Home স্বাস্থ্য প্রস্টেট ক্যানসারের লক্ষণ এবং রোগ প্রতিরোধে করণীয়

প্রস্টেট ক্যানসারের লক্ষণ এবং রোগ প্রতিরোধে করণীয়

5


ডা. মো. ইয়াকুব আলী।।

পুরুষের মধ্যে যত ধরনের ক্যানসার দেখা যায়, প্রস্টেট ক্যানসার তার মধ্যে অন্যতম। এর প্রকৃতি বিভিন্ন রকম হতে পারে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে ধীর-গতিতে বাড়ে। আবার কোনো কোনো ক্ষেত্রে এটি অত্যন্ত আক্রমণাত্মক রূপ ধারণ করে এবং দ্রুত আশপাশের টিস্যু ও অঙ্গে ছড়িয়ে পড়ে।

প্রাথমিক লক্ষণ : শুরুতে খুব স্পষ্টভাবে ধরা পড়ে না। যখন লক্ষণ প্রকাশ পায়, তখন সাধারণত প্রস্রাবের সঙ্গে তা সম্পর্কিত হয়ে থাকে। তখন প্রস্রাবে জ্বালাপোড়া অনুভূত হওয়া, প্রস্রাবের গতি কমে যাওয়া বা দুর্বল হয়ে যাওয়া, প্রস্রাবের পরও অসম্পূর্ণতা অনুভব করা, প্রস্রাবের সঙ্গে রক্ত মিশে যাওয়া কিংবা শুক্রাণুর সঙ্গে রক্ত নিঃসরণ হওয়া, তলপেটে চাপ বা ব্যথা অনুভব করা, এমনকি মেরুদ- বা কোমরের হাড়ব্যথা হওয়াও এর একটি লক্ষণ হতে পারে।

উল্লিখিত লক্ষণগুলো দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। বয়স এ রোগের একটি প্রধান ঝুঁকিপূর্ণ উপাদান। সাধারণত ৬৫ বছরের পর এই রোগের আশঙ্কা অনেক বেড়ে যায়। যাদের পরিবারে, বিশেষ করে ঘনিষ্ঠ আত্মীয়দের (যেমনÑবাবা, ভাই) মধ্যে কেউ এই ক্যানসারে আক্রান্ত হয়েছেন, তাদের ক্ষেত্রেও প্রস্টেট ক্যানসারের ঝুঁকি তুলনামূলক বেশি। এ ক্যানসার শরীরের অন্য অংশে ছড়িয়ে পড়তে পারে। প্রাথমিক অবস্থায় এটি প্রস্টেট গ্রন্থিতে সীমাবদ্ধ থাকে। তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এটি আশপাশের অঙ্গপ্রত্যঙ্গে ছড়িয়ে পড়ে এবং রক্ত কিংবা লসিকা রসের মাধ্যমে শরীরের বিভিন্ন স্থানে, (হাড় বা লিভারে) পৌঁছে যেতে পারে। একবার শরীরের অন্যত্র ছড়িয়ে পড়লে একে সম্পূর্ণভাবে নির্মূল করা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ে। তবে উপযুক্ত চিকিৎসা পদ্ধতি অনুসরণ করে এটিকে নিয়ন্ত্রণে রাখা যায়।

পরীক্ষা : প্রস্টেট ক্যানসার নির্ণয়ে প্রাথমিকভাবে চিকিৎসক আঙুল দিয়ে প্রস্টেট পরীক্ষা করেন, যাকে বলা হয় উরমরঃধষ জবপঃধষ ঊীধসরহধঃরড়হ (উজঊ)। এর পাশাপাশি চঝঅ (চৎড়ংঃধঃব-ঝঢ়বপরভরপ অহঃরমবহ) নামক একটি রক্ত পরীক্ষা করা হয়, যা প্রস্টেট ক্যানসার শনাক্তে সহায়ক। যদি এ পরীক্ষাগুলোর মাধ্যমে ক্যানসারের সন্দেহ তৈরি হয়, তবে প্রস্টেট গ্রন্থি থেকে একটি ছোট টিস্যু নমুনা বা বায়োপসি নেওয়া হয় এবং তা ল্যাবরেটরিতে বিশ্লেষণ করা হয়। ক্যানসার ছড়িয়ে পড়েছে কিনা, তা বুঝতে আরও কিছু উন্নততর ইমেজিং পরীক্ষা করা হয় (আল্ট্রাসাউন্ড, বোন স্ক্যান, সিটি স্ক্যান, এমআরআই)। এসব পরীক্ষার মাধ্যমে রোগটির স্টেজ নির্ধারণ করা হয়, যা পরবর্তী চিকিৎসা পরিকল্পনা নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

চিকিৎসা : চিকিৎসা নির্ভর করে রোগের অগ্রগতি, বয়স, শারীরিক সক্ষমতা এবং ক্যানসারের ধরন ও বিস্তারের ওপর। যদি দেখা যায়, ক্যানসার সীমিত পর্যায়ে রয়েছে, তবে সার্জারির মাধ্যমে পুরো প্রস্টেট গ্রন্থি অপসারণ করা হতে পারে। এ সার্জারির মাধ্যমে ক্যানসার কোষগুলো কেটে ফেলা হয়। আবার অনেক ক্ষেত্রে রেডিয়েশন থেরাপি দেওয়া হয়। এর বাইরে হরমোন থেরাপি একটি গুরুত্বপূর্ণ চিকিৎসা পদ্ধতি, বিশেষ করে যখন ক্যানসার ছড়িয়ে পড়েছে। এ থেরাপির উদ্দেশ্য হলো, পুরুষ হরমোন টেস্টোস্টেরনের মাত্রা কমানো। কারণ এ হরমোন ক্যানসার কোষ বৃদ্ধিতে সহায়ক। কিছু ক্ষেত্রে কেমোথেরাপির মাধ্যমে ক্যানসার কোষ ধ্বংসকারী ওষুধ প্রয়োগ করে কোষগুলো ধ্বংস করা হয়। এটি কেবল রোগ নিরাময়ের উদ্দেশ্যে নয়, বরং প্যালিয়েটিভ কেমোথেরাপি হিসেবেও দেওয়া যেতে পারে, যেখানে মূল লক্ষ্য থাকে রোগীর কষ্ট লাঘব করা এবং জীবনমান কিছুটা উন্নত করা।

লেখক : রেডিয়েশন ও মেডিক্যাল অনকোলজিস্ট এবং অধ্যাপক ও প্রধান, অনকোলজি বিভাগ, এনাম মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতাল, সাভার, ঢাকা

চেম্বার : আল-রাজি হাসপাতাল, ফার্মগেট, ঢাকা। ০১৭৪৫৩৪৯৪১০