ঢাকা অফিস।।
চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জে আবু সুফিয়ান সিজু (২৫) নামে এক যুবককে বৈদ্যুতিক খুঁটির সঙ্গে বেঁধে দুই হাত-পা কেটে দিয়েছে জামায়াত-শিবিরের কর্মীরা। বুধবার সন্ধ্যায় উপজেলার শ্যামপুর ইউনিয়নের উমরপুর ঘাটে এ ঘটনা ঘটে। বর্তমানে ওই যুবক রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। তিনি শ্যামপুর-বাজিতপুর গ্রামের রবিউল ইসলামের ছেলে। এ ঘটনায় দু’জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এদিকে ঘটনাটি ভিন্নখাতে প্রভাবিত করতে শুক্রবার বিকালে শ্যামপুর চামাবাজারে মানববন্ধন করেছে জামায়াতের নেতাকর্মীরা।
এ বিষয়ে আবু সুফিয়ান সিজু বলেন, আমার এক আত্মীয়কে বিরক্ত করে উপজেলার ধোবড়া এলাকার মোস্তাক নামে এক ছেলে। এজন্য মোস্তাককে আমি সতর্ক করি। এরই জেরে আমাকে বিদ্যুতের খুঁটিতে বেঁধে দুই হাত ও একটি পা কেটে দিয়েছে আনোয়ার, নূরুল ও রাজ্জাক হুজুর। রাজ্জাক হুজুরসহ আরও ৪-৫ জন আমাকে ধরে ছিল। আর আনোয়ার ও নূরুল আমার হাত-পা কেটেছে। তার মা সুফিয়া বেগম বলেন, তার ভাগনিকে উপজেলার ধোবড়া এলাকার মোস্তাক আলী নামের এক যুবক দীর্ঘদিন ধরে বিরক্ত করে আসছিল। এ কারণে গত ২৪শে ডিসেম্বর দুপুরে তার ছেলে মোস্তাককে ডেকে এনে সতর্ক করে। সন্ধ্যায় উমরপুর ঘাট দিয়ে বাড়িতে আসছিল তার ছেলে। এ সময় স্থানীয় শিবিরকর্মী আনোয়ার, নূরুল ও রাজ্জাক হুজুর তাকে ধরে নিয়ে একটি বিদ্যুতের খুঁটিতে বেঁধে চাইনিজ কুড়াল দিয়ে দুই হাত ও দুই পা কেটে দিয়েছে। এর অগে প্রায় ৩ ঘণ্টা ধরে তাকে হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়েছে।
স্থানীয়রা জানান, জামায়াত-শিবিরের কয়েকজন কর্মী সিজুকে ধরে বৈদ্যুতিক খুঁটির সঙ্গে বেঁধে ধারালো অস্ত্র দিয়ে তার দুই হাত ও পায়ে এলোপাথাড়ি কোপাতে থাকে। এমন দৃশ্য দূর থেকে স্থানীয়রা দেখলেও এর প্রতিবাদ করার সাহস পায়নি। পরে তারা মৃত ভেবে ফেলে রেখে চলে যায়। এরপর গুরুতর আহত অবস্থায় স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে শিবগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে। পরে অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে উন্নত চিকিৎসার জন্য রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। এ প্রসঙ্গে উপজেলা জামায়াতের আমীর সাদিকুল ইসলাম বলেন, সিজু এলাকায় সন্ত্রাসী নামেই পরিচিত। গতকাল সিজুর শাস্তি ও এবং যাদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে তাদের মুক্তির দাবিতে মানববন্ধন করেছে এলাকাবাসী। এ ঘটনায় যাদের নাম এসেছে তারা আমাদের অঙ্গ সংগঠনের কর্মী নয়। তবে আমাদের সমর্থক হতে পারে। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এএনএম ওয়াসিম ফিরোজ বলেন, এ ঘটনায় আহত ব্যক্তির বাবা বাদী হয়ে মামলা করেছেন। মামলার প্রেক্ষিতে শাহ আলম ও রাজ্জাক নামে দু’জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে তারা জামায়াত কর্মী কি না আমার জানা নেই।











































