Home আঞ্চলিক স্ত্রীর পরকীয়ায় খুন হন স্বামী, মামলায় দুইজনের যাবজ্জীবন

স্ত্রীর পরকীয়ায় খুন হন স্বামী, মামলায় দুইজনের যাবজ্জীবন

5


স্টাফ রিপোর্টার।।

খুলনার পাইকগাছা উপজেলার চরমলই গ্রামের আলোচিত নেছার আলী মোড়ল হত্যার অভিযোগ প্রাথমিকভাবে প্রমাণিত হওয়ায় দুই আসামিকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাদের প্রত্যেককে ২০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও ছয় মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়। রায় ঘোষণার সময় আসামিরা আদালতে উপস্থিত ছিলেন না।

বুধবার (৬ মে) খুলনার বিভাগীয় দ্রুত বিচার (সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ) আদালতের বিচারক মো. মঞ্জুরুল ইমাম এ রায় ঘোষণা করেন।

যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন সাতক্ষীরা জেলার তালা উপজেলার সাহাজাতপুর গ্রামের বাসিন্দা রেজোয়ন বিশ্বাস ছেলে শহিদুল ও পাইকগাছা উপজেলার মনোসা বিশ্বাসের ছেলে সাধন হাওলাদার।

আদালতের বেঞ্চ সহকারী (উচ্চমান সহকারী) মো. মাজাহারুল ইসলাম জানান, ২০০৪ সালের ১ জানুয়ারি সকালে উপজেলার চরমলই গ্রামের বাসিন্দা নেছার আলী মোড়ল হলুদ বিক্রির জন্য কপিলমুনি বাজারে যায়। হলুদ বিক্রি করে হিতামপুর গ্রামের জনৈক সম্মিরন সাধু ও সন্তোষ কুমারের ইটের ভাটার উত্তর-পশ্চিম কোনায় পৌঁছালে শহিদুল ও ভোলাসহ অজ্ঞাতনামা আরও কয়েকজন নেছার আলী মোড়লের সঙ্গে কথা বলার জন্য ওয়বদা বেড়িবাধের দিকে আসতে থাকে।

সকাল সাড়ে ১০টার দিকে উল্লেখিত দুইজন নেছার আলী মোড়লের কানের কাছে আগ্নেয়াস্ত্র ঠেকিয়ে গুলি করে। এরপর নাটক করে কৌশলে তাকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসে। চিকিৎসকরা পরবর্তীতে তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

এ ঘটনায় নিহতের ভাই আনোয়ার হোসেন বাদী হয়ে ঘটনার দিন থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। এজাহারে হত্যাকাণ্ডের কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়, ঘটনার কয়েকদিন পূর্বে পাওনা টাকা আনতে নেছার আলী মোড়ল উপজেলার হিতামপুর গ্রামের কেনারারম বিশ্বাসের বাড়িতে পাওনা টাকা আনতে যায়। সেখানে গিয়ে তার মেয়ে রত্না বিশ্বাস ওরফে আদুরিকে আসামি শহিদুলের সঙ্গে আপত্তিকর অবস্থায় দেখে ফেলে। এ সময় নেছার আলী মোড়ল শহিদুলকে গালমন্দ করে। যা তার জীবনের কাল হয়ে দাঁড়ায়। এ ঘটনার পর থেকে তাদের উভয়ের মধ্যে শত্রুতার সৃষ্টি হয়।এর জের ধরে শহিদুল ও তার সহযোগি ভোলাসহ অজ্ঞাতনামা আরও কয়েকজন নেছার আলী মোড়লকে হত্যা করে।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পাইকগাছা থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) নাসির উদ্দিন গত ২০০৫ সালের ৩০ এপ্রিল শহিদুল ও ভোলাকে অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগ করেন।