Home আলোচিত সংবাদ খুলনার রক্তাক্ত নয় মাস-কোথায় আইন-শৃঙ্খলার জবাবদিহি?

খুলনার রক্তাক্ত নয় মাস-কোথায় আইন-শৃঙ্খলার জবাবদিহি?

31


খুলনা, এক সময়ের শান্ত, সংস্কৃতিমনস্ক ও শিল্পনগরী-আজ পরিণত হয়েছে আতঙ্কের শহরে। নয় মাসে ৭৭টি হত্যাকাণ্ড, নদীতে ভেসে উঠছে অজ্ঞাত মৃতদেহ, সন্ধ্যা নামলেই শুরু হয় ছিনতাই, গুলিবর্ষণ, রক্তপাত-এমন চিত্রে খুলনাবাসীর জীবনযাত্রা এখন প্রতিদিনের ভয় আর উৎকণ্ঠায় জর্জরিত। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী দাবি করছে, বেশির ভাগ হত্যার রহস্য উদ্ঘাটন করা হয়েছে, অনেক অপরাধী ধরা পড়েছে। কিন্তু প্রশ্ন হলো-যদি সত্যিই উদ্ঘাটন ও গ্রেপ্তার হয়, তবে খুন বন্ধ হচ্ছে না কেন? নতুন নতুন ঘটনা ঘটছে কেন? হত্যাকারীদের যদি দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও বিচারের নিশ্চয়তা থাকত, তবে কি অপরাধীরা এতটা বেপরোয়া হতে পারত?


খুলনায় আধিপত্য বিস্তার, মাদক ব্যবসা, চাঁদাবাজি, নারী সংক্রান্ত বিবাদ-এসব কারণ দেখিয়ে দায় এড়ানো এখন নিয়মে পরিণত হয়েছে। কিন্তু প্রকৃত কারণ অনেক গভীরে। প্রশাসনের অভ্যন্তরে দুর্বলতা, রাজনৈতিক আশ্রয়-প্রশ্রয়, এবং আইনের শাসনের অভাবই খুলনার এই রক্তাক্ত বাস্তবতার মূল উৎস। কিছু রাজনৈতিক গোষ্ঠীর ছত্রছায়ায় অপরাধীরা বেপরোয়া হয়ে উঠছে— অথচ আইনশৃঙ্খলা বাহিনী অনেক সময় নীরব দর্শক মাত্র।


খুলনার মানুষ শান্তিপ্রিয়। তারা উন্নয়ন চায়, নিরাপত্তা চায়, কিন্তু তার বিনিময়ে প্রতিদিন রক্তের দাগ দেখতে চায় না। দিনের বেলায় প্রকাশ্যে খুনের ঘটনা কেবল অপরাধ নয়, রাষ্ট্রের ব্যর্থতার প্রতীকও বটে। সন্ধ্যার পর নগরীতে বের হতে সাহস না পাওয়া নাগরিকদের নিরাপত্তাহীনতা গণতন্ত্র ও মানবাধিকারের পরিপন্থী।


খুলনার পুলিশ প্রশাসন এখন কঠিন পরীক্ষার মুখে। শুধুমাত্র অপরাধী ধরলেই দায়িত্ব শেষ নয়-বরং নাগরিক আস্থা ফিরিয়ে আনাই এখন তাদের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। একই সঙ্গে রাজনৈতিক দলগুলোরও আত্মসমালোচনার সময় এসেছে। অপরাধীদের পৃষ্ঠপোষকতা দিয়ে কোনো দল দীর্ঘমেয়াদে টিকে থাকতে পারে না।


আমরা খুলনার নাগরিক হিসেবে দাবি জানাই-দ্রুত একটি নিরপেক্ষ তদন্ত কমিটি গঠন করে সাম্প্রতিক হত্যাকাণ্ডগুলোর পেছনের মূল নেটওয়ার্ক উন্মোচন করা হোক। প্রতিটি হত্যাকাণ্ডের বিচারে স্বচ্ছতা ও গতি ফিরিয়ে আনতে হবে। খুলনা যেন আবারও শান্তির শহর হয়ে ওঠে, সে দায়িত্ব শুধু পুলিশের নয়-সমাজের প্রতিটি সচেতন নাগরিকেরও। খুলনা আর কত রক্ত দেখবে? এই প্রশ্নের জবাব এখন সময়ের কাছে নয়-আমাদের কাছেই।