Home আঞ্চলিক দুর্গাপূজা শুধু হিন্দু সম্প্রদায়ের উৎসব নয়, এটি দেশের সামগ্রিক সংস্কৃতির অংশ: বকুল

দুর্গাপূজা শুধু হিন্দু সম্প্রদায়ের উৎসব নয়, এটি দেশের সামগ্রিক সংস্কৃতির অংশ: বকুল

15

সনাতন ধর্মলম্বী, খুলনা পূজা উদযাপন কমিটি ও মহানগর পূজা উদযাপন ফ্রন্টের সাথে মতবিনিময়

।। খবর বিজ্ঞপ্তি।।
দুর্গাপূজা শুধু হিন্দু সম্প্রদায়ের উৎসব নয়, এটি দেশের সামগ্রিক সংস্কৃতির অংশ উল্লেখ করে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) ছাত্র বিষয়ক সম্পাদক রকিবুল ইসলাম বকুল বলেছেন, বিএনপি জনগণের রাজনীতি করে, ক্ষমতার নয়। সনাতন সম্প্রদায়কে রাজনৈতিক পুঁজি হিসেবে ব্যবহার করার যে প্রবণতা আছে তা থেকে সরে আসতে হবে। এ দেশের প্রতিটি নাগরিকই সমান অধিকারের ভিত্তিতে দাঁড়াবে। বিএনপি প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ গড়ার রাজনীতিতে বিশ্বাসী। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদের মাধ্যমে সব সম্প্রদায়ের মানুষকে ঐক্যবদ্ধ করেছিলেন। তারেক রহমানও সেই আদর্শেই এগোচ্ছেন।


রবিবার (২১ সেপ্টেম্বর) বিকাল ৩টায় নগরীর একটি অভিজাত হোটেলে শারদীয় দুর্গা উৎসব উপলক্ষে সনাতন ধর্মলম্বী ও খুলনা পূজা উদযাপন কমিটি, মহানগর পূজা উদযাপন ফ্রন্টের নেতৃবৃন্দের সঙ্গে খুলনা মহানগর বিএনপির মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। তিনি আরও আশ্বস্ত করেন, বিএনপি রাষ্ট্রক্ষমতায় না গেলেও জনগণের পাশে আছে, ভবিষ্যতেও থাকবে। জনগণ যদি বিএনপিকে রায় দেয়, তাহলে তারেক রহমানের নেতৃত্বে বৈষম্যহীন, অসাম্প্রদায়িক ও আধুনিক বাংলাদেশ গড়বো। নতুন বাংলাদেশে ‘মাইনরিটি’ শব্দের কোনো স্থান থাকবে না। এই দেশে জন্ম নিলে কিংবা মৃত্যুবরণ করলে সবাই বাংলাদেশী। মুসলমান বা হিন্দু-কেউ আলাদা করে বাড়তি সুবিধা নেবে না।

সবাই সমান অধিকার, স্বাধীনতা ও নিরাপত্তা ভোগ করবে। সনাতন সম্প্রদায়ের উদ্দেশ্যে বকুল বলেন, আপনারা কারও ব্যক্তিগত সম্পত্তি নন, কোনো দলের পুঁজি নন। আপনাদেরকে ব্যবহার হতে দেওয়া যাবে না। দেশের নাগরিক হিসেবে আপনাদের অধিকার আছে-সমানভাবে সমাজে দাঁড়াতে হবে। অতীতে বিভিন্ন সময়ে সনাতন সম্প্রদায়কে রাজনৈতিকভাবে ব্যবহার করা হয়েছে। এর ফলে সাধারণ মানুষ নয়, বরং কেবল কুচক্রী মহলই লাভবান হয়েছে। কিছু এলাকায় হামলা ও লুটপাটের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, যারা এসব ঘটনার সঙ্গে জড়িত, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে। সে যদি বিএনপির লোকও হয়, তার শাস্তি দ্বিগুণ হবে। তিনি প্রতিশ্রুতি দেন, দলের নাম ভাঙিয়ে কেউ অপকর্ম করলে তাকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে সোপর্দ করা হবে। রকিবুল ইসলাম বকুল বলেন, গণতান্ত্রিক সরকার ছাড়া কোনো সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়।

