Home Lead সুন্দরবনে থামছেই না জলদস্যুদের তাণ্ডব, ১৭ জেলের নেই খোঁজ

সুন্দরবনে থামছেই না জলদস্যুদের তাণ্ডব, ১৭ জেলের নেই খোঁজ

2

সাতক্ষীরা প্রতিনিধি।।


কোনো ভাবেই থামছে না বনদস্যুদের জেলে বাওয়ালি অপহরণ ও মুক্তিপণ আদায়। আবারও সাতক্ষীরার সুন্দরবনের সাতক্ষীরা রেঞ্জে জলদস্যু আলিম ও নানাভাই বাহিনীর হাতে ২২ জন জেলে অপহরণের অভিযোগ উঠেছে। মুক্তিপণের টাকা দিয়ে ৫ জেলে ফিরে এলেও এখনো ১৭ জেলের ভাগ্যে কি ঘটেছে তা জানতে উৎকণ্ঠায় রয়েছে তাদের পরিবার।

রোববার (৩ মে) সকাল থেকে সোমবার (৪ মে) সন্ধ্যা পর্যন্ত চুনকুড়ি, মালঞ্চ নদীর আগা, চালতেবাড়িয়া, মাইটভাঙা ও পশুরতলা খাল এলাকা থেকে এসব জেলেকে অস্ত্রের মুখে অপহরণ করা হয়।

অপহৃত জেলেরা শ্যামনগর উপজেলার মুন্সিগঞ্জ, রমজাননগর ও ঈশ্বরীপুর ইউনিয়নের বাসিন্দা। তাদের মধ্যে পাঁচজনকে মারধরের পর মুক্তিপণের শর্তে ছেড়ে দিলেও বাকি ১৭ জনকে এখনো জিম্মি করে রাখা হয়েছে বলে জানা গেছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, অপহৃত জেলেরা কয়েকদিন আগে কদমতলা ও কৈখালী স্টেশন থেকে পাশ (অনুমতিপত্র) নিয়ে সুন্দরবনে মাছ ও কাঁকড়া শিকারে যায়। পরে বিভিন্ন খালে কাজ করার সময় আলিম ও নানাভাই বাহিনীর সদস্যরা তাদের ঘিরে ধরে অপহরণ করে।

অপহৃতদের মধ্যে রয়েছেন মোমিন ফকির, মুর্শিদ আলম, ইসমাইল শেখ, আব্দুল করিম, আব্দুস সামাদ, আল মামুন, রবিউল ইসলাম, মনিরুল ইসলাম, সঞ্জয়, আলআমিনসহ মোট ২২ জন জেলে।

ফিরে আসা জেলে সূত্রে জানা যায়, অপহরণের সময় তাদের মারধর করা হয় এবং এখনো অনেক জেলে জিম্মি অবস্থায় আছেন। তারা জানান, একের পর এক দস্যুরা জেলেদের অপহরণ করে চলেছে। এতে পুরো উপকূল এলাকাজুড়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।

অপহৃতদের স্বজনরা জানিয়েছেন, এখনো মুক্তিপণের কোনো নির্দিষ্ট দাবি জানানো হয়নি। তারা দ্রুত প্রিয়জনদের উদ্ধার করে ফিরিয়ে আনার জন্য সরকারের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

সুন্দরবনের সাতক্ষীরা রেঞ্জের সহকারী বন সংরক্ষক মশিউর রহমান বলেন, বিষয়টি নিয়ে খোঁজ খবর নেয়া হচ্ছে। কোস্টগার্ডকে সাথে নিয়ে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। তবে অপহরণের বিষয়টি জেলে পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়নি।

শ্যামনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. খালেদুর রহমান জানান, এখনো ভুক্তভোগীদের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ পাওয়া যায়নি। তবে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে এবং দস্যুদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে। তবে জেলে বাওয়ালি অপহরণের বিষয়টি নিয়ে তাদের পরিবার আতঙ্কে রয়েছে। তার ধারণা প্রশাসন কোনো পদক্ষেপ নিলে অপহৃত জেলেদের ক্ষতি করতে পারে বনদস্যুরা।