
খুলনাঞ্চল রিপোর্ট।।
বাজেট ঘোষণাকে কেন্দ্র করে দেশের রাজনীতিতে সব সময় এক ধরনের উত্তেজনা বিরাজ করতো। সরকারি দল বাজেটকে জনগণ ও রাষ্ট্রের জন্য কল্যাণমুখী প্রমাণ করতে মরিয়া থাকতো। বিপরীতে বিরোধী দলগুলো বাজেটকে অকার্যকর, জনগণের মতামত ও চাহিদার প্রতিফলন ঘটেনি এমনটা প্রচার করতে তৎপর দেখাত। বাজেট উত্থাপনের পরপরই সরকারি দল ও তাদের সহযোগী সংগঠনগুলো গণমুখী হিসেবে প্রচারণা চালিয়ে রাজপথে আনন্দ মিছিল বের করতো অন্যদিকে বিরোধীদল ও জোটগুলো গণ বিরোধী বাজেট বলে প্রতিবাদ মিছিলে রাজপথ কাঁপাতো। তাদের আনন্দ ও প্রতিবাদ মিছিল এত তাৎক্ষণিক হত যে যার প্রস্তুতি বাজেট প্রস্তাবনার অনেক আগেই নিয়ে রাখা হত। ব্যানার ফ্যাস্টুন আগে থেকেই তৈরী করে মিছিলের সব প্রস্তুতি নিয়ে রাখা হত।
অতীতে বাজেট ঘোষণাকে কেন্দ্র করে যেসব কর্মকাণ্ড সরকার ও বিরোধী দলগুলো পালন করতো তার প্রস্তুতি আগে থেকেই নিয়ে রাখত। বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে বাজেট পরবর্তী প্রতিক্রিয়ার সেই জৌলুস এখন আর দেখা যায় না। শুধু তাই নয় সেসময় সংসদে বাজেট আলোচনায় অংশ নিয়ে তর্ক যুদ্ধে লিপ্ত হতো। বাম দলগুলো হরতালের ডাক দিয়ে কেনো বাজেট জনবান্ধব নয় তা বলার চেষ্টা করতো।
আজ বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে ২০২৪-২৫ অর্থবছরের বাজেট উপস্থাপন করেন অর্থমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী। প্রস্তাবিত বাজেটের আকার ৭ লাখ ৯৭ হাজার কোটি টাকা। বাজেটে রাজস্ব আয়সহ মোট আয়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৫ লাখ ৪১ হাজার কোটি টাকা; বাকি ২ লাখ ৫৬ হাজার কোটি টাকা ঋণ নেওয়া হবে।
বাজেট ঘোষণার পর জাতীয় সংসদ ভবনে বাজেট প্রতিক্রিয়ায় আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের প্রস্তাবিত বাজেটকে সংকটকালে বাস্তবসম্মত গণমুখী বাজেট বলে অভিহিত করেছেন। অন্যদিকে প্রস্তাবিত বাজেট লুটেরাদের জন্য বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। অন্যান্য রাজনৈতিক দলগুলোও গণমাধ্যমে তাদের প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে। কিন্তু বাজেট নিয়ে সেই লড়াই এখন ম্লান বলেই মনে হয়েছে।
তবে এই পরিবর্তনকে ইতিবাচক হিসেবেই গ্রহণ করতে বলেছেন সাবেক মন্ত্রী ও জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল জাসদের সভাপতি হাসানুল হক ইনু। তিনি বলেন, কিছু হলেই রাজপথ দখল করতে হবে, ভাঙচুর করতে হবে এই সংস্কৃতি থেকে আমাদের বের হতে হবে। বাজেটের পর রাজপথে পক্ষে বিপক্ষে মিছিলের দরকার নেই। এখন কোনো রাজনৈতিক দলগুলো অবশ্য তা করেও না আবার এসব মিছিলের প্রভাব জনগণের ওপর তখন খুব একটা যে পড়ত তাও মনে হয় না। বরং আমি মনে করি বাজেট নিয়ে একটু স্টাডি করে সাংবাদিক সম্মেলনে বা অন্য প্ল্যাটফর্মে তা তুলে ধরলে ইতিবাচক হয়। বাজেট অধিবেশন কয়েকদিন পর শুরু হবে তখন সংসদ সদস্যরা তাদের মতামত তুলে ধরবেন সমালোচনা করবেন
