Home আঞ্চলিক ঝুঁকির মুখে শ্যামনগরের উপকূল, ৪ কিলোমিটার বেড়িবাঁধ অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ

ঝুঁকির মুখে শ্যামনগরের উপকূল, ৪ কিলোমিটার বেড়িবাঁধ অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ

3

শ্যামনগর (সাতক্ষীরা) প্রতিনিধি।।

সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার উপকূলীয় এলাকার বেড়িবাঁধের একাধিক স্থানে ফাটল ও ধস দেখা দেওয়ায় নতুন করে আতঙ্কে রয়েছে জনপদ। নদীভাঙন, জোয়ারের চাপ এবং দুর্বল অবকাঠামোর কারণে দীর্ঘ ১৭০ কিলোমিটার বেড়িবাঁধের মধ্যে অন্তত ৪ কিলোমিটার অংশকে ‘অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ’ হিসেবে চিহ্নিত করেছে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো)।

সম্প্রতি চুনকুড়ি নদীর তীরে সিংহড়তলী এলাকায় কয়েক দশ মিটার জুড়ে ফাটল দেখা দেওয়ার পর বাঁধের একটি অংশ ধসে পড়েছে। এছাড়া খোলপেটুয়া নদীর তীরবর্তী বিভিন্ন স্থানেও ভাঙন ও দুর্বলতা লক্ষ্য করা গেছে। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, নিয়মিত জোয়ার-ভাটার প্রভাবে বাঁধের বিভিন্ন অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। মে মাস থেকে ঘূর্ণিঝড় মৌসুম শুরু হওয়ায় এই ঝুঁকি উপকূলীয় মানুষের মধ্যে চরম উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।

অতীতে ‘সিডর’, ‘আইলা’, ‘আম্পান’ ও ‘ইয়াস’-এর মতো ঘূর্ণিঝড়ে বেড়িবাঁধ ভেঙে এই জনপদে ঘরবাড়ি, কৃষিজমি ও মৎস্য ঘেরের অপূরণীয় ক্ষতি হয়েছিল। সেই স্মৃতি মনে করে গাবুরা ইউনিয়নের পল্লী চিকিৎসক আশরাফুল আলম জানান, ২০০৯ সালের আইলায় বেড়িবাঁধ ভেঙে তাঁর ওষুধের দোকানটি নদীতে বিলীন হয়ে যায়। ৯ নম্বর সোরা এলাকায় বাঁধ ভেঙে আব্দুল খালেকের চার বছর বয়সী ছেলে ওবায়দুল্লাহ এবং আব্দুল গফুরের দুই সন্তান আশরাফুল ও ফাতেমা জলোচ্ছ্বাসে ভেসে গিয়ে মারা গিয়েছিল।

গাবুরা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মাসুদুল আলম বলেন, আইলার সময় এই ইউনিয়নে ৫৫ জনের মৃত্যু হয়েছিল এবং প্রায় ৮০ কিলোমিটার রাস্তাঘাট ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল, যার অনেকাংশ এখনো পুরোপুরি সংস্কার করা সম্ভব হয়নি।

বর্তমানে ‘সাতক্ষীরা জেলার পোল্ডার-১৫ পুনর্বাসন’ প্রকল্পের আওতায় গাবুরা ইউনিয়নে ২৯ দশমিক ২০ কিলোমিটার বাঁধ নির্মাণ ও রেগুলেটর প্রতিস্থাপনের কাজ চলছে। প্রায় ১০২০ দশমিক ৪২ লাখ টাকা ব্যয়ের এই প্রকল্পের কাজ ৬০ শতাংশ সম্পন্ন হয়েছে বলে জানা গেছে। প্রকল্পটি পুরোপুরি বাস্তবায়িত হলে প্রায় ৩৪৪১ হেক্টর এলাকা জলোচ্ছ্বাসের হাত থেকে সুরক্ষা পাবে।

পাউবো’র উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী ইমরান সরকার বলেন, ১৭০ কিলোমিটার বাঁধের ৪ কিলোমিটার ঝুঁকিপূর্ণ অংশ সার্বক্ষণিক নজরদারিতে রাখা হয়েছে। যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম মজুদ রাখা হয়েছে।

সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলাম জানান, উপকূলীয় এলাকার ঝুঁকিপূর্ণ বেড়িবাঁধসমূহ পর্যায়ক্রমে সংস্কার ও শক্তিশালীকরণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। চলমান প্রকল্পসমূহ দ্রুত শেষ করতে সংশ্লিষ্টদের কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।