Home আঞ্চলিক সাগরে ভেসে আসা পরিযায়ী গাঙচিল জেলের নৌকায় উদ্ধার

সাগরে ভেসে আসা পরিযায়ী গাঙচিল জেলের নৌকায় উদ্ধার

11


বাগেরহাট প্রতিনিধি।।

বঙ্গোপসাগরের উত্তাল ঢেউ পেরিয়ে সুন্দরবন সংলগ্ন বলেশ্বর নদীতে ভেসে আসে বিরল প্রজাতির একটি ‘কালো মাথার গাঙচিল ’।

শনিবার (১৪ মার্চ) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে বলেশ্বর নদীতে মাছ ধরার সময় জেলে কাঞ্চন আলী হাওলাদার নদীতে ভাসতে থাকা পাখিটি উদ্ধার করে। এ পাখিটি সাধারণত সমুদ্র উপকূলীয় এলাকায় পাওয়া যায়। শীতকালে এদের পালকে সমৃদ্ধ থাকে।

জেলে কাঞ্চন আলী হাওলাদার বলেন, প্রতিদিনের মতো বলেশ্বর নদীতে মাছ যাই। হঠাৎ একটি গাঙচিল ঢেউয়ের তোড়ে ভেসে তীরের দিকে চলে আসছে। পাখিটি বারবার ডানা ঝাপটাচ্ছিল, কিন্তু উড়তে পারছিল না। বিষয়টি দেখে তার সন্দেহ হয় পাখিটি অসুস্থ বা দুর্বল হয়ে পড়েছে। দূর থেকে দেখি পাখিটা পানির ওপর ভাসছে আর ডানা ঝাপটাচ্ছে। কাছে গিয়ে দেখি ঠিকমতো উড়তে পারছে না। তখন মনে হলো হয়তো অসুস্থ হয়ে পড়েছে। পরে আমি নৌকা কাছে নিয়ে পাখিটাকে সাবধানে তুলে নিই। কিছুক্ষণ পর স্থানীয় এক সাংবাদিককে বিষয়টি জানাই, যাতে পাখিটিকে ঠিকমতো চিকিৎসা দেওয়া যায়। খবর পেয়ে স্থানীয় সংবাদকর্মী শাহীন হাওলাদার ঘটনাস্থলে পৌঁছে পাখিটি উদ্ধার করেন এবং দ্রুত শরণখোলা উপজেলা প্রাণিসম্পদ কার্যালয়ে নিয়ে যান। সেখানে পাখিটিকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়।

সংবাদকর্মী শাহীন হাওলাদার বলেন,জেলে কাঞ্চন আলী হাওলাদার আমাকে ফোন করে জানান নদীতে একটি অসুস্থ গাঙচিল পাওয়া গেছে। খবর পেয়ে আমি দ্রুত সেখানে যাই। কাছে গিয়ে দেখি পাখিটি খুব দুর্বল অবস্থায় আছে এবং উড়তে পারছে না। তাই দেরি না করে এটিকে উদ্ধার করে উপজেলা প্রাণিসম্পদ কার্যালয়ে নিয়ে যাই। এখন পাখিটিকে আমার হেফাজতেই রাখা হয়েছে এবং নিয়মিত চিকিৎসা চলছে। আশা করছি দ্রুতই এটি সুস্থ হয়ে উঠবে।

শরণখোলা উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা আল মামুন জুয়েল বলেন, ‘উদ্ধার হওয়া গাঙচিলটি আমাদের কাছে আনার পর আমরা প্রাথমিকভাবে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করি। এতে দেখা যায় পাখিটি শারীরিকভাবে খুব দুর্বল হয়ে পড়েছে এবং সম্ভবত ফুসফুসজনিত সমস্যার কারণে উড়তে পারছিল না। আমরা প্রয়োজনীয় ওষুধ ও চিকিৎসা দিয়েছি। আপাতত এটিকে পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। পুরোপুরি সুস্থ হলে বন বিভাগের মাধ্যমে এটিকে আবার প্রাকৃতিক পরিবেশে অবমুক্ত করা হবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘পরিযায়ী পাখিরা দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে আমাদের দেশে আসে। অনেক সময় প্রতিকূল আবহাওয়া, খাদ্যের অভাব বা অসুস্থতার কারণে তারা দুর্বল হয়ে পড়ে। এমন অবস্থায় স্থানীয় মানুষ যদি সচেতনভাবে এগিয়ে আসে, তাহলে এসব প্রাণীকে রক্ষা করা সম্ভব।’

সুন্দরবন পূর্ব বিভাগের শরণখোলা রেঞ্জের স্টেশন কর্মকর্তা খলিলুর রহমান বলেন, ‘বিষয়টি আমরা শুনেছি। বর্তমানে দাপ্তরিক কাজে বাইরে থাকলেও ফিরে এসে পাখিটির বিষয়ে বিস্তারিত খোঁজ নেওয়া হবে। প্রয়োজন হলে বন বিভাগের তত্ত্বাবধানে এটিকে নিরাপদ স্থানে রাখা হবে এবং সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে উঠলে প্রাকৃতিক পরিবেশে অবমুক্ত করার ব্যবস্থা করা হবে।’

বিশেষজ্ঞদের মতে, উদ্ধার হওয়া পাখিটির নাম ‘কালো মাথার গাঙচিল।এর বৈজ্ঞানিক নাম Chroicocephalus ridibundus। সাধারণত এরা এশিয়া ও ইউরোপের উপকূলীয় অঞ্চলে বসবাস করে। শীত মৌসুমে দীর্ঘ পথ অতিক্রম করে এরা দক্ষিণ এশিয়ার বিভিন্ন দেশে, বিশেষ করে বাংলাদেশের উপকূলীয় অঞ্চলে পরিযায়ী পাখি হিসেবে আসে।