Home আঞ্চলিক খুলনার অর্ধশতাধিক হাসপাতাল-ক্লিনিক-ডায়াগনস্টিক সেন্টারকে স্বাস্থ্য বিভাগের রেড সিগন্যাল

খুলনার অর্ধশতাধিক হাসপাতাল-ক্লিনিক-ডায়াগনস্টিক সেন্টারকে স্বাস্থ্য বিভাগের রেড সিগন্যাল

31


সৈয়দ রানা কবীর
খুলনা মহানগরী ও জেলার ৫৩টি বেসরকারি হাসপাতাল, ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারকে রেড সিগন্যাল দিয়েছে স্বাস্থ্য বিভাগ। হাসপাতাল মালিকদের আগামী ৩০অক্টোবরের মধ্যে লাইসেন্স নবায়নের কাগজপত্র জমা দিতে বলা হয়েছে। ৩০ অক্টোবরের মধ্যে সংশ্লিষ্ট দফতরে নবায়নের কাগজপত্র জমা না দিলে প্রতিষ্ঠানগুলোকে পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়া হবে বলে হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।


খুলনা বিভাগীয় স্বাস্থ্য অধিদফতরের পরিচালক ডা. রাশেদা সুলতানা খুলনাঞ্চালকে জানান, গত জুলাই মাসে খুলনা মহানগরীতে অবস্থিত ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারগুলো পরিদর্শন করা হয়। পরিদর্শনে যে সব ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের অনুমোদন নবায়ন নেই বা কোনও আবেদন করেনি, তাদের আগামী ৩০ অক্টোবরের মধ্যে সংশ্লিষ্ট দফতরে নবায়নের জন্য সময়সীমা বেঁধে চিঠি দেওয়া হয়। এরপর কেউ ব্যর্থ হলে স্ব-স্ব ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের মালিককে চিঠির মাধ্যমে বন্ধ করে দেওয়ার ঘোষণা দেওয়া হবে বলে ওই চিঠিতে উল্লেখ করে দেওয়া হয়েছে।


খুলনা বিভাগীয় স্বাস্থ্য অধিদফতর ও খুলনা সিভিল সার্জন অফিস সূত্রে জানা গেছে, গত ১৬ জুলাই থেকে অনিবন্ধিত হাসপাতাল-ক্লিনিকের বিরুদ্ধে অভিযান শুরু হয়। ২৩ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত অভিযানে খুলনা জেলায় ১৯ বেসরকারি হাসপাতাল ও ৩৪ ডায়াগনস্টিক সেন্টারের নবায়ন নেই বলে জানাযায়। এছাড়া খুলনা বিভাগীয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের আওতাধীন খুলনা মহানগরীতে ২৩২টি ক্লিনিকের মধ্যে নবায়ন রয়েছে ৭০টি। লাইসেন্স নেই ৩৯টি ক্লিনিকের। লাইসেন্স আছে কিন্তু নবায়নের জন্য অনলাইনে আবেদন করেনি এমন সংখ্যা রয়েছে ১৪টি। এছাড়া ৪৫টি ক্লিনিক আবদন পরীক্ষা-নিরীক্ষার অপেক্ষায় রয়েছে।


খুলনা সিভিল সার্জন অফিস সূত্রে জানাগেছে, ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত খুলনার ৯ উপজেলায় লাইসেন্স নবায়নের আবেদন না করা ১৯টি ক্লিনিকের মধ্যে রয়েছে- দিঘলিয়া উপজেলার মধ্যে ফুলবাড়ীগেটে অবস্থিত মৈত্রি নার্সিং হোম, পেসেন্ট নার্সিং হোম, তেরখাদা উপজেলার মধ্যে ইন্দুরহাটী এলাকার পাতলা কমিউনিটি হাসপাতাল, সাচিয়াদাহে কমিউনিটি হাসপাতাল, কাটেঙ্গা বাজার এলাকায় স্বপ্ন সিঁড়ি প্রাইভেট হাসপাতাল লিমিটেড অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টার, রূপসা উপজেলার তিলক এলাকায় রেভা. আব্দুল ওয়াদুদ মেমোরিয়াল হাসপাতাল (১০০শয্যা), জাবুসা চৌরাস্তায় নাসির উদ্দিন মেমোরিয়াল হাসপাতাল, ডুমুরিয়া উপজেলার মিকশিল রোডে জনসেবা ক্লিনিক, চুকনগর বাজার এলাকায় চুকনগর সার্জিক্যাল ক্লিনিক অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক, বটিয়াঘাটা উপজেলার জিরো পয়েন্টে সুন্দরবন ক্লিনিক অ্যান্ড নার্সিং হোম, এম আর সেন্ট্রাল হাসপাতাল, হাটবাঢী এলাকায় সোনালী ক্লিনিক অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টার, পাইকগাছা উপজেলার সরল এলাকায় (নতুন) পলক ক্লিনিক অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টার, বাকা বাজার এলাকায় আশালতা ক্লিনিক অ্যান্ড তুলি ডায়াগনস্টিক সেন্টার, এম মনোয়ারা হাসাপাতাল, মনোয়ারা ক্লিনিক, কয়রা উপজেলার আমাদী এলাকায় পাইলট সার্জিক্যাল হাসপাতাল, মদিনাবাদ ১ নম্বর কয়রা এলাকায় সাগর নার্সিং হোম ও রায় ক্লিনিক।


