিদা। তাই তাকে আলাদাভাবে বোঝানোর চেষ্টা করেন বাঁহাতি এই স্পিনার, ‘মেঘলা বাঁহাতি স্পিনার, আমিও বাঁহাতি স্পিনার। আমি খেললে ও খেলতে পারে না। এতে ওর মন খারাপ হতে পারে। তখন আমি ওকে বলি, টিমের রিকোয়ারমেন্ট অনুযায়ী কখনো আমাকে লাগতে পারে, কখনো তোমাকে লাগতে পারে। তুমি নিজেকে প্রস্তুত রাখো। এমনও হতে পারে আমরা দুইজন বাঁহাতি স্পিনার একসঙ্গে খেলছি।’

অধিনায়ক নিগার সুলতানা জ্যোতিও জানিয়েছেন, অনুশীলন ও প্রস্তুতির সময় মেঘলাকে আলাদা করে আত্মবিশ্বাস দেওয়ার চেষ্টা করেন তারা। এক প্রশ্নের জবাবে বাংলাদেশের অধিনায়ক বলেছেন, ‘নাহিদার প্রতি আমাদের প্রত্যাশা অনেক বেশি। সেই কারণে মেঘলা অনেক ক্ষেত্রে সুযোগ পায় না। ওকে আমরা প্র্যাকটিস সেশনেও বলি, অন্যান্য সেশনগুলোতেও বলা হয়—ও যেন নিজের প্রসেস ঠিক রেখে তৈরি থাকে। যখন সুযোগ পাবে, তখন যেন নিজের সেরা পারফরম্যান্সটা দিতে পারে।’

২৪টি আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি খেলে ২৪ উইকেট শিকার করেছেন মেঘলা। নিয়মিত সুযোগ না পেলেও যখনই সুযোগ পেয়েছেন, পারফরম্যান্স দিয়ে অবদান রাখার চেষ্টা করেছেন। বিষয়টি জানেন অধিনায়ক জ্যোতিও। তাই মেঘলা যেন মানসিকভাবে ইতিবাচক থাকেন, সেদিকেও নজর রাখছেন তিনি, ‘ও সবসময় চেষ্টা করে যেন ওর মাইন্ডসেটটা ইতিবাচক থাকে। ও নিজেও জানে যে সুযোগ অনেক কম পায়। কিন্তু ও চেষ্টা করে নিজেকে সেভাবেই প্রস্তুত রাখতে। কারণ সুযোগ যখন আসবে, তখন যেন দলের জন্য সেরাটা দিতে পারে।’

ইংল্যান্ডের কন্ডিশন বিবেচনায় বাংলাদেশ হয়তো অতিরিক্ত পেস বিকল্প নিয়েই বেশি ভাববে। বাঁহাতি স্পিনার হিসেবে একাদশে নাহিদার জায়গা পাকা। সেক্ষেত্রে মেঘলার একাদশে সুযোগ পাওয়া অনেকটাই কঠিন, যদি না দুইজন বাঁহাতি খেলানো না হয়। তবে টিম ম্যানেজমেন্ট চাইছে, স্কোয়াডের প্রতিটি ক্রিকেটার যেন যেকোনো সময় মাঠে নামার মতো প্রস্তুত থাকেন। আর সেই মানসিক প্রস্তুতিটাই এখন সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে বাংলাদেশ নারী দলে।