মুহাম্মদ নূরুজ্জামান
খুলনায় লাগামহীন বেড়েই চলেছে নিত্যপণ্েযর দাম। ৪০ টাকার নিচে মিলছে না কোনো সবজি। কাঁচা মরিচের দাম ২০০ টাকা। কমছে না পেঁয়াজ, চাল, ডালের দামও। এতে বিপাকে পড়েছেন নিম্ন আয়ের মানুষ ও মধ্যবিত্ত। সোমবার থেকে বৃহস্পতিবার নগরীর বিভিন্ন খুচরা বাজার ঘুরে দেখা গেছে, প্রতিকেজি কাঁচামরিচের দাম ২০০ টাকা, বেগুন ৬০ থেকে ৬৫ টাকা, পেঁপে ৩৫ থেকে ৪০ টাকা, ঢেঁড়স ৪০ টাকা, কচুরলতি ৪০ টাকা, ঝিঙে ৩০ থেকে ৪০ টাকা।
এছাড়া, দেশি পেঁয়াজ ৯০ টাকা, ভারতীয় পেঁয়াজ ৭০ থেকে ৭৫ টাকা, উচ্ছে ৮০ টাকা, কাকরোল ৪০ টাকা, আলু ৪০ টাকা, শীতকালীন শিম ৩৫ থেকে ৪০ টাকা, মিষ্টিকুমড়া ৩৫ টাকা, বরবটি সিম ৪০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। কাঁচাবাজার করতে এসেছেন ক্রেতা মুহাম্মদ কামরুজ্জামান ও রায়হান ইসলাম। তারা বলেন, ‘বাজার মনিটরিং জোরদার করা উচিত। মনিটরিং ব্যবস্থা জোরদার থাকলে বিক্রেতারা ইচ্ছেমতো বেশি দামে বিক্রি করতে পারবে না। ’
আরেক ক্রেতা বিএল কলেজ ছাত্র ইমরুল কায়েস বলেন, ‘সবজির দাম অনেক বেশি। তাই প্রয়োজনের চেয়ে কম সবজি কিনতে হচ্ছে।’ একই অভিযোগ আজিজুল হক নামের এক ক্রেতারও। তিনি আরও বলেন, ‘অতিরিক্ত দামের কারণে বাজার থেকে সবজি কিনে খাওয়া মুশকিল।’ প্রায় একই তথ্য জানালেন মহানগরীর সন্ধ্যা বাজারের কাঁচা তরকারি-বিক্রেতা সেলিম রেজা, সোহেল রানা এবং দক্ষিণ টুটপাড়া বড় খালপাড় বান্দা বাজারের মো. ইয়াসিন আরাফাতও।
এসব অভিযোগের বিষয়ে ব্যবসায়ীরা জানান, প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে অনেক ক্ষেতেই সবজি নষ্ট হয়ে গেছে। যা এখনো পুষিয়ে ওঠা সম্ভব হয়নি। এ কারণে সবজির দাম বেড়েছে।
এদিকে, বাজারে বাসমতি, মিনিকেট ও স্বর্ণা ধানের দাম মণপ্রতি গড়ে ১০০ টাকা বেড়েছে। গত সপ্তাহে নগরীর পাইকারি আড়ৎগুলোতে ৫০ কেজি ওজনের মোটা চালের বস্তা ছিল দুই হাজার টাকা। দাম বেড়ে বিক্রি হচ্ছে ২ হাজার ২৫০ টাকায়। এছাড়া, মিনিকেট ২ হাজার ২০০ থেকে বেড়ে দুই হাজার ৩০০ টাকা, স্বর্ণা ১ হাজার ৯০০ থেকে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২ হাজার টাকায়। দামের ঊর্ধ্বগতির জন্য খুচরা ও পাইকারি বিক্রেতারা দায় চাপাচ্ছেন মিল মালিকদের ওপর। তারা বলছেন, মিল থেকে মোটা চালের সরবরাহ কমে যাওয়ায় মোকামগুলোতে সংকট তৈরি হয়েছে। আর মিলাররা বলছেন, মোটা চালের ধান আবাদে কৃষকরা আগ্রহ হারিয়ে ফেলেছেন। তাই চিকন চালের ধান চাষে ঝুঁকে পড়েছেন চাষিরা। এ কারণে চাহিদা অনুযায়ী ধানের সরবরাহ তেমন মিলছে না।
নিত্যপণ্যের দামবৃদ্ধির বিষয়ে খুলনা জেলা বাজার কর্মকর্তা আব্দুস সালাম তরফদার বলেন, ‘ভারত থেকে পেঁয়াজ আসা বন্ধ, আমন ধানের চাল বাজারে না আসা, সবজি মৌসুম শেষ হওয়া ও বন্যায় ক্ষেতের সবজি নষ্ট হওয়ায় বাজারে নিত্যপণ্যের সরবরাহ কম। এ কারণে দামও বেড়েছে।’
খুলনা জেলা বাজার কর্মকর্তা আরও বলেন, ‘এ বিষয়ে মার্কেটিং অফিস জেলা প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে নিয়মিত বাজার মনিটরিং করছে। এছাড়া কেসিসি, ভোক্তা অধিকার ও টিসিবিও নিজ নিজ জায়গা থেকে তদারকি করছে। কেউ অতিরিক্ত দামে পণ্য বিক্রি করলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
প্রসঙ্গত, গত ২৯ সেপ্টেম্বর চালকল মালিকদের নিয়ে বৈঠক করে মাঝারি ও সরু চালের পাইকারি মূল্য নির্ধারণ করে দেয় খাদ্য মন্ত্রণালয়। সেই অনুযায়ী মিনিকেটের দাম কেজিতে ৫১ টাকা ৫০ পয়সা ও মাঝারি চালের দাম ৪৫ টাকা ধরা হয়। ৩০ সেপ্টেম্বর থেকে এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু এর কোনো প্রতিফলন খুলনায় দেখা যায়নি।









































