স্টাফ রিপোর্টার।।
নতুন নোট দেওয়ার কথা বলে খুলনা শহরের ছয় ব্যবসায়ীর প্রায় ৭ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে ফেরদৌস মোল্লা নামের এক ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে। অভিযুক্ত ব্যক্তি নিজে একই পেশার সঙ্গে জড়িত ছিলেন। টাকা হারিয়ে ভুক্তভোগী ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা এখন নিঃস্ব হয়ে পথে বসার উপক্রম হয়েছেন।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, বাংলাদেশ ব্যাংক খুলনা শাখার সামনে দীর্ঘদিন ধরে ছেঁড়া ও নতুন নোট বদলের ব্যবসা করেন ১০ জন ব্যবসায়ী। এদেরই একজন ফেরদৌস মোল্লা কৌশলে অন্য ছয় ব্যবসায়ীর কাছ থেকে নতুন নোট দেওয়ার কথা বলে ৭ লাখ টাকা সংগ্রহ করেন। টাকা নেওয়ার পর থেকেই ফেরদৌস লাপাত্তা। বর্তমানে তার মুঠোফোনটিও বন্ধ পাওয়া যাচ্ছে।
ভুক্তভোগীদের মধ্যে পঞ্চাশোর্ধ্ব আবুল কালাম আজাদ জানান, ‘তিনি প্রতিদিনের মতো বুধবার (৮ এপ্রিল) সকালেও ব্যাংকের সামনে এসে বসেছেন, কিন্তু তার কাজে মন বসছে না। ৮ সদস্যের পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি তিনি। সমিতি থেকে ঋণ নিয়ে ব্যবসার জন্য জমানো দুই লাখ টাকা খুইয়ে এখন তিনি দিশেহারা। একই অবস্থা মোহাম্মদ জাহিদেরও।’
তিনি জানান, ‘দীর্ঘদিনের পরিশ্রমে জমানো ৯০ হাজার টাকা ফেরদৌসকে দিয়েছিলেন নতুন নোটের আশায়। এখন সেই টাকা হারিয়ে তিনি বিমর্ষ অবস্থায় রয়েছেন।’
এ ঘটনায় ভুক্তভোগীরা খুলনা সদর থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন। অন্যদিকে, অভিযুক্তের পরিবারের পক্ষ থেকে ফেরদৌস মোল্লা নিখোঁজ হয়েছেন বলে থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে।
এ বিষয়ে খুলনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. কবির হোসেন বলেন, ‘বিষয়টি গুরুত্বসহকারে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। অভিযুক্ত ব্যবসায়ীকে খুঁজে বের করতে আমাদের অভিযান চলছে।’
উল্লেখ্য, বাংলাদেশ ব্যাংকের খুলনা শাখার সামনে যারা ছেঁড়া নোট বদলের ব্যবসা করেন, তাদের দৈনিক গড় আয় ৫০০ থেকে ৭০০ টাকা। অত্যন্ত স্বল্প আয়ের এই মানুষগুলো প্রতারণার শিকার হয়ে এখন মানবেতর জীবনযাপনের শঙ্কায় রয়েছেন।










































