Home খেলাধুলা ২ মিলিয়ন ডলারে টিকিট কিনলে নিজ হাতে হটডগ খাওয়াবেন ইনফান্তিনো

২ মিলিয়ন ডলারে টিকিট কিনলে নিজ হাতে হটডগ খাওয়াবেন ইনফান্তিনো

2

স্পোর্টস ডেস্ক।।

ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো ২০২৬ বিশ্বকাপের টিকিটের আকাশচুম্বী মূল্যের পক্ষে সাফাই গেয়েছেন।

ফুটবলপ্রেমীদের তীব্র সমালোচনার মুখেও তিনি দাবি করেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের আইন অনুযায়ী টিকিটের অতিরিক্ত পুনর্বিক্রয় ঠেকানোর কোনো উপায় না থাকায় বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা (ফিফা) বাজারের চড়া দামের সঙ্গে তাল মেলাতে বাধ্য হয়েছে।

মঙ্গলবার (৫ মে) বেভারলি হিলসে আয়োজিত ‘মিলকেন ইনস্টিটিউট গ্লোবাল কনফারেন্স’-এ বক্তব্য দেওয়ার সময় ইনফান্তিনো বলেন, টিকিটের এই চোখ কপালে তোলার মতো দাম মূলত খেলা দেখার জন্য দর্শকদের বিপুল চাহিদারই প্রতিফলন।

বিশ্বকাপের টিকিটের এই মাত্রাতিরিক্ত দাম নিয়ে ফুটবল ভক্তদের সংগঠন ‘ফুটবল সাপোর্টার্স ইউরোপ’ ফিফাকে একহাত নিয়েছে।

তারা এই মূল্য কাঠামোকে ‘জুলুম’ এবং সমর্থকদের সঙ্গে ‘মহা-বিশ্বাসঘাতকতা’ বলে আখ্যায়িত করেছে। এমনকি টিকিটের এই ‘অযৌক্তিক দামের’ বিরুদ্ধে গত মার্চ মাসে ইউরোপীয় কমিশনে ফিফার বিরুদ্ধে একটি মামলাও ঠুকে দিয়েছে সংগঠনটি।
বিষয়টি কতটা চড়া, তার প্রমাণ মেলে ফিফার নিজস্ব টিকিট পুনর্বিক্রয়ের ওয়েবসাইট ‘ফিফা মার্কেটপ্লেস’-এ। গত সপ্তাহে সেখানে আগামী ১৯ জুলাই নিউইয়র্কে অনুষ্ঠিতব্য ফাইনাল ম্যাচের মাত্র ৪টি টিকিট বিক্রির জন্য তোলা হয়েছে, যার প্রতিটির দাম ধরা হয়েছে ২০ লাখ (২ মিলিয়ন) মার্কিন ডলারেরও বেশি!

এই প্রসঙ্গে ইনফান্তিনো কিছুটা রসিকতা ও আত্মপক্ষ সমর্থনের সুরে বলেন, ‘যদি কেউ পুনর্বিক্রয়ের বাজারে ফাইনালের টিকিটের দাম ২০ লাখ ডলার বসায়, তার মানে এই নয় যে অফিশিয়ালি টিকিটের দাম এত।

আর দ্বিতীয়ত, এর মানে এটাও নয় যে কেউ এই দামে টিকিটটি কিনবেই। তবে হ্যাঁ, যদি কেউ সত্যিই ২০ লাখ ডলার দিয়ে ফাইনালের একটি টিকিট কেনে, তবে আমি ব্যক্তিগতভাবে তার জন্য একটা হটডগ আর কোক নিয়ে হাজির হব, যাতে তার ম্যাচ দেখার অভিজ্ঞতা দারুণ হয়।’
সমর্থকরা কাতার বিশ্বকাপ ২০২২-এর সঙ্গে এবারের গ্রীষ্মকালীন বিশ্বকাপের টিকিটের দামের বিশাল পার্থক্যের কথা তুলে ধরেছেন। ২০২২ সালের ফাইনালে অফিশিয়াল টিকিটের সর্বোচ্চ মূল্য ছিল প্রায় ১,৬০০ ডলার। অথচ এবার ২০২৬ সালের ফাইনালের অফিশিয়াল বা মূল টিকিটের সর্বোচ্চ দামই রাখা হয়েছে প্রায় ১১,০০০ ডলার!