তিনি বলেন, এখন গণমাধ্যমের আধুনিকায়ন ঘটেছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এখন অনেক শক্তিশালী। ফলে রাজপথে মিছিল করার চেয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে লেখালেখি করলে তা বেশি কার্যকর হচ্ছে।
আওয়ামী লীগের সংস্কৃতি বিষয়ক সম্পাদক অসীম কুমার উকিল মনে করেন এটাই ডিজিটাল ও স্মার্ট বাংলাদেশ। আধুনিকতার সঙ্গে তাল মিলিয়ে দেশ এগিয়ে যাচ্ছে এটা তার প্রমাণ। প্রথাগতভাবে বাজেট নিয়ে কেউ অহেতুক হরতাল করে জনগণ ও দেশের ক্ষতি কেন করবে। তারচেয়ে আমরা গণমাধ্যমে কথা বলবো, সোশ্যালে নিজেদের যুক্তি উপস্থাপন করবো আর সবচেয়ে বড় প্ল্যাটফর্ম জাতীয় সংসদে তার পক্ষে বিপক্ষে কার্যকর আলোচনা হবে।
২০২৪-২৫ অর্থবছরের বাজেটকে লুটেরা সরকারের প্রতিচ্ছবি বলে বর্ণনা করেছেন নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না। এই বাজেট দেশের অর্থনীতিকে আরও গভীর অন্ধকারে নিমজ্জিত করবে। বাজেট নিয়ে সেই উত্তাপ নেই কেনো এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ সরকার গণতন্ত্রকে হত্যা করেছে। মানুষের কথা বলার অধিকার কেড়ে নিয়েছে। সরকারের দমন পীড়নের কারণে এখন বিরোধী রাজনৈতিক মত ও পথের নেতারা মাঠে নামতে পারেন না। ফলে বাজেট মিছিল কিংবা হরতাল দেখা যায় না। তাছাড়া যেহেতু এই সরকার জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয়নি তারা বছরের পর বছর লুটেরাদের পক্ষে কাজ করছে তাই জনগণ তাদের কাছে কিছু আশা করে না।
তিনি বলেন, বাজারে আগুন, মানুষ খেতে পায় না, চিকিৎসার খরচ যোগাতে হিমশিম খেতে হয় অথচ দেশে লুটপাট চলছে। এই যে একটা বাজেট আসছে এখানে সাধারণ মানুষের পক্ষে কিছুই নেই। কার্যকর সংসদ কিংবা গণতন্ত্র না থাকলে যা হওয়ার তাই হচ্ছে।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য বেগম সেলিমা রহমান বলেন, যেহেতু আমরা সংসদে নেই তাই সংসদ বিতর্কে অংশ নিতে পারছি না। কিন্তু জনগণের প্রতিনিধি হিসেবে আমরা যা করার তাই করে যাচ্ছি। আওয়ামী লীগ সরকারের অপশাসন অনিয়ম ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে আমরা রাজপথে সোচ্চার আছি। বাজেট নিয়ে ইতোমধ্যে আমাদের মহাসচিব প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। আওয়ামী লীগ একটা ভয়ের রাজত্ব কায়েম করেছে। তারা জনগণের কথা চিন্তা করে না, ফলে জনবান্ধব বাজেট প্রণয়নের প্রয়োজন তাদের নেই। এই সরকারের কাছে রাজনৈতিক দল সাধারণ মানুষ কারও কোনো প্রত্যাশা নেই।









































