Home Lead নিখোঁজ ব্যবসায়ী সুজনের সন্ধান নেই, ‘উদাসীন’ পুলিশের বিরুদ্ধে পরিবারের ক্ষোভ

নিখোঁজ ব্যবসায়ী সুজনের সন্ধান নেই, ‘উদাসীন’ পুলিশের বিরুদ্ধে পরিবারের ক্ষোভ

66


শাহ তানভীর আহমেদ।।
খুলনা-২ (সদর-সোনাডাঙ্গা) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য মিজানুর রহমান–এর জামাতা ব্যবসায়ী কাজী নিজাম উদ্দিন ওরফে সুজন নিখোঁজ হওয়ার ৯ দিন পেরিয়ে গেলেও তাঁর কোনো হদিস মেলেনি। সময় যত গড়াচ্ছে, ততই বাড়ছে পরিবারের উৎকণ্ঠা-আর একই সঙ্গে বাড়ছে পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন।


গত বুধবার খুলনা প্রেসক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে নিখোঁজের বাবা ব্যবসায়ী কাজী আবদুস সোবহান প্রশাসনের বিরুদ্ধে কার্যত ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তাঁর অভিযোগ, ঘটনার পরপরই সাধারণ ডায়েরি করা হলেও এখন পর্যন্ত দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি নেই। “আমরা বারবার দরজায় কড়া নাড়ছি, কিন্তু সান্ত্বনা ছাড়া কিছুই পাচ্ছি না”-বলেন তিনি।


পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, ২১ ফেব্রুয়ারি ইফতারের পর রাত আনুমানিক ৮টার দিকে কাজী নিজাম উদ্দিন নগরের পুলিশ লাইনস জামে মসজিদে তারাবিহর নামাজ আদায়ের উদ্দেশ্যে বাসা থেকে বের হন। নামাজ শেষে মসজিদের সিসিটিভি ফুটেজে তাঁকে রাস্তায় দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়। এরপর থেকেই তিনি নিখোঁজ। ঘটনাস্থলের আশপাশের বহু সিসিটিভি ক্যামেরা অচল থাকায় তাঁর গতিপথ শনাক্ত করা যায়নি-যা নিয়ে পরিবার প্রশ্ন তুলেছে।


২২ ফেব্রুয়ারি খুলনা সদর থানায় জিডি করা হয়। র্যাবসহ বিভিন্ন সংস্থার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও এখন পর্যন্ত কোনো দৃশ্যমান অগ্রগতি নেই বলে অভিযোগ পরিবারের। তাঁদের দাবি, বিষয়টি শুরু থেকেই যথাযথ গুরুত্ব পেলে তদন্তে এতটা স্থবিরতা থাকত না।


নিখোঁজের বাবা আরও বলেন, তাঁর ছেলে কোনো রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন না, তাঁর বিরুদ্ধে কোনো মামলা নেই। ২০২৩-২৪ অর্থবছরে খুলনার সর্বোচ্চ করদাতা হিসেবে রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি পেয়েছেন তিনি। “এমন একজন মানুষ হঠাৎ উধাও হয়ে যাবেন, আর প্রশাসন বলবে—কিছু পাওয়া যায়নি? এটা আমাদের কাছে গ্রহণযোগ্য নয়”-বলেন তিনি।


সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন নিখোঁজের মা, স্ত্রী ও পাঁচ বছর বয়সী সন্তান। স্বজনদের কান্নায় ভারী হয়ে ওঠে পরিবেশ। তাঁদের একটাই দাবি-দ্রুত উদ্ধার এবং ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদ্ঘাটন।


এ বিষয়ে খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশ-এর অতিরিক্ত কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস) মোহাম্মদ রাশিদুল ইসলাম খান সাংবাদিকদের বলেন, “আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি। সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করা হয়েছে। জোর করে নিয়ে যাওয়ার প্রমাণ পাওয়া যায়নি। আমরা আন্তরিকতার সঙ্গে বিষয়টি দেখছি।”


তবে পরিবারের প্রশ্ন-যদি আন্তরিকতা থাকে, তবে নয় দিনে কেন নেই কোনো অগ্রগতি? রহস্য ঘনীভূত হচ্ছে, আর সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে তদন্তের গতি নিয়ে জনমনে বাড়ছে সংশয়। এখন সবার দৃষ্টি প্রশাসনের দিকে-এই নিখোঁজ রহস্য উদ্ঘাটনে তারা কতটা সক্রিয় ও কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে, সেটিই দেখার বিষয়।