হঠাৎ করে দেশে রাজনৈতিক দল গঠনের হিড়িক পড়েছে। তবে এ কথা সত্য যে রাজনৈতিক দল গঠন করা গণতান্ত্রিক অধিকার। দেশের কোনো নাগরিক চাইলেই একটি রাজনৈতিক দল গঠন করতে পারেন। তবে আত্মপ্রকাশ করলেই সব দল জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে পারে না। নির্বাচন কমিশন থেকে নিবন্ধন পাওয়ার জন্য সুনির্দিষ্ট কিছু শর্ত পূরণ করতে হয়। বর্তমানে নির্বাচন কমিশনে নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলের সংখ্যা ৫৫। জুলাই-২৪ গণ-অভ্যুত্থানে নেতৃত্ব দেওয়া তরুণদের দল জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) গত ২৮ ফেব্রুয়ারি আত্মপ্রকাশ করে। এর আগে গত ২৩ আগস্ট নিউক্লিয়াস পার্টি অব বাংলাদেশ (এনপিবি) এবং ৮ সেপ্টেম্বর জাতীয়তাবাদী গণতান্ত্রিক পার্টি আত্মপ্রকাশ করে।
এ ছাড়া ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রশিবিরের সাবেক সদস্যদের নতুন রাজনৈতিক দল ইউনাইটেড পিপলস বাংলাদেশ (আপ বাংলাদেশ) আত্মপ্রকাশের অপেক্ষায় রয়েছে। আর সর্বশেষ গত ২৫ এপ্রিল চিত্রনায়ক ইলিয়াস কাঞ্চনের নেতৃত্বে জনতা পার্টি বাংলাদেশের আত্মপ্রকাশের মধ্য দিয়ে আট মাসে ২৪টি রাজনৈতিক দল আত্মপ্রকাশ করেছে। পত্রিকার প্রতিবেদন অনুযায়ী, নির্বাচন কমিশনে এখন পর্যন্ত ৬৫টি নতুন দল আবেদন করেছে। আবেদনের প্রস্তুতি নিচ্ছে আরো দুই ডজন দল।
চশমার দোকান, মাদরাসা, ঠিকাদারের অফিসও এখন দলের ঠিকানা। আওয়ামী লীগের পরিচয় মুছতেও নতুন দল গঠন করা হচ্ছে। তবে নামসর্বস্ব এসব দলের সঙ্গে সম্ভাবনাময় কিছু দলও আত্মপ্রকাশ করছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, বিদ্যমান দলগুলোর প্রতি অনাস্থা ও গণ-অভ্যুত্থান-পরবর্তী বাংলাদেশে নতুন পরিস্থিতির সুযোগ নিতেও গঠিত হচ্ছে নতুন নতুন দল। ২০০৮ সালে নির্বাচন কমিশনে দল নিবন্ধন শুরু হলে ওই বছরের শেষ দিকে ১০৭টি দল আবেদন করে। এর মধ্যে ৬৮টি দল প্রয়োজনীয় শর্ত পূরণে ব্যর্থ হয়। নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের কর্মকর্তারা বলছেন, প্রতিটি সংসদ নির্বাচনের আগে শর্ত পূরণে সক্ষম নয় এমন দলগুলোর আবেদন যাচাই-বাছাইয়ে হিমশিম খেতে হয় কমিশনকে। নামসর্বস্ব কিছু দলের নিবন্ধন পাওয়ার ঘটনাও ঘটে। এসব দলের লক্ষ্য-উদ্দেশ্যও স্পষ্ট নয়।
কবি, রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও বিশিষ্ট চিন্তক ফরহাদ মজহার বলেন, ‘অনেকগুলো রাজনৈতিক দল যখন আসছে, তার মানে বিদ্যমান দলগুলোকে তারা তাদের প্রতিনিধি মনে করে না। যদি মনে করত, তাহলে এতগুলো দল গঠন করা হতো না।’ তবে নতুন নতুন রাজনৈতিক দলের আত্মপ্রকাশকে আপাতদৃষ্টিতে গণতান্ত্রিক চর্চার সঙ্গে যুক্ত করা হলেও বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে অনেক ক্ষেত্রেই তা স্বার্থ ও ক্ষমতাচর্চার একটি রূপ বলেই মনে করেন অনেক বিশ্লেষক। এ প্রসঙ্গে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. সাব্বির আহমেদ বলেন, এটির পেছনে একটি রাজনৈতিক অর্থনীতির বিষয় জড়িত আছে। ইতিহাস বলছে, অনেক দল এলেও তাদের মধ্যে খুব কমসংখ্যকই দিনশেষে রাজনীতিতে প্রাসঙ্গিক হয়ে উঠতে পারে।









