খুলনা সিভিল সার্জন ডা. সুজাত আহমেদ বলেন, খুলনা জেলায় অবস্থিত যেসব ক্লিনিক বা ডায়াগনস্টিক সেন্টারের নবায়ন নেই তাদের ৩০ অক্টোবরের মধ্য সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে কারও কাগজপত্র জমা না হলে সেই প্রতিষ্ঠানকে চিঠির মাধ্যমে বন্ধ ঘোষণা করা হবে।


সংবাদ মাধ্যমে একাধিক অনিয়মের খবর প্রকাশ হওয়ার পর লাইসেন্সবিহীন হাসপাতালের বিরুদ্ধে অভিযানে নামে স্বা¯’্য বিভাগসহ সরকারি বিভিন্ন সংস্থা। অভিযানে বেসরকারি হাসপাতাল, ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারগুলোর বড় অংশেরই নিবন্ধন বিহীনসহ নানান অভিযোগ থাকার তথ্য প্রমাণ মিলেছে। আবার লাইসেন্স নবায়ন না করারও একাধিক তথ্য পাওয়া গেছে। স্বাস্থ্য ও পরিবরি কল্যাণ মন্ত্রণালয় গঠিত হাই পাওয়ার টাস্কফোর্সের সভায় সিদ্ধান্ত হওয়ার পর। এরই ধারাবাহিকতায় খুলনায় অভিযান শুরু হয়। গত ১৬ জুলাই থেকে শুরু হওয়া অভিযানে প্রয়োজনীয় চিকিৎসক ও নার্স না থাকা, অপরিচ্ছন্ন পরিবেশ ও কাগজপত্র না থাকায় নগরীর খানজাহান আলী রোডের মীম নার্সিং হোমকে বন্ধ করে দেওয়া হয়। তবে খুলনায় সঠিকভাবে অভিযান পরিচালিত হলে খুলনায় আরো একাধিক বেসরকারী হাসপাতাল, ক্লিনিক ও ডায়াগনিষ্ট সেন্টারের নানা রকম অনিয়ম বের হয়ে আসবে বলে খুলনার একাধিক নাগরিক নেতারা জানান।


নাগরিক নেতা এড. বাবুল হাওলাদার জানান, খুলনা ও তার আশেপাশের উপজেলায় একাধিক বেরসকারি হাসপাতাল , ক্লিণিক ও ডায়াগনিষ্টক সেন্টার আছে যেগুলো র্দীঘ দিন ঙাবত কিনা লাইসেন্স বিহীন ও অনভিঞ্জ র্নাস ও টেকানশিয়ান দিয়ে পরিচালিত হ”েছ। যে গুলো দেখার মত যেন কেউ নেই। উল্লেখ্য, খুলনা জেলায় সরকারী ভাবে একটি মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল, একটি জেলা সদর হাসপাতাল, ৯টি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এবং একটি সংক্রামক রোগ হাসপাতাল রয়েছে। এর পাশাপাশি, বিভিন্ন এলাকা ও উপজেলায় সরকারি ও বেসরকারি আরও প্রায় শতাধীক ক্লিনিক, কমিউনিটি ক্লিনিক, ডায়াগনস্টিক সেন্টার ও নার্সিং হোমও রয়েছে।