আর গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার একমাত্র পথ হলো অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন। আগামী ফেব্রুয়ারিতেই জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়া উচিত, যাতে জনগণ ভোটের উৎসব পালন করতে পারে। একটি মহল ষড়যন্ত্র করছে, কীভাবে ফেব্রুয়ারির ভোট বানচাল করা যায়। আপনারা চোখ-কান খোলা রাখবেন, ষড়যন্ত্রকারীদের সুযোগ দেবেন না। যেখানেই অন্যায়, সেখানেই প্রতিরোধ। যত বড় মাস্তান বা নেতা হোক না কেন, অন্যায়ের শাস্তি হবেই। তবে শর্ত হলো-আমাদের ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। তিনি ব্যবসায়ী মহলকে ভয়মুক্ত পরিবেশে কাজ করার আহ্বান জানান এবং প্রশাসনের কাছে সবার সঙ্গে সমান আচরণ নিশ্চিত করার দাবি জানান। বক্তৃতার শেষাংশে বিএনপির এই নেতা বলেন, আমরা জনগণের পাশে ছিলাম, আছি এবং থাকব। আমাদের স্বপ্ন-তারেক রহমানের নেতৃত্বে একটি বৈষম্যহীন, অসাম্প্রদায়িক, আধুনিক বাংলাদেশ গড়া।


খুলনা মহানগর বিএনপির সভাপতি এড. শফিকুল আলম মনার সভাপতিত্বে মতবিনিময় সভা সঞ্চালনা করেন খুলনা মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শফিকুল আলম তুহিন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন, মহানগর পূজা উদযাপন কমিটির সভাপতি শ্যামল হালদার, সাধারণ সম্পাদক প্রশান্ত কুন্ডু, গোপী কিষণ মুন্, মাধব চন্দ্র রুদ্র, তিলক গোস্বামী, বিশ্বজিৎ দে মিঠু, রতন কুমার নাথ, উজ্জ্বল ব্যানার্জি, অরুণ রায় শিবু, প্রদীপ সাহা মদন, অলক দে, রবীন দাস, এ্যাড বিজন কৃষ্ণ মন্ডল, এ্যাড সমীর কুমার ঘোষ, অধ্যাপক পরিতোষ কুমার চৌধুরী, বিপ্লব সাহা, ভবেশ সাহা, বিকাশ সাহা মদন, বিপ্লব মিত্র, রামচন্দ্র পোদ্দার, রজত কান্তি দাস, দীপক দাস, তিলক কুমার গৌস্বামী, প্রকাশ অধিকারী, দুলাল সরকার, সুভাষ দত্ত, ডা. রঞ্জন রায়, আশীষ কবিরাজ, শেখর পাল, শিবু সাহা, গৌরাঙ্গ সাহা, নুপুর দাস, বিমল সাহা, রবিন দাস, প্রবীর বিশ্বাস,

খুলনা মহানগর পূজা উদযাপন ফন্ট সভাপতি ডাঃ প্রদীপ দেবনাথ, সুজনা জলি, অমিত মল্লিক, ব্রজেন ঢালী, সুজিত সাহা, এ্যাড সত্যনারায়ণ সাহা, তপন কুমার ঘোষ, উজ্জ্বল দাস, নারায়ণ মিত্র, দেবু মন্ডল , অভিজিৎ সরকার, বিপ্লব সেন, রাজন দাস, ডলি মুন্সি, দ্বীপ তুষার, দীপ মন্ডল, চন্দ্রজিৎ বৈরাগী ,অর্ণব দাস, শুভ দে। উপস্থিত ছিলেন খুলনা মহানগর বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক শেখ সাদী, মাসুদ পারভেজ বাবু, খুলনা সদর থানার সভাপতি কে এম হুমায়ুন কবীর, খুলনা সোনাডাঙ্গা থানা বিএনপির সভাপতি হাফিজুর রহমান মনি, খালিশপুর থানা বিএনপির সভাপতি এড. শেখ মোহাম্মদ আলী বাবু, সোনাডাঙ্গা থানা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান আসাদ, সদর থানা বিএনপির সংগঠনিক সম্পাদক নাসির উদ্দিন, সোনাডাঙ্গা থানা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক জাকির ইকবাল বাপ্পীসহ বিএনপি’র বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা।