Home জাতীয় হামের প্রাদুর্ভাবে মৃত্যু ৩০০ ছাড়ালো

হামের প্রাদুর্ভাবে মৃত্যু ৩০০ ছাড়ালো

3

ঢাকা অফিস।।

দেশে হামের প্রাদুর্ভাব ভয়াবহ রূপ নিয়েছে, যার ফলে আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে শিশুমৃত্যুর সংখ্যা। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, গত ১৫ মার্চ থেকে ৪ মে পর্যন্ত হাম ও এই রোগের তীব্র উপসর্গ নিয়ে দেশে মোট ৩১১ জন প্রাণ হারিয়েছেন। অত্যন্ত উদ্বেগের বিষয় হলো, মৃত্যুর এই মিছিলে শেষ ১০০টি প্রাণহানি ঘটেছে মাত্র ১৯ দিনের ব্যবধানে। জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা পরিস্থিতির এই দ্রুত অবনতির জন্য মূলত শিশুদের নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচির বাইরে থাকাকেই প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত করছেন।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়মিত বুলেটিন বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, সংক্রমণের শুরুর দিকে পরিস্থিতি যতটা ধীর ছিল, সময়ের সাথে তা আরও প্রাণঘাতী হয়ে উঠেছে। প্রথম ১০০ জন মারা যেতে সময় লেগেছিল ২৩ দিন এবং পরবর্তী ১০০ জনের মৃত্যু হয় মাত্র ১৪ দিনে। সবশেষ গত সোমবারের হিসেবে আগের ২৪ ঘণ্টায় রেকর্ড ১৭ জন শিশুর মৃত্যু হয়েছে, যা দেশে হাম শনাক্ত হওয়ার গত ৫০ দিনের ইতিহাসে সর্বোচ্চ। সংক্রমণের এই ঊর্ধ্বমুখী ধারা ঠেকাতে এখন দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপের প্রয়োজন বলে মনে করা হচ্ছে।

অধিদপ্তরের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, মোট ৩১১ জন মৃতের মধ্যে ৫২ জনের ক্ষেত্রে ল্যাব পরীক্ষায় নিশ্চিতভাবে হাম শনাক্ত হয়েছিল। তবে বাকি ২৫৯ জন মারা গেছেন হামের তীব্র সব উপসর্গ নিয়ে। গত দেড় মাসে সারাদেশে ৪১ হাজার ৭৯৩ জন হামে আক্রান্ত বলে সন্দেহ করা হচ্ছে, যার মধ্যে ৫ হাজার ৪৬৭ জনের শরীরে ভাইরাসের উপস্থিতি নিশ্চিত হওয়া গেছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক শিশুকে হাসপাতালে ভর্তি হতে হয়েছে।

বর্তমানে সরকারি হাসপাতালগুলোতে হামের উপসর্গ নিয়ে আসা রোগীর ভিড় বাড়ছে। গত ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত মোট ২৮ হাজার ৮৪২ জন শিশু হাসপাতালের ইনডোর ও আউটডোর বিভাগে চিকিৎসা নিয়েছেন। তবে আশার কথা হলো, আক্রান্তদের মধ্যে ২৫ হাজার ১৫১ জন সুস্থ হয়ে ইতোমধ্যে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন। স্বাস্থ্য বিভাগ জানিয়েছে, যেসব এলাকায় টিকার হার কম এবং ঘনবসতি বেশি, সেখানে সংক্রমণের ঝুঁকি ও মৃত্যুর হার সবচেয়ে বেশি পরিলক্ষিত হচ্ছে।

সামগ্রিক পরিস্থিতি বিবেচনায় স্বাস্থ্য অধিদপ্তর এবং বিশেষজ্ঞরা অভিভাবকদের প্রতি বিশেষ সতর্কতা জারির পরামর্শ দিয়েছেন। শিশুদের শরীরে সামান্যতম জ্বর বা ফুসকুড়ি দেখা দিলেই দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে বলা হয়েছে। পাশাপাশি যারা এখনো টিকার আওতায় আসেনি, তাদের জন্য বিশেষ ক্যাম্পেইনের মাধ্যমে দ্রুত টিকা নিশ্চিত করার ওপর জোর দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট বিভাগ। অন্যথায় সামনের দিনগুলোতে মৃত্যুর এই পরিসংখ্যান আরও দীর্ঘ হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।