সাবজাল হোসেন, বিশেষ প্রতিনিধি
ঝিনাইদহ কালীগঞ্জের গ্রাম্য সড়ক থেকে শুরু করে শহরের মধ্যকার পৌর সড়কসহ মহাসড়ক পর্যন্ত এখন ইজিবাইকের দখলে। চালকেরা কোন নিয়মনীতি না মেনে শহরের মধ্যকার সড়কে যেখানে সেখানে তাদের বাইক থামিয়ে যাত্রী উঠানামা করাচ্ছেন। ফলে শহরের মধ্যে প্রতিনিয়ত অসহনীয় যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে। এছাড়াও চালকদের মধ্যে অপ্রাপ্ত বয়ষ্কো ও প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত না হওয়ায় হরহামেশায় ঘটছে দূর্ঘটনা। কিন্ত এ যেন দেখার কেউ নেই।
ভুক্তভোগী পৌর নাগরিকদের অভিযোগ, শহরের মধ্যদিয়ে যাওয়ার সময়ে তারা প্রতিনিয়ত যানজটের শিকার হচ্ছেন। তাদের অভিযোগ শহরে চলাচলরত ইজিবাইকের চালকেরা কোন নিয়ম শৃংখলা তোয়াক্কা করে না। অধিকাংশ চালক পেছনের দিকে কোন নজর না রেখেই ইচ্ছা মত ইজিবাইক ঘুরিয়ে ফেলতে যায়। আবার রাস্তার ভাঙাচোরা অংশ পরিহার করে ভালো অংশ দিয়ে তারা যেতে চায়। ফলে ঘন ঘন রাস্তায় এপাশ ওপাশ করে পথ চলে তারা। এমন অবস্থায় মোটর সাইকেলসহ দ্রুতগতির পরিবহন পেছন থেকে আগে উঠতে গেলে ইজিবাইকে ধাক্কা লেগে প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনা ঘটেই চলেছে। কিন্ত প্রতিকারের কেউ নেই।

সাধারন পথচারী শহিদুল ইসলামের অভিযোগ,ইজিবাইক চালকেরা শহরের মধ্যে যেখানে সেখানে তাদের বাইক পার্কিং করার কারনে সৃষ্ট যানজটে ৫ মিনিটের রাস্তায় কখনও কখনও ঘন্টা খানেক সময় লেগে যায়। প্রাপ্ত তথ্য মতে, ২০১০ সালের দিকে প্রথমে কালীগঞ্জ শহরে অল্প কিছু সংখ্যক ইজিবাইক দেখা গেলেও বর্তমানে ছোট্ট্র শহরে সাড়ে ৩ হাজারের বেশি ইজিবাইক চলাচল করছে। সড়কে তাকালে ইজিবাইক আর ইজিবাইক। যেখানে সেখানে দাড়িয়ে যাত্রী উঠানো নামানো করার কারনে অসহনীয় যানজটে পড়ে দীর্ঘ লাইন পড়ে যায়।
সরেজমিন উপজেলা বিভিন্ন সড়ক ঘুরে দেখা গেছে,যারা ইজিবাইক চালাচ্ছেন তাদের মধ্যে ১২/ ১৩ বছরের কম বয়সের কিশোরেরাও রয়েছে। এখন প্রতিদিন নতুন নতুন ইজিবাইক সড়কে নামানো হচ্ছে। পৌর কর্তৃপক্ষ এই সব ইজিবাইক শুধুমাত্র পৌর এলাকায় চালানোর অনুমতি দিলেও তারা যাত্রী নিয়ে মহাসড়কে দ্রুতগতীর যানবাহনের সাথে পাল্লা দিয়ে যাত্রী বহন করছেন। এই সব ইজিবাইকের চালকদের মধ্যে কেউ মাঠের কৃষি শ্রমিক অথবা আগে রিক্সা/ ভ্যান চালাতেন। আবার কেউ কেউ বয়সে কিশোর। এদের শতকরা ৯৫ জন চালকই নিয়মকানুন জানেন না। তারপরও চালকেরা নিয়মিত মহাসড়ক ছাড়াও গ্রামাঞ্চালের সড়কে ৮ জন যাত্রী বোঝায় অত্যন্ত ঝুঁকি নিয়ে পথ চলছেন।

