Home আঞ্চলিক ঋণের বোঝা ও বনদস্যুদের শঙ্কা নিয়ে সাগরে যাওয়ার প্রস্তুতি: নৌকা ও জাল...

ঋণের বোঝা ও বনদস্যুদের শঙ্কা নিয়ে সাগরে যাওয়ার প্রস্তুতি: নৌকা ও জাল গোছাতে ব্যস্ত পাইকগাছার জেলেরা

0


পাইকগাছা (খুলনা) প্রতিনিধি।।

কেউ নৌকা মেরামত করছেন, কেউ দিচ্ছেন আলকাতরা, কেউ সেলাই করছেন জাল, কেউবা শুকাতে দিচ্ছেন আলকাতরা মাখানো জাল ও টানাটানি করছেন লোহার কাছি নিয়ে। এভাবেই সাগরে মাছ ধরতে যাওয়ার প্রয়োজনীয় উপকরণ গোছাতে খুলনার পাইকগাছার প্রতিটি জেলেপল্লীতে ব্যস্ত সময় পার করছেন মৎস্যজীবীরা। এক সপ্তাহ পর ৩০ অক্টোবর থেকে সাগরে যাবেন এখানকার জেলেরা। চলতি মৌসুমে এ উপজেলা থেকে প্রায় ৫ শতাধিক নৌকা সাগরে যাওয়ার প্রস্তুতি নিয়েছে বলে জানা গেছে।

মাছ ধরার জন্য ৫ থেকে ৬ মাস সাগরে অবস্থান করেন জেলেরা। এজন্য নৌকা প্রতি ১৫ থেকে ২০ লাখ টাকা পুঁজির প্রয়োজন হয়, যার বেশিরভাগই এনজিওর ঋণ এবং মহাজনের চড়া সুদের ওপর নির্ভরশীল। এই ঋণের বোঝা মাথায় নিয়েই সাগরে যাওয়ার প্রস্তুতি সম্পন্ন করছেন তারা। তবে প্রাকৃতিক দুর্যোগ, বনদস্যুদের অত্যাচার এবং পারমিট নেওয়ার ক্ষেত্রে বন কর্মকর্তাদের বাড়তি টাকা দিতে হওয়ার মতো নানা শঙ্কার কথা প্রকাশ করেছেন জেলেরা।

আগামী ২৯ অক্টোবর শেষ হচ্ছে ইলিশ প্রজনন মৌসুমের সরকারি নিষেধাজ্ঞা। নিষেধাজ্ঞা শেষ হলেই ৩০ অক্টোবর সাগরের উদ্দেশ্যে রওনা হবেন তারা। প্রতিবছরের মতো এবারও সুন্দরবন সংলগ্ন পাইকগাছার বোয়ালিয়া, বাঁকা, কাটিপাড়া, রাড়ুলী, মাহমুদকাটী, নোয়াকাটী, কাশিমনগর ও আগড়ঘাটা জেলেপল্লী থেকে ৫ শতাধিক নৌকা সাগরে যাওয়ার প্রস্তুতি নিয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি নৌকা যায় বোয়ালিয়া হিতামপুর থেকে। জাল-দড়ি সেলাই, নৌকা মেরামত ও আলকাতরা মাখানোসহ চাল-ডাল গুছিয়ে নিতে দিন-রাত কাজ করছেন জেলে পরিবারের সদস্যরা।

বোয়ালিয়া জেলেপল্লীর সুবোল বিশ্বাস বলেন, সাগরে যাওয়ার জন্য প্রতিটি নৌকার অনুকূলে ১৫ থেকে ২০ লাখ টাকার পুঁজির প্রয়োজন হয়। এত টাকা আমাদের কারও কাছে থাকে না। এসব টাকা এনজিওর ঋণ এবং মহাজনের কাছ থেকে চড়া সুদে সংগ্রহ করতে হয়। এ কারণে সাগরে কাঙ্ক্ষিত মাছ আহরণ করতে না পারলে সামাজিকভাবে ও আর্থিকভাবে অনেক ক্ষতিগ্রস্ত হতে হয়।

সঞ্জয় বিশ্বাস নামের এক জেলে বলেন, ইলিশ প্রজনন মৌসুমকে কেন্দ্র করে সরকারি নিষেধাজ্ঞার সময় কমপক্ষে ১৫ দিন এগিয়ে নেওয়া হলে আমরা আগেভাগে সাগরে যেতে পারতাম, এতে মৎস্যজীবীরা অনেক লাভবান হতো।

বাঁকা এলাকার বিমল বিশ্বাস অভিযোগ করে বলেন, প্রাকৃতিক দুর্যোগ এবং বনদস্যুদের অত্যাচারসহ নানা শঙ্কা নিয়ে আমাদের সাগরে যেতে হয়। এর মধ্যে বন বিভাগের পারমিট নেওয়ার জন্য বন কর্মকর্তাদের বাড়তি টাকা দিতে হয়। নৌকা প্রতি ৩ থেকে ৫ হাজার টাকা দিতে হয়। এ ছাড়া মাছের ট্রলার নিয়ে যাওয়ার সময় ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত দিতে হয় বলে অভিযোগ করেন আরও অনেকে।

এসব অভিযোগ প্রসঙ্গে সুন্দরবন পশ্চিম বন বিভাগ খুলনার বিভাগীয় বন কর্মকর্তা এ জেড এম হাছানুর রহমান বলেন, সুন্দরবন পশ্চিম বন বিভাগ শুধুমাত্র সুন্দরবনের অভ্যন্তরীণ পাস দিয়ে থাকে। অতএব এখানে এ ধরনের কোন সুযোগ নেই।

সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগ বাগেরহাটের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা রেজাউল করিম চৌধুরী জানান, পূর্ব বন বিভাগের অফিসে কোনো টাকা দেওয়ার প্রয়োজন হয় না। এখানে কোনো কর্মকর্তা এ ধরনের টাকা নেন না। অন্য কোথাও অন্য কেউ নিয়ে থাকলে সেটা আমার জানা নেই।

অনিয়ম, হয়রানি, অত্যাচার ও নির্যাতন বন্ধ হয়ে সব ধরনের শঙ্কমুক্ত পরিবেশে জেলেরা যেন সাগরে মাছ ধরতে পারেন-এমনটাই প্রত্যাশা স্থানীয়দের।