স্টাফ রিপোর্টার।।
খুলনার বেসরকারি নর্থ ওয়েস্টার্ন ইউনিভার্সিটির স্বঘোষিত চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান ও সদস্য সচিব হাফিজুর রহমানের ট্রাস্টি বোর্ডের সদস্য পদ অবৈধ ঘোষণা করেছেন আদালত। রোববার খুলনার অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ দ্বিতীয় আদালতের বিচারক মো. শামীম সূফী এই রায় ঘোষণা করেন। এর ফলে তাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের দায়িত্ব পালন বেআইনি হয়ে গেল।
এর আগে গত ১৩ই জানুয়ারি খুলনার সিনিয়র সহকারী জজ রাশিদুল আলম তাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের বোর্ড অব ট্রাস্টির সদস্য হিসেবে কাজ করা থেকে বিরত থাকার নির্দেশ দেন। এর বিরুদ্ধে আপিল করেন তারা। সেটিও খারিজ করে দিয়েছেন আদালত।
সূত্রটি জানায়, বিশ্ববিদ্যালয় দখলের অভিযোগ তুলে মিজানুর রহমান ও হাফিজুর রহমানের বিরুদ্ধে ইউজিসিতে অভিযোগ জমা দেন প্রতিষ্ঠাতা ট্রাস্টিরা। ইউজিসি’র পক্ষ থেকে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। গত বছরের ১২ই নভেম্বর ইউজিসি চিঠি দিয়ে জানায়, মিজানুর রহমান ও হাফিজুর রহমান বৈধ ট্রাস্টি নন।
পরবর্তী সময়ে মিজানুর রহমান ও হাফিজুর রহমানের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে খুলনার সহকারী জজ আদালতে মামলা করেন ট্রাস্টি পবিত্র কুমার সরকার। রোববার সেই মামলার রায়ে তাদের ট্রাস্টি পদ বৈধ নয় বলে ঘোষণা দিয়েছেন আদালত। বাদী পক্ষের আইনজীবী হারুন অর রশীদ জানান, উভয়পক্ষের যুক্তিতর্ক শেষে আদালত বলেছেন মিজানুর রহমান ও হাফিজুর রহমান বৈধ ট্রাস্টি নন। বিশ্ববিদ্যালয়ের বোর্ড অব ট্রাস্টির সদস্য হিসেবে তারা কাজ করতে পারেন না। তাদের কাজ করা থেকে বিরত থাকার নিম্ন আদালতের নির্দেশ বহাল থাকবে।
উল্লেখ্য, বিগত সরকারের সময় ইউনিভার্সিটির চেয়ারম্যান ছিলেন খুলনা মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সিটি মেয়র তালুকদার আব্দুল খালেক। তখন পরিচালক ছিলেন সিটি মেয়রের ব্যবসায়িক পার্টনার হাফিজুর রহমান। মেয়রের দাপটেই হাফিজুর রহমান চলতেন।
২০২৪-এর ৫ই আগস্টের পরিবর্তনের পর প্রতিষ্ঠানটি দখল নেন মিজানুর রহমান। তার সঙ্গে কৌশলে হাত মেলান হাফিজুর রহমান। ক্ষমতার পালাবদলে তারা মহানগর বিএনপি’র শীর্ষ নেতাদের আশীর্বাদপুষ্ট বনে যায় হাফিজুর রহমান। এক সময় খালেক তালুকদারের ব্যবসায়িক পার্টনার রাতারাতি নিজেকে বিএনপি নেতা দাবি করেন।











