দাম বাড়ার এই যৌক্তিকতা তুলে ধরে ইনফান্তিনো অনড় অবস্থানে থেকে বলেন, ‘আমাদের বাজারের দিকে তাকাতে হবে। আমরা এখন বিশ্বের সবচেয়ে উন্নত বিনোদন বাজারে (যুক্তরাষ্ট্র) আছি। তাই আমাদের এখানকার বাজারের হার অনুসারেই এগোতে হবে। যুক্তরাষ্ট্রে টিকিট পুনর্বিক্রয় করা আইনত বৈধ। আমরা যদি খুব কম দামে টিকিট বিক্রি করি, তবে কালোবাজারিরা বা অন্যরা সেই টিকিট কিনে আরও অনেক বেশি দামে রিসেল করবে। সত্যি বলতে, অনেকে আমাদের টিকিটের দাম বেশি বললেও, শেষ পর্যন্ত এগুলো রিসেল মার্কেটে আমাদের দামের চেয়ে দ্বিগুণেরও বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে।’

ফিফা প্রধান আরও জানান, ২০১৮ এবং ২০২২ সালের বিশ্বকাপে মোট যত টিকিটের আবেদন পড়েছিল, এবার তার চেয়ে বহুগুণ বেশি আবেদন এসেছে। ২০২৬ বিশ্বকাপের জন্য এখন পর্যন্ত ৫০ কোটিরও (৫০০ মিলিয়ন) বেশি টিকিটের অনুরোধ পেয়েছে ফিফা। তবে তিনি স্বস্তি দিয়ে জানান, গ্রুপ পর্বের ২৫ শতাংশ টিকিটের দাম ৩০০ ডলারের নিচেই রাখা হয়েছে।

ইনফান্তিনোর মতে, ‘যুক্তরাষ্ট্রে এখন একটা সাধারণ কলেজ ম্যাচ দেখতে গেলেও ৩০০ ডলারের বেশি লাগে, সেখানে এটা তো ফুটবল বিশ্বকাপ!’

তবে দামের এই আকাশচুম্বী অবস্থার কারণে ফিফা কিন্তু সব ম্যাচ এখনো হাউজফুল করতে পারছে না। এমনকি স্বাগতিক দেশ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের উদ্বোধনী ম্যাচ (বনাম প্যারাগুয়ে); যেটির টিকিটও এখনো পুরোপুরি বিক্রি হয়নি। অধিকাংশ গ্রুপ পর্বের ম্যাচের টিকিট এখনো অবিক্রিত রয়ে গেছে, তবে সেগুলোর দাম সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে।

আগামী ১২ জুন লস অ্যাঞ্জেলেসে অনুষ্ঠেয় ইউএসএ বনাম প্যারাগুয়ে ম্যাচের সাধারণ টিকিটের দামই শুরু হচ্ছে ১১২০ ডলার থেকে, যা সর্বোচ্চ ৪১০৫ ডলার পর্যন্ত ঠেকেছে। গড় হিসাবে অধিকাংশ টিকিটের দাম প্রায় ২ হাজার ডলারের কাছাকাছি।

আর যারা একটু আরাম-আয়েশে ‘হসপিটালিটি প্যাকেজ’-এ বসে খেলা দেখতে চান, তাদের এক একটি আসনের জন্য গুনতে হচ্ছে সর্বোচ্চ ৬০৫০ ডলার। ফিফার অফিশিয়াল ওয়েবসাইটের ‘লাস্ট-মিনিট সেলস’ সেকশনে এখনো এই চড়া দামের টিকিটগুলো বিক্রির অপেক্ষায় রয়েছে।