ইজিবাইক চালক মকবুল মন্ডল জানান, তিনি ৪ বছর ধরে ইজিবাইক চালাচ্ছেন। আর এটা চালিয়ে ৫ সদস্যের সংসারের জীবিকা নির্বাহ করেন। তবে তিনি স্বীকার করেন,যে হারে প্রতিদিন নতুন নতুন ইজিবাইক রাস্তায় নামছে তাতে যানজন সৃষ্টি হচ্ছে। তার অভিযোগ নতুন ইজিবাইক চালকেরা আইন কানুন মানে না। কে কত টাকার ভাড়া আয় করবে তারা সেই প্রতিযোগিতায় ব্যস্ত। এর কারনে প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনা বাড়ছে।
ইজিবাইক চালক ফয়লা গ্রামের নিমাই চন্দ্র দাস জানান, ২ বছর ধরে ইজিবাইক চালিয়ে সংসার চালাচ্ছেন। আগে ভালো পয়সা রোজগার হতো কিন্ত এখন ইজিবাইকের সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় রোজগার কম হচ্ছে। তিনি হাসতে হাসতে জানান, বর্তমানে শহরে এমন অবস্থা যেন মানুষের চেয়ে ইজিবাইক বেশি হয়ে গেছে।
জুয়েল রানা নামের এক পথচারী বলেন, শহরের ভিতরে চলাচলরত ইজিবাইক দেখলে মনে হয় এটা যেন ইজিবাইকের শহর। অনেক চালক আছেন যারা অন্য পেশার কাজ করে বিকালে শহরে এসে ইজিবাইক চালান। ফলে বিকালে শহরে ইজিবাইকের উপস্থিতি থাকে সারাদিনের যে কোন সময়ের চেয়ে বেশি। তার অভিযোগ এ সমস্ত চালকদের কোন প্রশিক্ষণ নেই। তাছাড়াও চালকদের মধ্যে অপ্রাপ্ত বয়ষ্কো রয়েছে। তারা শহরের বিভিন্ন মোড়ে অথবা সড়কের উপরে অযথা তাদের বাইক দাঁড় করিয়ে রাখে। আবার লাইন ধরে না গিয়ে ইচ্ছা মত এলামেলোভাবে পাল্লা দিয়ে আগে উঠতে চায়। যে কারনে রাস্তায় দু’পাশ থেকে আসা যানবাহন চলাচল বাধাগ্রস্থ হয়ে যানজটের সৃষ্টি হয়। এই পথচারীর অভিযোগ এটা চালকদের ইচ্ছাকৃত সৃষ্ট যানজট। এরপরও শহরের মধ্যে বড় গাড়ি ঢুকে যানজটের ভোগান্তিটা আরো বাড়িয়ে দিচ্ছে।
কালীগঞ্জ পৌরসভার ভারপ্রাপ্ত মেয়র আশরাফুল আলম আশরাফ জানান, ইজিবাইকের জন্য অপ্রাপ্ত বয়স্ক কোন চালককে অনুমোদন দেয়া হয়নি। কেউ যদি শিশুদের দিয়ে ঝুঁকিপূর্ণ তিন চাকার এ যান চালান কতক্ষনই বা নজরে রাখা যায়। তিনি বলেন, নিয়ম না মেনে অনুমোদনহীন নতুন নতুন ইজিবাইক শহরের সড়কে নামানো হচ্ছে। চালকদের খামখেয়ালীপনার কারনে সৃষ্টি হচ্ছে যানজট। তিনি এগুলো দেখবেন বলে আশ্বাস দেন।










































