Home Uncategorized পাইকগাছায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের ওয়াপদা ভেড়িবাঁধের তিব্র ভাঙ্গন: ঝুঁকিতে তিন ইউনিয়নের ৫০...

পাইকগাছায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের ওয়াপদা ভেড়িবাঁধের তিব্র ভাঙ্গন: ঝুঁকিতে তিন ইউনিয়নের ৫০ হাজার মানুষ

32

পাইকগাছা প্রতিনিধি।।

পাইকগাছায় লস্কর ইউনিয়নের শিবসা নদীর আলমতলা নামক স্থানে পানি উন্নয়ন বোর্ডের আঁধা কিলোমিটার ওয়াপদার ভেড়িবাঁধের ভাঙ্গন বুধবার থেকে আবারো ব্যপক আকার ধারন করেছে। আতঙ্কে লস্কর ইউনিয়ন, চাঁদখালী ইউনিয়ন ও আমাদি ইউনিয়নেে ১৯ গ্রামের প্রায় ৫০ হাজার মানুষ। যে কোন সময় ভেঙ্গে লবন পানিতে প্লাবিত হয়ে ভেসে যাবে ৩টি ইউনিয়নের ১৯ টি গ্রাম, চিংড়ি ঘের, বাড়ি ঘর ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। ক্ষতি হবে কোটি কোটি টাকার সম্পদ। দ্রুত বাঁধ নির্মাণে সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নিকট জোর দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।

জানা যায়, গত এক বছর আগে উপজেলার লস্কর ইউনিয়নের শিবসা নদী সংলগ্ন আলমতলা নামক স্হানে ওয়াপদার ভেড়িবাঁধে ব্যাপক ভাঙ্গন দেখা দেয়। ওই সময় জাইকার অর্থায়নে একটি প্যাকেজে টেন্ডারের মাধ্যমে ৫০ কোটি টাকা বরাদ্দ হয়। টেন্ডারটি পান ঢাকার উন্নয়ন ইন্টারন্যাশন। কিন্তু উন্নয়ন ইন্টারন্যাশন পক্ষে কাজটি করেন আর-রাত নামে একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্টান। এলাকাবাসির দাবী ওই ঠিকাদারি প্রতিষ্টান টেন্ডার পাওয়ার পর থেকে প্রায় দেড় বছর ধরে ভাঙ্গন কবলিত এলাকায় মাঝে মধ্যে কিছু জিও ব্যাগ ফেলে ভাঙ্গন রোধে চেষ্টা করে। কিন্তু ভাঙ্গন রোধে মূল কাজটি আজও শুরু করেননি বলে অভিযোগ তুলেছে তারা। লস্কর ইউপি চেয়ারম্যান কেএম আরিফুজ্জামান তুহিন বলেন, আমার ইউনিয়নের শিবসা নদীর আলমতলা নামক স্থানে প্রায় এক যুগ আগে ভাঙ্গন শুরু হয়। ভাঙ্গনের কারনে স্হানীয় একটি বাজার নদী গর্ভে বিলীন হয়েছে। পানি উন্নয়ন বোর্ড কয়েকবার বিকল্প ভেড়িবাঁধ তৈরি করেছে।

সর্বশেষ বিগত ২০২৩ সালে এলাকাবাসির দাবির প্রেক্ষিতে ও কোটি কোটি টাকার সম্পদ বাঁচাতে সরকার জাইকার অর্থায়নে ৫০ কোটি টাকা বরাদ্দ দেয়। ৫০ কোটির টাকার বরাদ্দর মধ্যে রয়েছে গড়ইখালীর খুদখালী, লস্কর ইউনিয়নের একটি সুইচ গেট ও আলমতলার ওয়াপদার টেকসই ভেড়িবাঁধ নির্মান। কিন্তু ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানটি আজও কাজ শেষ না করায় হুমকির মুখে পড়েছে তিনটি ইউনিয়নের প্রায় ৫০ হাজার মানুষ। পাশাপাশি এই ভাঙ্গনের পাশে রয়েছে বৃহত্তর কৃষি কলেজ ও চিত্ত বিনোদনের পার্ক। তাই ঝুঁকিপূর্ণ স্হানে বাঁধ নির্মানে আমি সংশিষ্ঠ উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষ দৃষ্টি আকর্ষন করছি। পাইকগাছা পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপসহকারি প্রকৌশলী রাজু হাওলাদার জানান,আগামী বর্ষা মৌসুমের আগেই ভাঙ্গন কবলিত স্হানে সংশ্লিষ্ঠ ঠিকাদারের কাজ শেষ করার কথা রয়েছে। কিন্তু ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানটটি ভাঙ্গন কবলিত এলাকায় গভীরতার দোহাই দিয়ে ধীর গতিতে কাজ করছে।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের খুলনার নির্বাহী প্রকৌশলী আশরাফুল আলম জানান,বিষয়টি শুনেছি ও সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সাথে কথা হয়েছে। ভাঙ্গন কবলিত এলাকা প্রাথমিক ভাবে সংষ্কার করা হচ্ছে এবং এক সপ্তাহের মধ্যে মূল কাজটি শুরু করা হবে বলে তারা জানান।

পাইকগাছায় পরিবারের চার সদস্যকে জিম্মি করে সোনা গাহনা ও নগদ টাকা চুরি 

পাইকগাছায় চোরেরা পরিবারের চার সদস্যকে জিম্মি করে সোনা গাহনা ও নগদ টাকা সহ ৫ লক্ষটাকার মালামাল চুরি করে নিয়ে গেছে। বুধবার রাত ২ টার দিকে সঙ্গবদ্ধ তিন চোর ঘরের বরান্দার গ্রিল ভেঙ্গে পরিবারের চার সদস্যকে দেশিও অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে জিম্মি করে চুরি করে নিয়ে যায়। পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। এ ঘটনায় থানায় দস্যুতার অভিযোগে অজ্ঞাতদের নামে মামলা হয়েছে। 

জানাগেছে, পাইকগাছা পৌরসভার সরল গ্রামের ৫ নং ওয়ার্ডের চিরঞ্জিত কুমার মন্ডল((৫৫) বাড়িতে বুধবার রাত ২ টার দিকে বান্দার গ্রিল ভেঙ্গে স্বর্ণলংকার ও নগদ টাকা নিয়ে  গেছে চোরেরা। বাড়ির মালিক চিরঞ্জিত জানান, আমরা খাওয়া দাওয়া শেষে ঘুমিয়ে পড়ি আমার স্ত্রী বাচ্চাদের নিয়ে একটি ঘরে ঘুমায় আর আমি অন্য ঘরে ঘুমিয়ে পড়ি। রাত দুইটার দিকে একদল সঙ্গবদ্ধ চোর আমার বারন্দার গ্রিল কেটে ঘরে ঢুকে প্রথমে আমার স্ত্রী ও সন্তাদের দেশীয় অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে জিম্মি করে ফেলে। আমার ঘরের বাহির পাশ দিয়ে আমাকে বন্ধ করে রাখে। এ সময় চোরেরা আলমারী ভেঙ্গে প্রায় চার ভরি স্বর্ণের চেইন ও নগদ ১৫ হাজার টাকা চুরি নিয়ে যায়। পাইকগাছা থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ ওবাইদুর রহমান জানান, চুরি হওয়া বাড়িতে গিয়েছিলাম। আমরা চুরির বিষয়টি নিয়ে তদন্ত করছি এবং চোরকে গ্রেফতারে চেষ্টা চলছে।