Home Lead খুলনা অঞ্চলে খাল খননে চ্যালেঞ্জ মৃতপ্রায় নদী

খুলনা অঞ্চলে খাল খননে চ্যালেঞ্জ মৃতপ্রায় নদী

17

স্টাফ রিপোর্টার।।

জলাবদ্ধতা নিরসনে দক্ষিণাঞ্চলের চার জেলায় ৩৬টি খাল খনন কাজ শুরু হলেও বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে মৃতপ্রায় নদী ও নাব্য সংকট। বিশেষ করে শোলমারি, ভদ্রা ও মরিচ্চাপসহ একাধিক নদী ভরাট হয়ে পড়ায় পানি নিষ্কাশন ব্যাহত হচ্ছে। ফলে খাল খননের পাশাপাশি নদী পুনঃখননের ওপর জোর দেয়ার দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

একসময় যেসব খাল দিয়েই বর্ষার পানি দ্রুত নেমে যেত শোলমারি নদীসহ আশপাশের নদীগুলোতে, তৈরি হতো না জলাবদ্ধতা, কৃষিজমিও থাকতো চাষের উপযোগী। কিন্তু বর্তমানে খাল ভরাটের পাশাপাশি নদীর মুখগুলো দখল ও পলি জমে বন্ধ হয়ে গেছে। এতে স্বাভাবিক পানি প্রবাহে বাধা তৈরি হয়েছে।

খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলার অধিকাংশ নদী-খাল এখন কার্যত মৃতপ্রায়। একই অবস্থা যশোর ও সাতক্ষীরার বিস্তীর্ণ অঞ্চলে। ফলে বছরের অন্তত চার মাস পানিতে তলিয়ে থাকে ফসলি জমি। ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে গ্রামীণ সড়ক ও বসতভিটা। উৎপাদন কমে যাওয়ায় আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন কৃষকরা।

ডুমুরিয়া উপজেলার খর্নিয়া ইউনিয়নের কৃষক আব্দুল গফফার বলেন, ‘বছরের পর বছর আমাদের কৃষি জমিতে পানি থাকছে। গত তিন চার বছর ধরে প্রতি বছর বর্ষা মৌসুম এলেই আমাদের ভোগান্তি বাড়ে। ফসল ফলাতে পারি না। আগে এই জমিতে বছরে তিন ফসল হতো, এখন একটাও ঠিকমতো হয় না। পানি নামার পথ নাই, জমি পড়ে থাকে। আমরা বারবার দাবি জানিয়েও কোনো সমাধান করতে পারছি না।’

আরেক কৃষক মফিজুর রহমানের অভিযোগ, বর্ষা এলেই ঘরবাড়ি পানিতে ডুবে যায়। খাল কাটতেছে ভালো কথা, কিন্তু নদী যদি না খনন করে তাহলে পানি যাবে কোথায়?

কৃষাণী হালিমা বেগম বলেন, ‘আমাদের সবজি ক্ষেত নষ্ট হয়ে যায়। ঋণ নিয়ে চাষ করি, কিন্তু লাভ তো দূরের কথা, মূলধনও ওঠে না।’

তবে সরকার পরিবর্তনের পর নতুন করে খান খননের উদ্যোগে আশার আলো ফুটেছে। সরকারি উদ্যোগে নতুন করে খাল খনন শুরু হওয়ায় কিছুটা আশার আলো দেখছেন স্থানীয়রা। পানি উন্নয়ন বোর্ড চারটি প্রকল্পের আওতায় খুলনা, যশোর, সাতক্ষীরা ও নড়াইলে মোট ১৫৩ কিলোমিটার খাল খননের কাজ শুরু করেছে। দুই বছর মেয়াদি এই প্রকল্পে ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ৭৬ কোটি টাকা।

তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ’শুধু খাল খনন করলেই হবে না। মৃতপ্রায় নদীগুলো পুনঃখনন করে খাল-নদীর সংযোগ পুনরুদ্ধার করা জরুরি। তা না হলে জলাবদ্ধতা পরিস্থিতি আরও খারাপ হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।’

কেন্দ্রীয় পানি কমিটির সদস্য শেখ সেলিম আক্তার স্বপন বলেন, ‘এ অঞ্চলের নদীগুলো যেমন মৃত, খালগুলো মৃত। খাল খনন হচ্ছে এটা নিঃসন্দেহে একটা ভালো উদ্যোগ, প্রশংসনীয় উদ্যোগ। তবে এ অঞ্চলের খালগুলো বেশ খানিকটা নিচু। পলি পড়ে নদীর মুখও বন্ধ। স্লুইস গেটগুলোও কাজ করছে না। তাই শুধু খাল খনন করলে কোনো ফল পাওয়া যাবে না। এ জন্য সমন্বিত উদ্যোগে খাল ও নদী খনন করতে হবে।’

এদিকে, আশ্বাসের কথা শুনিয়েছে পানি উন্নয়ন বোর্ড। পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী উজ্জল কুমার সেন জানান, ’শোলমারি নদীসহ বিভিন্ন খাল ও নদী খননের একাধিক প্রকল্প চলমান রয়েছে। ধাপে ধাপে এসব বাস্তবায়ন হলে জলাবদ্ধতা সমস্যার স্থায়ী সমাধান সম্ভব হবে।’