খুলনাঞ্চল রিপোর্ট।।
দক্ষিণের অপরূপ সমুদ্রসৈকত কুয়াকাটা এখন শুধু সূর্যোদয় ও সূর্যাস্তের জন্যই নয়, নতুন নতুন মনোরম স্পটের কারণেও পর্যটকদের কাছে দারুণ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় রয়েছে ‘মিনি সুইজারল্যান্ড’ নামে পরিচিত একটি প্রাকৃতিক স্পট এবং এর পাশেই অবস্থিত ‘লাল কাঁকড়ার দ্বীপ’। এই দুই স্থানকে ঘিরে এখন ভ্রমণপিপাসুদের আগ্রহ তুঙ্গে।

কুয়াকাটা জিরো পয়েন্ট থেকে প্রায় ১৩ কিলোমিটার পূর্বে কাউয়ার চর ও গঙ্গামতির লেক সংলগ্ন বিস্তীর্ণ সবুজ বনভূমি, তৃণভূমি ও সমুদ্রের ঢেউয়ের অপূর্ব সম্মিলনে গড়ে ওঠা এই স্পটটি পর্যটকদের কাছে ‘মিনি সুইজারল্যান্ড’ হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে। এখানকার ছোট ছোট টিলা, নীল আকাশ আর নির্মল বাতাস এক নৈসর্গিক আবহ তৈরি করেছে। অনেক পর্যটক এখানে তাঁবু টাঙিয়ে রাত কাটান এবং একই স্থান থেকে সূর্যোদয় ও সূর্যাস্ত দেখার বিরল অভিজ্ঞতা উপভোগ করেন।
ঢাকা থেকে আসা পর্যটক মৌরি ও বাপ্পা দম্পতি বলেন, এক জায়গা থেকে সূর্য ওঠা ও ডোবা—দুটোই দেখা যায়, এমন দৃশ্য সত্যিই বিরল। এখানকার পরিবেশ অত্যন্ত শান্ত ও মনোরম।
স্থানীয় ট্যুর গাইডরা জানান, ভ্রমণ ব্লগার ‘মি. লাক্সছু’র একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়ার পর থেকেই এই জায়গাটি দেশজুড়ে পরিচিতি পায়। ব্লগার লাক্সছু বলেন, এখানকার সবুজ প্রকৃতি আর সাগরের শান্ত ঢেউ দেখে মনে হয়েছিল এ যেন বাংলাদেশের ভেতরেই এক টুকরো সুইজারল্যান্ড। সেই ভাবনা থেকেই ব্লগে নামটি ব্যবহার করি।

কুয়াকাটার আরেক আকর্ষণ ‘লাল কাঁকড়ার দ্বীপ’। সৈকতের বালুচরে হাজার হাজার লাল কাঁকড়ার দৌড়ঝাঁপ পর্যটকদের বাড়তি আনন্দ দেয়। তবে এই সৌন্দর্য রক্ষায় পরিবেশ সচেতনতার ওপর জোর দিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। ‘আমরা কুয়াকাটাবাসী’র সভাপতি ও মহিপুর প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মো. হাফিজুর রহমান আকাশ বলেন, সঠিক পরিকল্পনা ও পরিবেশবান্ধব ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে একে অন্যতম ইকো-ট্যুরিজম স্পটে পরিণত করা সম্ভব।
কুয়াকাটা প্রেস ক্লাবের সাবেক সভাপতি ও পর্যটন ব্যবসায়ী মো. আনোয়ার হোসেন আনু বলেন, পরিকল্পিত ইকো-ট্যুরিজম কেন্দ্র গড়ে তোলা গেলে স্থানীয় অর্থনীতি চাঙা হবে এবং নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে।
তবে পর্যটকদের প্লাস্টিক বর্জ্য ও উচ্চশব্দে গান বাজানোর কারণে পরিবেশ দূষণের অভিযোগও উঠেছে। এ বিষয়ে কুয়াকাটা পৌর প্রশাসক ও উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ইয়াসীন সাদেক জানান, এই এলাকাকে ঘিরে অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও সড়ক যোগাযোগ বাড়ানোর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. কাউছার হামিদ বলেন, কুয়াকাটার মাস্টার প্ল্যানের মাধ্যমে টেকসই উন্নয়ন ও পরিবেশ সংরক্ষণ নিশ্চিত করেই ‘মিনি সুইজারল্যান্ড’ ও আশপাশের এলাকা নিয়ে পর্যটন প্রকল্পের উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা হবে।











































