মিলি রহমান।।
কমবেশি সবাই চুল পড়া সমস্যা ভুগছেন। সাধারণত জীবনযাত্রার পরিবর্তন, মানসিক চাপ, অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস, হরমোনের পরিবর্তন, খুশকি এবং দূষণসহ বিভিন্ন কারণে চুল পড়া বেড়ে যায়। অনেকেই চুল পড়া রোধে ঘরোয়া সমাধান হিসেবে পেঁয়াজের রস ব্যবহার করেন। কেউ কেউ বিশ্বাস করেন, পেঁয়াজের রস লাগালে চুল পড়া কমে এবং নতুন চুল গজাতে সাহায্য করে। কিন্তু প্রশ্ন হলো, সত্যিই কি পেঁয়াজের রস ব্যবহারে চুর ঝরা কমে নাকি এটা প্রচলিত কোনো ধারণা?
নিউজ এইট্টিনে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কিছু ক্ষেত্রে পেঁয়াজের রস চুলের জন্য উপকারী হতে পারে, তবে এটা একমাত্র সমাধান ভাবা ঠিক নয়। সাধারণত ব্যক্তির মাথার ত্বকের অবস্থা, চুল পড়ার কারণ এবং এর নিয়মিত ব্যবহারের উপর এটি নির্ভর করে। যদি পুষ্টির অভাব, মানসিক চাপ বা হরমোনজনিত কারণে কারও চুল পড়ে, তাহলে শুধু পেঁয়াজের রস ব্যবহার করলেই সমস্যার সমাধান হবে না।
ওই প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, পেঁয়াজের রসে ভালো পরিমাণে সালফার থাকায় এটি চুল পড়া রোধে সহায়ক বলে মনে করা হয়। চুল প্রধানত কেরাটিন নামক একটি প্রোটিন দিয়ে তৈরি, এবং কেরাটিনেও সালফার থাকে। মাথার ত্বক ও চুলে পেঁয়াজের রস প্রয়োগ করলে তা চুলের গোড়ায় অতিরিক্ত পুষ্টি জোগাতে পারে, যা চুলকে শক্তিশালী করতে সাহায্য করে। এটি চুল ভাঙা কমায় এবং নতুন চুল গজাতে সহায়তা করে। এছাড়া পেঁয়াজের উপাদানগুলো কোলাজেন উৎপাদনেও সাহায্য করতে পারে। এর ফলে মাথার ত্বকের কোষ সুস্থ থাকে। সেই সঙ্গে চুল বৃদ্ধি ভালো হয়।
পেঁয়াজের রস মাথার ত্বকের রক্ত সঞ্চালন উন্নত করতে পারে। যখন চুলের গোড়ায় রক্ত প্রবাহ ভালো থাকে, তখন চুলের গোড়া আরও বেশি পুষ্টি পায়, যার ফলে চুলের বৃদ্ধি আরও ভালো হয়। এক গবেষণায় দেখা গেছে য, যারা পেঁয়াজের রস ব্যবহার করেছেন, তাদের চুল সাধারণ পানি ব্যবহারকারীদের তুলনায় বেশি বেড়েছে। মনে রাখবেন পেঁয়াজের রস টাক, অ্যালোপেশিয়া বা প্যাটার্ন বল্ডনেসের কোনো প্রতিকার নয় বরং এটি বিদ্যমান চুলকে শক্তিশালী করতে এবং চুল পড়া কমাতে সাহায্য করতে পারে।
কীভাবে ব্যবহার করবেন
একটি পেঁয়াজ কুচিয়ে রস বের করে নিন। একটি তুলোর বলের সাহায্যে এটি মাথার ত্বকে লাগান। ২০ থেকে ৩০ মিনিট রেখে দিন। এরপর একটি মৃদু শ্যাম্পু দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। সপ্তাহে দুবার ব্যবহার করলে উপকার পাবেন। চাইলে এর সাথে সামান্য নারকেল তেল বা অ্যালোভেরা জেল মিশিয়ে নিতে পারেন।
যাদের মাথার ত্বক সংবেদনশীল , চুলকানি হয় বা অ্যালার্জি থাকে,তারা প্রথমে অল্প জায়গায় পরীক্ষা করে নিন। কিছু মানুষের ক্ষেত্রে পেঁয়াজের রস জ্বালা বা লালচে ভাব সৃষ্টি করতে পারে। যদি এটি গুরুতর অস্বস্তি সৃষ্টি করে, তাহলে তাড়াতাড়ি ধুয়ে ফেলুন। চুলের ভাল বৃদ্ধির জন্য শরীরেরও পুষ্টি প্রয়োজন। এজন্য প্রোটিন, আয়রন, বায়োটিন, ভিটামিন ডি এবং পর্যাপ্ত ঘুম অপরিহার্য। মানসিক চাপ কমানো এবং চুলের সঠিক যত্ন নেওয়াও সমান গুরুত্বপূর্ণ।











































