বেনাপোল প্রতিনিধি
যশোরের চৌগাছা উপজেলার নারায়নপুর ইউনিয়নের কাদবিলা দর্গামোড় থেকে পার্শ্ববর্তী বিদ্যাধরপুর পাকা সড়কটি বর্তমানে মরণফাঁদে পরিনত হয়েছে। ফলে সড়কে চলাচলকারী চৌগাছা, কোঁটচাদপুর ও কালীগঞ্জ উপজেলার মানুষের দূর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে। জনগুরুত্বপূর্ণ এই পাকা সড়কটি অতি দ্রুত নতুন করে পাকাকরনের দাবি জানিয়েছেন
গ্রামবাসী সুত্রে জানা যায়, উপজেলার নারায়নপুর ইউনিয়নের কাদবিলা দর্গামোড় থেকে কোটচাঁদপুর উপজেলার বিদ্যাধরপুর পর্যšত ৮ কিলোমিটার পাকা সড়কে অত্যšত গুরুত্বপূর্ণ। এলাকাবাসি জানান, ১৯৯১ সালের পর তৎকালীন সরকার এই সড়কটি পাকাকরণ করেন। সড়কটি পাকাকরনের পর তিন উপজেলাবাসির মধ্যে ব্যবসা বানিজ্যসহ সব কিছুতে গতি ফিরে আসে।
নজরুল ইসলাম নামে এক নারয়ানপুর গ্রামবাসী জানান, সড়কটি দিয়ে প্রতি দিন কাদবিলা, মির্জাপুর, হোগলডাঙ্গা, চাঁদপাড়া, নারয়ানপুর, বেলেমাঠ, পুড়াপাড়াসহ ১০/১২ গ্রামের মানুষ চলাচল করেন। অপরদিকে কোঁটচাদপুর ও কালীগঞ্জ উপজেলার আরো কয়েকটি গ্রামের মানুষ চলাচল করে থাকেন। কোন ভারী যানবাহন চলাচল না করলেও ছোট খাটো যানবাহনের চলাচল চোখে পড়ার মত ছিল। এ অঞ্চলের কৃষক তার উৎপাদিত ফসল নিয়ে দ্রুত চৌগাছা, মহেশপুর কিংবা কোটচাঁদপুর বাজারে নিতে পারতেন। বাড়ি থেকেই বিভিন্ন জেলা ও উপজেলা শহরের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পড়ালেখা করেছে এলাকার ছেলে মেয়েরা। কিন্তু এখন যেন সব কিছুই অতীত। সড়কটির যে বেহালদশা তাতে পায়ে হেঁটে চলায় কষ্টসাধ্য হয়ে উঠেছে। এলাকাবাসি সড়কটি পাকাকরনের জন্য বিভিন্ন নেতার কাছে ধর্না দিয়েও কোন ফল পাইনা বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা।
পাকাসড়কটি বর্তমানে মরণফাদে পরিনত হয়েছে। বড়বড় গর্তের সৃষ্টি হয়ে চলাচলের অনুপোযোগী। এ অঞ্চলের মানুষের প্রধান পেশা হচ্ছে কৃষি ও মাছ চাষ। কৃষক তার মাথার ঘাম পায়ে ফেলে মাঠে ফসল উৎপাদন করছেন। কৃষিপণ্য উৎপাদনের পর বাজারজাত করণের জন্য এই পাকা সড়কটি তারা ব্যবহার করেন। অথচ সড়কটির বেহালদশার কারনে সেই ফসল সময় মত বাজারে নিতে না পারায় কাংখিত মূল্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। একই অবস্থা মাছ চাষিদের বেলায়।
সড়কটির বহু স্থানে যে ভয়াবহ ভাঙন দেখা দিয়েছে তাতে করে ভ্যান কিংবা অন্য কোন যানবাহনে করে মালামাল নিয়ে চলার কোন উপাই নেই।
হোগলডাঙ্গা গ্রামের মফিজুর রহমান, হানেফ আলী, মোবারক হোসেন, রফিকুল ইসলাম, সৈয়দ আলী ক্ষোভের সাথে জানান, সড়কটির বেহালদশার কারনে মানুষের কষ্টের কোন শেষ নেই। আমরা ধান, পাট, তরি তরকারি নিয়ে বাজারে যেতে পারছিনা।
স্থানীয় ওয়ার্ড আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আলীসহ একাধিক নেতাকর্মী বলেন, সড়কটি পাকাকরনের জন্য বিভিন্ন নেতার কাছে ধর্না দিয়েও কোন ফল হয়নি। তারা শুধু আমাদেরকে আশ^াস দিয়েছেন বারবার। কিন্তু কাজের বেলায় কিছুই হয়নি।
চৌগাছা উপজেলা চেয়ারম্যান এস এম সালাম জানান,সড়কটি নতুন করে পাকাকরনের জন্য ইতিমধ্যে উচ্চ পর্যয়ে রিপোর্ট করা হয়েছে। আশা করি দ্রুত নির্মান কাজ শুর করা সম্ভব হবে।











































