Home আঞ্চলিক ভিত্তিহীন অভিযোগে বদলি চিকিৎসক, উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অপপ্রচারে সরব

ভিত্তিহীন অভিযোগে বদলি চিকিৎসক, উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অপপ্রচারে সরব

13

ইলিয়াস হোসেন,তালা(সাতক্ষীরা)::
সাতক্ষীরার তালা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দায়িত্বপালনকারী আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডাঃ খালিদ হাসান নয়নের বিরুদ্ধে আচরণগত অভিযোগ ও দুর্নীতির অভিযোগ তুলে সম্প্রতি কিছু সংবাদ প্রকাশ পেয়েছে। এসব সংবাদের ভিত্তিতে তাকে শার্শা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে বদলি করা হয়েছে বলে উল্লেখ করা হলেও, প্রকৃতপক্ষে এটি স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের একটি রুটিন বদলি আদেশ— যার সঙ্গে কোনো তদন্ত প্রতিবেদন, অভিযোগপত্র কিংবা লিখিত প্রমাণ নেই।

স্থানীয় স্বাস্থ্যসেবা গ্রহণকারী সাধারণ মানুষ ও চিকিৎসা সংশ্লিষ্ট কর্মীরা এই বদলিকে ঘিরে ছড়ানো গুজব ও অপপ্রচারে বিস্ময় প্রকাশ করেছেন। তাদের দাবি, ডাঃ নয়ন দীর্ঘদিন তালা হাসপাতালে নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেছেন। হাসপাতালে তাঁর উপস্থিতি, রোগী সেবা, ওয়ার্ড তদারকি, ওষুধ সরবরাহের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করাসহ নানা কাজে তিনি ছিলেন অগ্রণী। তার বদলির খবরে যেমন সাধারণ মানুষের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে, তেমনি একটি চক্র এতে উল্লসিত হয়ে উঠেছে, যারা হাসপাতালের পুরনো ‘চলমান অনিয়ম’ ফিরে পাওয়ার আশায় ছিল।

অভিযোগে বলা হয়, তার বিরদ্ধে ব্যক্তিগত আচারণগত বিষয়াধি নিয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তার সঙ্গে বিরোধে জড়ান। অথচ এই বিষয়ে আচারণগত অভিযুক্ত কোনো বক্তব্য বা লিখিত অভিযোগ নেই। এমনকি স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকেও এখন পর্যন্ত এ ধরনের কোনো প্রাথমিক তদন্ত বা অনুসন্ধান প্রকাশ করা হয়নি। বদলির আদেশে কোথাও এ ধরনের অভিযোগ বা তদন্তের কথা উল্লেখ করা হয়নি। তা সত্ত্বেও এক শ্রেণির গণমাধ্যম কর্মী ও সামাজিক মাধ্যমে সক্রিয় কয়েকটি অ্যাকাউন্ট ‘আচরণগত অভিযোগ’ শব্দটি ব্যবহার করে একধরনের চরিত্রহননের প্রচারণা চালাতে থাকে।

ডাঃ খালিদ হাসান নয়ন বলেন, “আমার বদলি একটি প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার অংশ। তবে যেভাবে আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ ছড়িয়ে সামাজিকভাবে হেয় করার চেষ্টা চলছে, তা অত্যন্ত দুঃখজনক। আমি কখনোই কোনো অনৈতিক কাজে জড়িত ছিলাম না। এটি একধরনের মানসিক হয়রানি।”

স্থানীয় কয়েকজন চিকিৎসা সহকারী, রোগী এবং স্বাস্থ্যকর্মীদের ভাষ্য— নয়ন স্যার হাসপাতালে নিয়মিত ডিউটি করতেন, রাতেও ওয়ার্ডে গিয়ে রোগীদের খোঁজ নিতেন, যা তালা হাসপাতালের জন্য একেবারে বিরল একটি দৃষ্টান্ত ছিল। তার দায়িত্ব পালনের কারণে ওষুধ সরবরাহ, রোগী সেবা এবং কর্মীদের মাঝে শৃঙ্খলা ফিরেছিল। এখন এই অপপ্রচারের পর তিনি চলে গেলে আবার সেই পুরনো নৈরাজ্য ফিরে আসার আশঙ্কা করছেন অনেকে।

অভিযোগের পেছনে থাকা উদ্দেশ্য নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন সচেতন নাগরিকরা। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তি হাসপাতালে নিজের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতে গিয়ে ডাঃ নয়নকে বাধা মনে করতেন। তার নীতিগত অবস্থান ও অনিয়মের বিরুদ্ধে অবস্থানের কারণেই তার বিরুদ্ধে এই কুৎসা রটানো হয়েছে।

চিকিৎসক সমাজের মতে, যদি কোনো কর্মকর্তা বা চিকিৎসকের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ থাকে, তাহলে সেটি তদন্তযোগ্য ও প্রমাণসাপেক্ষ বিষয়। কিন্তু শুধুমাত্র গুজব, অনুমান ও ‘নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক’ সূত্রের ওপর ভিত্তি করে সংবাদ পরিবেশন সাংবাদিকতা নয়, বরং তা ব্যক্তিস্বার্থে পরিচালিত প্রতিহিংসার অংশ।

এ ঘটনায় এখন প্রশ্ন উঠছে— একজন সৎ, জনপ্রিয় চিকিৎসককে অপবাদ দিয়ে সরিয়ে দেওয়ার পেছনে আসল উদ্দেশ্য কী? এভাবে দায়িত্ববান কর্মকর্তাদের টার্গেট করলে সরকারি হাসপাতালগুলোতে কে আর নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করতে আগ্রহী হবে?

সচেতন নাগরিক সমাজ ও সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকরা অবিলম্বে এই ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত এবং অপপ্রচারকারীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছে।