মিলি রহমান।।
পহেলা বৈশাখ মানেই নতুন সাজ আর টেবিলভর্তি খাবার। তবে ডায়াবেটিক রোগীদের জন্য এই আনন্দের দিনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো মিষ্টি আর শর্করাযুক্ত খাবারের হাতছানি। সামান্য পরিকল্পনা করলে উৎসবের আনন্দ আর স্বাস্থ্য—দুই-ই বজায় রাখা সম্ভব।
চলুন, জেনে নিই কিভাবে ডায়াবেটিক রোগীরা পরিকল্পনা করবেন।
১। উৎসবের দিনে পোলাও, লুচি বা মিষ্টি থাকবেই। তবে একসঙ্গে অনেকটা না খেয়ে অল্প পরিমাণে খাওয়া ভালো। মিষ্টির ক্ষেত্রে পুরোটা না খেয়ে সামান্য একটু স্বাদ নেওয়া সবচেয়ে নিরাপদ। এতে রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা হঠাৎ করে বৃদ্ধি পায় না।
২। দিন শুরু করুন হালকা এবং পুষ্টিকর নাশতা দিয়ে। লুচি বা জিলাপির বদলে ওটস, ডিম বা শাকসবজি খেলে রক্তে শর্করার মাত্রা দীর্ঘক্ষণ স্থির থাকে। খালি পেটে তেলেভাজা বা মিষ্টি খাওয়া একদমই উচিত নয়।
৩। উৎসবের আড্ডায় খাবারের সময় যেন ওলটপালট না হয়। দীর্ঘক্ষণ না খেয়ে থেকে হঠাৎ বেশি খেলে শরীর সেই গ্লুকোজ সামলাতে পারে না। দুপুরে যদি ভারী খাবার বা রেস্টুরেন্টে খাওয়া হয়, তবে বিকেলে ও সন্ধ্যায় হালকা খাবার খাওয়াই ভালো।
৪। খাওয়ার পর বসে না থেকে একটু হাঁটাহাঁটি করুন। বিশেষ করে মিষ্টি বা ভারী খাবার খেলে ঘরের ভেতরে বা বারান্দায় হলেও অন্তত ১৫ মিনিট হেঁটে নিন। যত বেশি ক্যালরি গ্রহণ করবেন, হাঁটার পরিমাণও তত বাড়াতে হবে।
৫। পর্যাপ্ত পানি পান করলে শরীর হাইড্রেটেড থাকে এবং অতিরিক্ত শর্করা মূত্রের মাধ্যমে শরীর থেকে বেরিয়ে যেতে সাহায্য করে। চেষ্টা করুন খাবার খাওয়ার ১০-১৫ মিনিট আগে এক গ্লাস পানি খেয়ে নিতে।
৬। যদি মিষ্টি বেশি খেয়ে ফেলেন, তবে ওই বেলার প্রধান খাবারে ভাত বা রুটির পরিমাণ কমিয়ে দিন। তার বদলে ফাইবার সমৃদ্ধ সবজি বেশি করে খান, যা রক্তে চিনি শোষণের গতি কমিয়ে দেয়।
৭। মিষ্টির বদলে ডার্ক চকলেট (যাতে ৭০ শতাংশের বেশি কোকো থাকে) একটি চমৎকার বিকল্প হতে পারে। এটি হার্ট ও ডায়াবেটিক রোগীদের জন্য তুলনামূলক স্বাস্থ্যকর।











































