অনলাইন ডেস্ক।।
পাকিস্তান নিউজপেপার এডিটরস কাউন্সিলের (সিপিএনই) প্রেস ফ্রিডম অ্যান্ড মনিটরিং কমিটির প্রকাশিত ২০২৫ সালের বার্ষিক মিডিয়া ফ্রিডম রিপোর্ট বলছে, পাকিস্তানি গণমাধ্যমের ওপর ‘সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ ও সেন্সরশিপ’ বজায় থাকা সত্ত্বেও বিদায়ী বছরে সাংবাদিকরা গুরুতর হুমকি ও নির্যাতনের মুখে পড়েছেন। রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে, এসব হুমকির মধ্যে রয়েছে সাংবাদিককে হত্যা, গ্রেপ্তার, রাষ্ট্রদ্রোহের মামলা, জোরপূর্বক সম্প্রচার বন্ধের নির্দেশ, ব্যাংক হিসাব জব্দ, এক্সিট কন্ট্রোল লিস্টে (ইসিএল) নাম অন্তর্ভুক্তি এবং সরকারি ও প্রাতিষ্ঠানিক বিজ্ঞাপন প্রত্যাহার। এ খবর দিয়েছে অনলাইন এক্সপ্রেস ট্রিবিউন। রিপোর্ট অনুযায়ী, ২০২৫ সালে পাকিস্তানে পাঁচজন সাংবাদিক নিহত হয়েছেন। ছয়জন বিভিন্ন মামলা, গ্রেপ্তার অথবা সরকারি পদক্ষেপের সম্মুখীন হয়েছেন। আরও তিনজন হয়রানি বা ভয়ভীতির শিকার হয়েছেন।
বছরজুড়ে দুইটি সংবাদ সম্মেলন বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। দুইটি মিডিয়া অফিসে হামলা হয়েছে। দুইটি বড় ধরনের সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে। পাশাপাশি দুটি বড় ডিজিটাল বিধিনিষেধ এবং একটি বিতর্কিত আইন মতপ্রকাশের স্বাধীনতায় গুরুতর প্রভাব ফেলেছে। এ ছাড়া বেশ কয়েকজন সাংবাদিক নাগরিক পরিচয়পত্র (ন্যাশনাল আইডেন্টিটি কার্ড) স্থগিতকরণ, ব্যাংক হিসাব ফ্রিজ করে দেয়া এবং ২০১৬ সালের প্রিভেনশন অব ইলেকট্রনিক ক্রাইমস অ্যাক্ট (পিইসিএ)-এর আওতায় নেয়া ব্যবস্থার মতো অস্বাভাবিক পদক্ষেপের সম্মুখীন হয়েছেন। পাকিস্তানের প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক- উভয় ধরনের গণমাধ্যমে প্রকাশিত ও প্রচারিত কনটেন্টে এক ধরনের একই রকম রূপ দেয়ার ব্যবস্থা তৈরি হয়েছে, যা স্বাধীন সাংবাদিকতার বর্তমান অবস্থান নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তুলেছে। ফলস্বরূপ ২০২৫ সালে রিপোর্টার্স উইদাউট বর্ডারস (আরএসএফ)-এর ওয়ার্ল্ড প্রেস ফ্রিডম ইনডেক্সে পাকিস্তানের অবস্থান ছয় ধাপ নিচে নেমে ১৫৮তম স্থানে পৌঁছেছে। ২০২৪ সালে দেশটির অবস্থান ছিল ১৫২তম। রিপোর্টে বলা হয় কঠোর সরকারি নীতি, পিইসিএ আইনকে জোরপূর্বক প্রয়োগ, নিয়ন্ত্রিত বিজ্ঞাপন নীতি, প্রেস অ্যাডভাইজরি এবং সেন্সরশিপ- এসবের চাপে বহু পত্রিকা বন্ধ হয়ে গেছে। বড় বড় মিডিয়া গ্রুপের নিউজরুম এখন প্রায় ফাঁকা। বহু প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান বাধ্য হয়ে কর্মী ছাঁটাই করেছে।











































