Home আঞ্চলিক নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করে নিল খুমেক হাসপাতাল, ৪৮ ঘন্টার মধ্যে ক্ষমা প্রার্থনার...

নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করে নিল খুমেক হাসপাতাল, ৪৮ ঘন্টার মধ্যে ক্ষমা প্রার্থনার দাবি সাংবাদিকদের

35


স্টাফ রিপোর্টার।।

কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া খুলনা মেডিকেল কলেজ (খুমেক) হাসপাতালে কোনো সাংবাদিক প্রবেশ করতে পারবেন না বলে জারি করা নির্দেশনা প্রত্যাহার করে নিয়েছেন পরিচালক ডা. কাজী মো. আইনুল ইসলাম। তবে দুই চিঠিই ইস্যু করার তারিখ লেখা রয়েছে ৯ আগস্ট। নির্দেশনা জারির বিষয়টি গতকাল শনিবার এবং প্রত্যাহারের বিষয়টি আজ রোববার জানাজানি হয়।

এদিকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের বিষয়টি জানাজানির আগে খুমেক হাসপাতালের পরিচালকের আদেশ চ্যালেঞ্জ করে লিগ্যাল নোটিশ পাঠিয়েছেন খুলনা টিভি রিপোর্টার্স ইউনিটির সভাপতি আবু হেনা মোস্তফা জামাল। আইনজীবী বাবুল হাওলাদারের মাধ্যমে পরিচালকের কাছে পাঠানো নোটিশে বলা হয়েছে, এমন আদেশ জারি স্পষ্টত আইনের লঙ্ঘন।

গত বৃহস্পতিবার খুমেক হাসপাতালের পরিচালক ডা. কাজী মো. আইনুল ইসলামের স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে উল্লেখ করা হয়, ‘পরিচালকের অনুমতি ছাড়া কিছু মিডিয়াকর্মী হাসপাতালের ভেতরে রোগীদের ছবি তুলছেন, যা কাম্য নয়। এতে রোগী এবং চিকিৎসক উভয়ই হয়রানির শিকার হচ্ছেন। হাসপাতালে রোগীদের স্বাভাবিক চিকিৎসাসেবা ব্যাহত হচ্ছে।’

নির্দেশনার বিষয়টি জানাজানি হলে খুলনার সাংবাদিকদের মাঝে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। গণমাধ্যমেও এ নিয়ে সংবাদ প্রকাশিত হয়। পরে আজ জানা যায়, খুমেক হাসপাতাল পরিচালক আরেকটি চিঠিতে আগের আদেশ প্রত্যাহার করেছেন। তবে এই চিঠিতেও ইস্যুর তারিখ ৯ অক্টোবর।

প্রত্যাহার আদেশে পরিচালক উল্লেখ করেন, ‘এতদ্বারা একই তারিখ ও স্মারকের স্বপক্ষে সকলের অবগতির জন্য জানানো যাচ্ছে যে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ৫০০ শয্যায় দৈনিক ২০০০ রোগী চিকিৎসাসেবা নেওয়ায় নিরবচ্ছিন্নভাবে সেবা দেওয়া প্রয়োজন। এমতাবস্থায় পরবর্তীতে অফিস চলাকালীন সময়ে পরিচালক মহোদয়/কর্তব্যরত চিকিৎসক/দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা/সংশ্লিষ্ট চিকিৎসককে অবহিত করে এবং অফিস সময়ের পূর্বে ও পরে কর্তব্যরত চিকিৎসককে অবহিত করে এবং সাংবাদিকতার ইথিক্স মেনে সাংবাদিক ও অন্যান্য মিডিয়া ব্যক্তিত্বের সংবাদ সংগ্রহ করার জন্য অনুরোধ করা হলো।’


এদিকে খুমেক হাসপাতালের পরিচালকের কর্মকাণ্ডের প্রতিবাদে আজ সন্ধ্যায় খুলনা প্রেসক্লাবে প্রতিবাদ সভা হয়। সভায় খুমেক হাসপাতাল পরিচালককে ৪৮ ঘন্টার মধ্যে ক্ষমা প্রার্থনা ও চিঠি প্রত্যাহারের দাবি জানান সাংবাদিকরা।

খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে সাংবাদিকদের পেশাগত দায়িত্ব পালন নিয়ে পরিচালক ডা. কাজী মো. আইনুল ইসলাম স্বাক্ষরিত অফিস আদেশ দিয়ে পর পর দুটি চিঠি জারিতে গভীর উদ্বেগ ও ক্ষোভ প্রকাশ করছেন খুলনার সাংবাদিক নেতৃবৃন্দ। গত  ৯ ও ১০ অক্টোবর’২৫ এ দুটি চিঠি প্রকাশ করা হয়। সাংবাদিক নেতারা এ ধরণের আদেশ গণমাধ্যমের স্বাধীনতায় সরাসরি হস্তক্ষেপ এবং সুষ্ঠু, স্বাধীন ও নিরপেক্ষ সাংবাদিকতার প্রতি একপ্রকার হুমকি বলে অভিহিত করেন। তারা বলেন, এ আদেশ শুধু সাংবাদিকদের দায়িত্ব পালনে বাধা সৃষ্টি করবে না, বরং জনস্বার্থ সংশ্লিষ্ট অনেক গুরুত্বপূর্ণ তথ্যের প্রবাহও বাধাগ্রস্ত করবে, যা একটি গণতান্ত্রিক সমাজে একেবারেই অগ্রহণযোগ্য। এছাড়াও তিনি দ্বিতীয় আদেশে সাংবাদিকদের ইথিক্স মেনে ও সময় নির্ধারণ করে সাংবাদিকতা করার জন্য বলেছেন। তিনি একটি সরকারি হাসপাতালের পরিচালক হয়ে সাংবাদিকদের সাংবাদিকতার ইথিক্স মেনে চলার অফিস আদেশ দিতে পারেন কি না? সেটাও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে খতিয়ে দেখা উচিত।   খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক মূলত: এ ধরণের আদেশে জনসম্পৃক্ত হাসপাতালের তথ্য সংগ্রহ, সাক্ষাৎকার বা এ ধরণের কর্মকাÐকে নিরুসাহিত করেছেন। যা স্বাধীন মতপ্রকাশ ও তথ্য জানার অধিকারকে বাধাগ্রস্ত করবে। তাই আগামী ৪৮ ঘন্টার মধ্যে হাসপাতাল পরিচালককে ওই অফিস আদেশ প্রত্যাহার ও নি:শর্ত ক্ষমা প্রার্থনা করতে হবে।

রবিবার সন্ধ্যায় খুলনা প্রেসক্লাবের উদ্যোগে ক্লাবের হুমায়ূন কবির বালু মিলনায়তনে খুমেক হাসপাতালে সাংবাদিকদের কর্মকাÐে বিধিনিষেধ বিষয়ে কর্মরত সাংবাদিক ও সাংবাদিক সংগঠনের মতবিনিময় সভায় বক্তারা এসব দাবি জানিয়েছেন। খুলনা প্রেসক্লাবের আয়োজনে অনুষ্ঠিত এই সভায় সভাপতিত্ব করেন ক্লাবের আহবায়ক এনামুল হক। সভা পরিচালনা করেন ক্লাবের সদস্য সচিব রফিউল ইসলাম টুটুল। সভায় বক্তৃতা করেন খুলনা প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি এস এম হাবিব, খুলনা প্রেসক্লাবের নির্বাহী সদস্য ও দৈনিক খুলনাঞ্চল পত্রিকার সম্পাদক মোঃ মিজানুর রহমান মিলটন, ক্লাবের নির্বাহী সদস্য আশরাফুল ইসলাম নূর, ক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক হাসান আহমেদ মোল্লা, দৈনিক প্রবর্তন পত্রিকার সম্পাদক মো. মোস্তফা সরোয়ার, ক্লাব সদস্য মো. রাশিদুল ইসলাম, আবুল হাসান হিমালয়,  মো. হেদায়েত হোসেন মোল্লা, আব্দুর রাজ্জাক রানা,  অভিজিৎ পাল ও বেল্লাল হোসেন সজল প্রমুখ।

এ সময়  উপস্থিত ছিলেন ক্লাব সদস্য দেবব্রত রায়, কাজী শামিম আহমেদ, মো. হুমায়ুন কবীর, মো. আমিরুল ইসলাম, শেখ শামসুদ্দীন দোহা, কামরুল হোসেন  মনি। এছাাড়াও উপস্থিত ছিলেন সাংবাদিক রফিক আলী, মাশরুর মুর্শেদ, জি এম রাসেল, এস রুহুল আমিন, ওবায়দুর রহমান পলাশ প্রমুখ।