নির্মূল কমিটির আলোচনায় বক্তারা
স্টাফ রিপোর্টার
স্বাধীন বাংলাদেশ বঙ্গবন্ধুর অমর কীর্তি। তাই বঙ্গবন্ধু ও বাংলাদেশ এক অবিচ্ছেদ্য নাম। যতদিন বাংলার মানচিত্র থাকবে, যতদিন বাঙালির ইতিহাস থাকবে ততদিন বঙ্গবন্ধু থাকবেন অমর-অবিনশ্বর। বাংলার স্বাধীনতা, ভাষা, সমাজ, সংস্কৃতি ও সভ্যতার মধ্যে একজন শ্রেষ্ঠ বাঙালিরূপে বঙ্গবন্ধু থাকবেন চিরজাগ্রত। সভ্যতার শুরু থেকেই বারবার মানবতা হয়েছে ভূলুণ্ঠিত, শোষক ও শোষিতের ব্যবধান বেড়েছে, উত্তরোত্তর বৃদ্ধি পেয়েছে শোষণের মাত্রা। কিন্তু স্বাধীন বাংলাদেশের পথিকৃত হিসেবে মানুষের ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলন সংগ্রাম করে বাংলার মাটি ও মানুষের সাথে আজো তিনি মিশে আছেন। বাঙালিদের অর্থাৎ তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের প্রতি সীমাহীন বৈষম্য রোধ করতে দরকার হয়েছিলো একজন শেখ মুজিবুর রহমানের মতো এক মহানায়কের। একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির আলোচনা সভায় বক্তারা এস কথা বলেন।
আজ বৃহস্পতিবার বেলা ১১টায় কাজী আজহারুল মিলনায়তনে( বিএমএ ভবনে) একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটি খুলনা জেলা কমিটির উদ্যোগে জাতীয় শোকদিবস উপলক্ষেআজ বঙ্গবন্ধু,মুক্তিযুদ্ধ ও আজকের বাংলাদেশ শীর্ষক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির জেলা শাখার সভাপতি ডা: শেখ বাহারুল আলম। মূখ্য আলোচক ছিলেন বিশিস্ট শিক্ষাাবিদ অধ্যাপক আনোয়ারুল কাদির। সভায় সঞ্চালন করেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক সাংবাদিক মহেন্দ্রনাথ সেন। আলোচনা করেন রায়েরমহল মহাবিদ্যালয়ের অধ্যক্ষ ড. আবুল কালাম আজাদ, খুলনা প্রেস ক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক সাহেব আলী,মুক্তিযোদ্ধা আ ফ ম মহসিন, আওয়ামীলীগ নেতা শ্যামল সিংহ রায়, সাবেক ছাত্রনেতা শরীফ শফিকুল হামিদ চন্দন, মুক্তিযোদ্ধা মোড়ল নূর মোহাম্মদ, ওয়ার্কার্স পার্টির মহানগর সভাপতি শেখ মফিদুল ইসলাম, সিপিবি নেতা মিজানুর রহমান বাবু, সাংস্কৃতিক জোটের শাহিন জামাল পন, মো: সাবির খান, শিক্ষকনেতা প্রদীপ দাস, নূরুন নাহার হীরা, জেসমিন জামান, ডা. মোসাদ্দেক হোসেন বাবলু, সঞ্জয় কুমার মল্লিক, কৃষ্ণা দাস,সাংবাদিক রাশীদুল ইসলাস বাবলু,পি এমজি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক এফ এম হারুন-অর-রশীদ, পল্লীমঙ্গল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শেখ মো: রফিকুল ইসলাম প্রমুখ।
সভায় বক্তারা বলেন, পাকিস্তান কেবল অর্থনৈতিকভাবে আমাদেরকে শোষণ করতে চায়নি, বরং তাদের আগ্রাসী হাত বাড়িয়ে দিয়েছিলো আমাদের ভাষা, সংস্কৃতি, সম্প্রীতিপূর্ণ পরিবেশ, শিক্ষা ইত্যাদির উপর। সামরিক স্বৈরশাসনের শাসনের মাধ্যমে প্রচন্ড চাপ, অনিশ্চয়তা ও ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে যখন বাঙালিদের এরা হাতে ধরা সুতোয় পুতুলের মতো নাচাতে চেয়েছিলো, ঠিক তখনই স্বমহিমায় উজ্জ্বল হয়ে উঠেছিলেন নিষ্ঠা, ভালোবাসা, আন্তরিকতা, একাগ্রতা, সাহসিকতায় এবং সর্বোপরি দৃঢ়তায় এই বজ্রকণ্ঠস্বরধারী মানুষটি। বাঙালির স্বাধীনতার মূর্ত প্রতীক হয়ে উঠেছিলেন সেই ঐকান্তিক প্রয়োজনের সময়ে। বাল্যকাল ও কৈশোর থেকেই যে সংগ্রামের শুরু, তা থেমে থাকেনি; বরং কালক্রমে তা বিস্তৃত ও প্রসারিত হয়ে সমগ্র বাঙালির মুক্তি-সংগ্রামের এক মহৎ প্রচ্ছদপট এঁকে স্বাধীন ও সার্বভৌম গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের রূপকার বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব হয়ে ওঠেন ইতিহাসের মহামানব।
আমাদের মুক্তিযুদ্ধের চেতনার মূল সারাংশ ছিল- শোষণ-নিপীড়ন থেকে মানুষের মুক্তি অর্থাৎ শোষণমুক্ত একটি গণতান্ত্রিক সমাজ প্রতিষ্ঠা। ৭ মার্চ ১৯ মিনিটের ঐতিহাসিক ভাষণে বঙ্গবন্ধু সেই স্বপ্নই দেখিয়েছিলেন ৭ কোটি বাঙালিকে। তিনি দেখিয়েছিলেন এদেশের নিপীড়িত-শোষিত মানুষের অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক মুক্তির স্বপ্ন। আর সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নেই বাঙালীর মনে জাগ্রত করেছিল অদম্য স্পৃহা। আর সেই ভিত্তিতেই দীর্ঘ ৯ মাস যুদ্ধে ৩০ লাখ বাঙালির রক্ত আর অগণিত মা বোনের ইজ্জতের বিনিময়ে অর্জিত হয় সেই কাঙ্খিত মুক্তি। সভা শেষে বিএমএ ভবনে প্রতিষ্টিত বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে ফুলদিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন কওে এক মিনিট নিরাবতা পালন করেন।











































