Home স্বাস্থ্য মেডিটেশন করবেন যেসব রোগ থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্য

মেডিটেশন করবেন যেসব রোগ থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্য

4


ডা. এম ইয়াছিন আলী।।

মেডিটেশন (Meditation) হলো একটি গুরুত্বপূর্ণ মানসিক অনুশীলন এবং এর মাধ্যমে মানুষ তার মনকে শান্ত, স্থির, একাগ্র ও সচেতন করে তুলতে পারেন। এটি মূলত নিজের চিন্তা, অনুভূতি এবং শ্বাস-প্রশ্বাসের ওপর মনোযোগ দেওয়ার সচেতন প্রক্রিয়া। নিয়মিত মেডিটেশনচর্চায় মন ধীরে ধীরে অস্থিরতা, উৎকণ্ঠা ও নেতিবাচক চিন্তা থেকে মুক্ত হয়ে গভীর শান্তি, আত্মসচেতনতা এবং মানসিক ভারসাম্যের দিকে অগ্রসর হয়। সহজভাবে বলতে গেলে, মেডিটেশন হলো বর্তমান সময়ে নিজের মনকে সম্পূর্ণভাবে স্থির ও সচেতন রাখার একটি কৌশল, যা মানুষকে নিজের ভেতরের জগতের সঙ্গে সংযুক্ত হতে সাহায্য করে। বর্তমান সময়ের জীবনব্যবস্থা অত্যন্ত ব্যস্ত ও চাপপূর্ণ। প্রতিদিনের কাজের চাপ, পারিবারিক ও সামাজিক দায়িত্ব, আর্থিক দুশ্চিন্তা, ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা এবং মোবাইল ফোন ও সামাজিক যোগাযোগ-মাধ্যমের অতিরিক্ত ব্যবহার আমাদের মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর গভীর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। ফলে আমরা প্রায়ই দুশ্চিন্তা, হতাশা, রাগ, ভয়, অস্থিরতা ও মানসিক ক্লান্তিতে ভুগি। এ পরিস্থিতিতে মেডিটেশন হতে পারে একটি কার্যকর ও প্রাকৃতিক সমাধান। নিয়মিত মেডিটেশন করার মাধ্যমে মানসিক চাপ ও উদ্বেগ ধীরে ধীরে কমে আসে, মন শান্ত ও স্থির থাকে, আত্মনিয়ন্ত্রণ ও ধৈর্য বৃদ্ধি পায় এবং নিজের ভেতরের শক্তি ও সচেতনতা সম্পর্কে গভীর উপলব্ধি তৈরি হয়। তাই সুস্থ, স্বাভাবিক ও ভারসাম্যপূর্ণ জীবনযাপনের জন্য মেডিটেশনের গুরুত্ব অপরিসীম।

মেডিটেশনের উপকারিতা বহুমাত্রিক। মানসিক দিক থেকে এটি স্ট্রেস, উদ্বেগ ও ডিপ্রেশন কমাতে সহায়তা করে এবং মনকে প্রফুল্ল ও ইতিবাচক রাখে। নিয়মিত মেডিটেশন স্মৃতিশক্তি ও মনোযোগ বাড়াতে সাহায্য করে, রাগ ও হতাশা নিয়ন্ত্রণে রাখে এবং আত্মবিশ্বাস ও মানসিক দৃঢ়তা গড়ে তোলে। শারীরিক দিক থেকেও মেডিটেশনের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এটি রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে সহায়ক, হৃদরোগের ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করে, মাথাব্যথা ও মাইগ্রেনের প্রবণতা হ্রাস করে, ভালো ঘুম নিশ্চিত করে এবং শরীরের রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে।

স্নায়ু ও মস্তিষ্কের ক্ষেত্রেও মেডিটেশনের ইতিবাচক প্রভাব লক্ষণীয়। এটি স্নায়ুতন্ত্রকে শান্ত রাখে, মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা উন্নত করে, অতিরিক্ত চিন্তা ও মানসিক ক্লান্তি কমায় এবং সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা বাড়ায়। পাশাপাশি ব্যক্তিগত ও সামাজিক জীবনেও মেডিটেশন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এটি ধৈর্যশীল ও সহানুভূতিশীল মনোভাব তৈরি করে, পারিবারিক ও সামাজিক সম্পর্ক উন্নত করে, কাজের দক্ষতা ও উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি করে এবং জীবনের প্রতি একটি ইতিবাচক ও সুস্থ দৃষ্টিভঙ্গি গড়ে তোলে।

সবশেষে বলা যায়, মেডিটেশন কোনো ধর্মীয় আচার বা নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর অনুশীলন নয়; এটি একটি বৈজ্ঞানিকভাবে স্বীকৃত, প্রাকৃতিক ও কার্যকর মানসিক অনুশীলন। প্রতিদিন মাত্র ১০ থেকে ১৫ মিনিট নিয়মিত মেডিটেশনচর্চা করলে শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যে উল্লেখযোগ্য ইতিবাচক পরিবর্তন লক্ষ্য করা যায়। কারণ সুস্থ শরীরের মূল ভিত্তি হলো সুস্থ মন, আর সেই সুস্থ মন গঠনে মেডিটেশন একটি শক্তিশালী ও নির্ভরযোগ্য মাধ্যম।

লেখক : চেয়ারম্যান ও চিফ কনসালট্যান্ট

ঢাকা সিটি ফিজিওথেরাপি হাসপাতাল, ধানমন্ডি, ঢাকা

হটলাইন : ০১৭৮৭১০৬৭০২